আমন ধান রোপণের ভরা মৌসুম এখন। মাঠজুড়ে কৃষকদের ব্যস্ত থাকার কথা থাকলেও যশোরের চিত্র ভিন্ন। সারের জন্য ডিলার থেকে সাব-ডিলারের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সার। সরকারি হিসাবে গুদামে পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও বাস্তবে বাজারে সরকার নির্ধারিত দামে ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি বা এমওপি সার পাচ্ছেন না কৃষকরা। অভিযোগ উঠেছে, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কৃষকদের পকেট কাটছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। যশোরের শার্শা, ঝিকরগাছা ও চৌগাছাসহ বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, আমন চাষ শুরু হলেও সারের অভাবে অনেক কৃষক জমি প্রস্তুত করতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে খোলাবাজার বা অনুমোদনহীন দোকান থেকে প্রায় দ্বিগুণ দামে সার কিনতে হচ্ছে তাদের। ফলে ধানের উৎপাদন খরচ যেমন বাড়ছে, তেমনি অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে কাঙ্ক্ষিত ফলন।
শার্শার গোকর্ণ গ্রামের কৃষক শরিফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'ধানের প্রথম চাষেই সার না দিলে ফলন ভালো হয় না। অথচ এখন কোনো সারই মিলছে না। কর্মকর্তারা বলছেন সার আছে, কিন্তু আমরা তো পাচ্ছি না।'
একই চিত্র ঝিকরগাছার শংকরপুর ইউনিয়নে। সেখানকার কৃষক জয়নাল আবেদীন জানান, সাব-ডিলারের কাছে সার না পেয়ে তিনি অনুমোদনহীন দোকান থেকে চড়া দামে সার কিনতে বাধ্য হয়েছেন। মাঠ পর্যায়ের সাব-ডিলাররাও স্বীকার করছেন সরবরাহের ঘাটতির কথা। চৌগাছার সাব-ডিলার কামরুল ইসলাম জানান, তার এলাকায় পাঁচ শতাধিক কৃষকের বিপরীতে তিনি যে বরাদ্দ পেয়েছেন, তা চাহিদার তুলনায় নগণ্য। ফলে কৃষকদের ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে।
বাজারে বর্তমানে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কেজিপ্রতি ৫ থেকে ১৫ টাকা বেশি দামে সার বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, ২৭ টাকার ইউরিয়া ৩৫ টাকা এবং ২৫ টাকার টিএসপি ৪০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে এমওপি ও ডিএপি সারের দাম নিয়ে চলছে চরম নৈরাজ্য।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, যশোরে বিএডিসির নয়টি গুদামে বর্তমানে ধারণক্ষমতার চেয়েও বেশি সার মজুদ আছে। যেখানে ধারণক্ষমতা সাড়ে ১৩ হাজার মেট্রিক টন, সেখানে মজুদ রয়েছে প্রায় ২৪ হাজার মেট্রিক টন নন-ইউরিয়া সার। অর্থাৎ কাগজ-কলমে সারের কোনো সংকট নেই।
যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, 'আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি। চাহিদা অনুযায়ী সার বিতরণ করা হয়েছে। কোথাও অনিয়মের খবর পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
তবে কৃষকদের দাবি, সরকারি মনিটরিং কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। আমন রোপণের এই সময়ে সার দিতে না পারলে ফলন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা। এতে আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬
আমন ধান রোপণের ভরা মৌসুম এখন। মাঠজুড়ে কৃষকদের ব্যস্ত থাকার কথা থাকলেও যশোরের চিত্র ভিন্ন। সারের জন্য ডিলার থেকে সাব-ডিলারের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সার। সরকারি হিসাবে গুদামে পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও বাস্তবে বাজারে সরকার নির্ধারিত দামে ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি বা এমওপি সার পাচ্ছেন না কৃষকরা। অভিযোগ উঠেছে, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কৃষকদের পকেট কাটছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। যশোরের শার্শা, ঝিকরগাছা ও চৌগাছাসহ বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, আমন চাষ শুরু হলেও সারের অভাবে অনেক কৃষক জমি প্রস্তুত করতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে খোলাবাজার বা অনুমোদনহীন দোকান থেকে প্রায় দ্বিগুণ দামে সার কিনতে হচ্ছে তাদের। ফলে ধানের উৎপাদন খরচ যেমন বাড়ছে, তেমনি অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে কাঙ্ক্ষিত ফলন।
শার্শার গোকর্ণ গ্রামের কৃষক শরিফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'ধানের প্রথম চাষেই সার না দিলে ফলন ভালো হয় না। অথচ এখন কোনো সারই মিলছে না। কর্মকর্তারা বলছেন সার আছে, কিন্তু আমরা তো পাচ্ছি না।'
একই চিত্র ঝিকরগাছার শংকরপুর ইউনিয়নে। সেখানকার কৃষক জয়নাল আবেদীন জানান, সাব-ডিলারের কাছে সার না পেয়ে তিনি অনুমোদনহীন দোকান থেকে চড়া দামে সার কিনতে বাধ্য হয়েছেন। মাঠ পর্যায়ের সাব-ডিলাররাও স্বীকার করছেন সরবরাহের ঘাটতির কথা। চৌগাছার সাব-ডিলার কামরুল ইসলাম জানান, তার এলাকায় পাঁচ শতাধিক কৃষকের বিপরীতে তিনি যে বরাদ্দ পেয়েছেন, তা চাহিদার তুলনায় নগণ্য। ফলে কৃষকদের ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে।
বাজারে বর্তমানে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কেজিপ্রতি ৫ থেকে ১৫ টাকা বেশি দামে সার বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, ২৭ টাকার ইউরিয়া ৩৫ টাকা এবং ২৫ টাকার টিএসপি ৪০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে এমওপি ও ডিএপি সারের দাম নিয়ে চলছে চরম নৈরাজ্য।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, যশোরে বিএডিসির নয়টি গুদামে বর্তমানে ধারণক্ষমতার চেয়েও বেশি সার মজুদ আছে। যেখানে ধারণক্ষমতা সাড়ে ১৩ হাজার মেট্রিক টন, সেখানে মজুদ রয়েছে প্রায় ২৪ হাজার মেট্রিক টন নন-ইউরিয়া সার। অর্থাৎ কাগজ-কলমে সারের কোনো সংকট নেই।
যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, 'আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি। চাহিদা অনুযায়ী সার বিতরণ করা হয়েছে। কোথাও অনিয়মের খবর পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
তবে কৃষকদের দাবি, সরকারি মনিটরিং কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। আমন রোপণের এই সময়ে সার দিতে না পারলে ফলন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা। এতে আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

আপনার মতামত লিখুন