সংবাদ

ভয়ঙ্কর হামে ঝরল আরও ৫ প্রাণ, মৃত্যু বেড়ে ১০৮১


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩১ পিএম

ভয়ঙ্কর হামে ঝরল আরও ৫ প্রাণ, মৃত্যু বেড়ে ১০৮১
ছবি : সংগৃহীত

হাম উপসর্গে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৮৩ জন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ৯৮০ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ১০১ জন।

এর আগে, বুধবার একদিনেই সারাদেশে ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছিল ১ হাজার ২৭০ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হাম পরিস্থিতির তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছিল ১,০৬৫ জনের। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০১ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৬৪ জনের মৃত্যু হয়।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে—৪৩৩ জনের। এরপর সিলেটে ১৬৯, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৭৮, চট্টগ্রামে ৭৬, বরিশালে ৬০, খুলনায় ৪১ ও রংপুরে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে হামের এই প্রাদুর্ভাব ঘটছে টিকাদানের আওতা কম থাকার কারণে। আক্রান্তদের একটি বড় অংশ হয় টিকা নেয়নি, অথবা হাম-রুবেলার মাত্র একটি ডোজ পেয়েছে। এ ছাড়া ৯ মাস বয়সের আগেই কিছু শিশু আক্রান্ত হয়েছে।

ডব্লিউএইচও আরও জানিয়েছে, ৯১ শতাংশ আক্রান্ত ১ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু, যা এই বয়সী গ্রুপে টিকাদানে বড় ফাঁক থাকার ইঙ্গিত দেয়। এই প্রাদুর্ভাব বাংলাদেশের আগের অর্জনকে বিপরীত দিকে নিয়ে যাচ্ছে এবং হাম নির্মূলে অগ্রগতি ব্যাহত হচ্ছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, করোনা মহামারির সময় নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় অনেক শিশু হামের টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ২০২০ সালে বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় হাম প্রতিরোধ ক্যাম্পেইন হওয়ার পর এই প্রথম বড় আকারের ক্যাম্পেইন চালু করা হয়। শিশুদের সম্পূর্ণ সুরক্ষার জন্য কমপক্ষে ৯৫ শতাংশ টিকাদান কভারেজ প্রয়োজন।

দেশে হামে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৮৩ হাজারের বেশি। নিশ্চিত হামে আক্রান্ত ২০ হাজারের বেশি।

চলতি বছরের এপ্রিলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করে। সংস্থাটি বলেছিল, বাংলাদেশে হামের টিকা নেওয়ার হার কমে যাওয়ায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ভয়ঙ্কর হামে ঝরল আরও ৫ প্রাণ, মৃত্যু বেড়ে ১০৮১

প্রকাশের তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

হাম উপসর্গে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৮৩ জন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ৯৮০ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ১০১ জন।

এর আগে, বুধবার একদিনেই সারাদেশে ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছিল ১ হাজার ২৭০ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হাম পরিস্থিতির তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছিল ১,০৬৫ জনের। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০১ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৬৪ জনের মৃত্যু হয়।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে—৪৩৩ জনের। এরপর সিলেটে ১৬৯, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৭৮, চট্টগ্রামে ৭৬, বরিশালে ৬০, খুলনায় ৪১ ও রংপুরে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে হামের এই প্রাদুর্ভাব ঘটছে টিকাদানের আওতা কম থাকার কারণে। আক্রান্তদের একটি বড় অংশ হয় টিকা নেয়নি, অথবা হাম-রুবেলার মাত্র একটি ডোজ পেয়েছে। এ ছাড়া ৯ মাস বয়সের আগেই কিছু শিশু আক্রান্ত হয়েছে।

ডব্লিউএইচও আরও জানিয়েছে, ৯১ শতাংশ আক্রান্ত ১ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু, যা এই বয়সী গ্রুপে টিকাদানে বড় ফাঁক থাকার ইঙ্গিত দেয়। এই প্রাদুর্ভাব বাংলাদেশের আগের অর্জনকে বিপরীত দিকে নিয়ে যাচ্ছে এবং হাম নির্মূলে অগ্রগতি ব্যাহত হচ্ছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, করোনা মহামারির সময় নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় অনেক শিশু হামের টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ২০২০ সালে বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় হাম প্রতিরোধ ক্যাম্পেইন হওয়ার পর এই প্রথম বড় আকারের ক্যাম্পেইন চালু করা হয়। শিশুদের সম্পূর্ণ সুরক্ষার জন্য কমপক্ষে ৯৫ শতাংশ টিকাদান কভারেজ প্রয়োজন।

দেশে হামে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৮৩ হাজারের বেশি। নিশ্চিত হামে আক্রান্ত ২০ হাজারের বেশি।

চলতি বছরের এপ্রিলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করে। সংস্থাটি বলেছিল, বাংলাদেশে হামের টিকা নেওয়ার হার কমে যাওয়ায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত