দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জালে আটকা পড়েছেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সাতক্ষীরা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক এবং তার ছেলে জিয়াউল হক। জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন, ভোগদখল এবং ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতিবিরোধী এই সংস্থাটি।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ সংস্থাটির সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান বাদী হয়ে এই মামলা দুটি রেকর্ড করেন।
দুদকের অনুসন্ধানে সাবেক মন্ত্রী রুহুল হকের বিরুদ্ধে প্রায় ১৯ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এজাহারে বলা হয়েছে, তিনি ৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকার বেশি স্থাবর এবং ৩০ কোটি টাকার অধিক অস্থাবর সম্পদসহ মোট প্রায় ৩৯ কোটি ৩০ লাখ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন।
এর সঙ্গে পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় যোগ করলে তার নিট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৫ কোটি টাকারও বেশি। অথচ তার গ্রহণযোগ্য বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া গেছে ২৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকার কিছু বেশি। বৈধ আয়ের তুলনায় তার ১৯ কোটি ১৪ লাখ টাকার বেশি অবৈধ ও অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের প্রমাণ পেয়েছে দুদক।
শুধু তাই নয়, নিজের নামে থাকা ৩৯টি ব্যাংক হিসাবে তিনি ১১৬ কোটি টাকারও বেশি সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বিভিন্ন উপায়ে হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে তার উৎস গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাবার পথ ধরে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন সাবেক মন্ত্রীর ছেলেও। পৃথক মামলার এজাহারে জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে আট কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
তিনি স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে মোট ১৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকার বেশি সম্পদ অর্জন করেছেন এবং তার পারিবারিক ব্যয়সহ নিট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৫ কোটি টাকার বেশি।
কিন্তু তার বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া গেছে ১৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকার মতো। যার ফলে তার বিরুদ্ধে ৮ কোটি ৫২ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের সত্যতা পায় দুদক।
এছাড়া জিয়াউল হকের নামে থাকা ১৫টি ব্যাংক হিসাবেও প্রায় ৩৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে, যা অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থের অবস্থান গোপনের একটি অপচেষ্টা বলে দাবি করেছে তদন্তকারী সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জালে আটকা পড়েছেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সাতক্ষীরা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক এবং তার ছেলে জিয়াউল হক। জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন, ভোগদখল এবং ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতিবিরোধী এই সংস্থাটি।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ সংস্থাটির সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান বাদী হয়ে এই মামলা দুটি রেকর্ড করেন।
দুদকের অনুসন্ধানে সাবেক মন্ত্রী রুহুল হকের বিরুদ্ধে প্রায় ১৯ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এজাহারে বলা হয়েছে, তিনি ৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকার বেশি স্থাবর এবং ৩০ কোটি টাকার অধিক অস্থাবর সম্পদসহ মোট প্রায় ৩৯ কোটি ৩০ লাখ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন।
এর সঙ্গে পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় যোগ করলে তার নিট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৫ কোটি টাকারও বেশি। অথচ তার গ্রহণযোগ্য বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া গেছে ২৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকার কিছু বেশি। বৈধ আয়ের তুলনায় তার ১৯ কোটি ১৪ লাখ টাকার বেশি অবৈধ ও অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের প্রমাণ পেয়েছে দুদক।
শুধু তাই নয়, নিজের নামে থাকা ৩৯টি ব্যাংক হিসাবে তিনি ১১৬ কোটি টাকারও বেশি সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বিভিন্ন উপায়ে হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে তার উৎস গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাবার পথ ধরে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন সাবেক মন্ত্রীর ছেলেও। পৃথক মামলার এজাহারে জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে আট কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
তিনি স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে মোট ১৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকার বেশি সম্পদ অর্জন করেছেন এবং তার পারিবারিক ব্যয়সহ নিট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৫ কোটি টাকার বেশি।
কিন্তু তার বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া গেছে ১৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকার মতো। যার ফলে তার বিরুদ্ধে ৮ কোটি ৫২ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের সত্যতা পায় দুদক।
এছাড়া জিয়াউল হকের নামে থাকা ১৫টি ব্যাংক হিসাবেও প্রায় ৩৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে, যা অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থের অবস্থান গোপনের একটি অপচেষ্টা বলে দাবি করেছে তদন্তকারী সংস্থাটি।

আপনার মতামত লিখুন