সংবাদ

ফেনীতে অবিশ্বাস্যভাবে বাড়ছে জমির দাম, রহস্য কী?


এম. এমরান পাটোয়ারী, ফেনী
এম. এমরান পাটোয়ারী, ফেনী
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১১ পিএম

ফেনীতে অবিশ্বাস্যভাবে বাড়ছে জমির দাম, রহস্য কী?
ফেনী জেলা শহর।

ফেনী জেলায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা মেডিকেল কলেজ নেই। উল্লেখযোগ্যভাবে বলার মতো কোনো শিল্পকারখানাও গড়ে উঠছে না। শুধুমাত্র রাজধানী ঢাকা আর বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা ভালো হওয়ায় ক্রমবর্ধমান উন্নতি হচ্ছে মফস্বল শহরটির। ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই জেলা প্রবাসী অধ্যুষিত হওয়ায় রেমিট্যান্স আহরণেও সারা দেশে শীর্ষে রয়েছে। ফলে এই শহরে সুউচ্চ বহুতল ভবনের পরিমাণ দিনদিন বেড়েই চলছে। এতে করে জায়গার দামও আনুপাতিকহারে বেশি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৮ সালে পাঠানবাড়ি সংলগ্ন স্থানে ৬ শতাংশ জায়গা কিনে বাড়ি করেন ৬ জন বেসরকারি চাকরিজীবী।প্রতিশতক ২২ লাখ টাকায় কেনা হলেও এখন ওই জায়গার আশপাশের জায়গা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৫০ লাখ টাকার বেশি। শহরের শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কের ইসলামপুর রোড় সংলগ্ন ৫ শতাংশ জায়গা বেচাকেনা হয়েছে ৯ কোটি টাকায়।

ফেনী সদরের এক প্রবাসী ওই জায়গাটি কেনার পর ৪ তলার ভবনটিতে লিফট সংযুক্ত করে আরো দুই তলা বর্ধিত করেন। অথচ সরকারি হিসাবে রামপুর মৌজায় প্রতি শতক জায়গার দাম প্রায় ৯৯ লাখ টাকা। শুধু তাই নয়, শহরের পাগলা মিয়া সড়কের পাশে ৬ লাখ টাকার নাল জমি বিক্রি হচ্ছে ৩০ লাখ টাকার বেশি।

পৌরসভার তথ্য বলছে, ফেনী শহর আয়তনে তুলনামূলক ছোট। ২৭.২০ বর্গ কিলোমিটারের এই শহরের ১৮টি ওয়ার্ডে প্রায় ৩ লক্ষাধিক নারী-পুরুষ বসবাস করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, জায়গার পাশাপাশি নির্মাণ সামগ্রীর ঊর্ধ্বগতির কারণে স্থানীয় বাসিন্দা হলেও মধ্য ও নিম্নআয়ের মানুষেরা স্বপ্নের বাড়ি করতে পারছেন না। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে জায়গা বিক্রি করলে গ্রামাঞ্চলের প্রবাসীরা জায়গা কিনে বাড়ি তৈরি করেন। আবার অনেকে ডেভেলপার কোম্পানির মাধ্যমে বাড়ি করেন।

তারা আরো বলেন, ফেনী শহরে নাগরিক সুবিধা ভালো হওয়ায় এখানে জায়গার চাহিদাও বেড়েছে। ফেনী জেলার পাশাপাশি নোয়াখালী, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাসিন্দারা এখানে স্থায়ী আবাস গড়েন।

আবাসন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, আলিফ ভিশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপক মু. ফজলুল হক জানান, শিল্পায়ন না বাড়লেও ফেনী শহরের আকার বাড়ায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে জমির চাহিদা অতিরিক্ত বেড়ে গেছে। প্রবাসীরা জায়গা-জমিকে নিরাপদ বিনিয়োগ মনে করেন। যারা এখানে চাকরিজীবী, শহর জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ায় গ্রামের তুলনায় সুযোগ-সুবিধা অবশ্যই বেশি পাচ্ছেন। ফলে তারা গ্রামে ফিরতে চান না বলেই বাসা-বাড়ি গড়তে চান। সরকারের পরিবর্তনের পর আবাসন ব্যবসায়ীরাও স্বাচ্ছন্দ্যে বিনিয়োগ করে সুউচ্চ বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন।

একাধিক প্রবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছেলে-মেয়েদের শহরে পড়ানোর আশায় উপার্জিত টাকা দিয়ে জায়গা কিনে অনেকে বাড়ি তৈরি করেন। নিজেরা থাকার পাশাপাশি বাসা ভাড়া দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে অবসর জীবন কাটাতে পারবেন বলে মনে করেন তারা।

ফেনী সিটি গার্লস হাইস্কুল ও শান্তি নিকেতন ইনস্টিটিউটের প্রধান শিক্ষক এম. মামুনুর রশিদ বলেন, দুটি প্রতিষ্ঠানে দেড় হাজার ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। এর মধ্যে ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী ফেনী শহরের স্থায়ী বাসিন্দা। অন্যরা জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলা এমনকি জেলার বাইরের বাসিন্দা। ফলে আবাসিক এলাকাগুলোতে বাসাবাড়ির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ভাড়াও বেড়েছে।

ইসলামী ব্যাংক ফেনী শাখার ব্যবস্থাপক শহীদুল আলম জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তাদের শাখায় ২৩০ কোটি টাকা রেমিট্যান্স এসেছে। গত আগস্টে ৩০ কোটি টাকা প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।

ফেনী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহ-সভাপতি আমান উদ্দিন কায়সার সাব্বির বলেন, ফেনীর সঙ্গে অন্য জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় মূলত মানুষের চাহিদা বাড়ছে। এছাড়া আশপাশের জেলা কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, নাঙ্গলকোট, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ, সেনবাগ, কোম্পানীগঞ্জ, চট্টগ্রামের মিরসরাই আর খাগড়াছড়ি জেলার বাসিন্দাদের প্রায় সবাই ফেনীর ওপর নির্ভরশীল। এখানে শিল্প জোন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ফাইভস্টার মানের হোটেল না থাকলেও যাদের স্বচ্ছলতা রয়েছে তারা ফ্ল্যাট, বাড়ি করতে আগ্রহী। ফলে মানুষের ঘনত্ব বাড়ায় চারপাশে শহর সম্প্রসারণ ঘটছে।

সম্প্রতি ফেনীতে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আবেদন করেছেন সংরক্ষিত নারী সদস্য রেহানা আক্তার রানু। এর প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা হলে জায়গার চাহিদা আরো বেড়ে যাবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

ফেনী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলালের মতে, বিগত সময়ে ফেনী শহরে জায়গা কেনা, বাড়ি নির্মাণ করতে ক্ষমতাসীনদের মোটা অংকের চাঁদা দিতে হতো। চব্বিশের জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পটপরিবর্তনের পর রাজনৈতিক নেতাদের সদিচ্ছার কারণে এ ধরনের কোনো চাঁদা দিতে হয় না। এতে করে আগের তুলনায় স্থবিরতা কাটিয়ে জায়গা বেচাকেনা বেড়েছে বলে তিনি মনে করেন।

ফেনী জেলা রেজিস্ট্রার আবদুর রহমান মুহাম্মদ তামিম (চলতি দায়িত্ব) জানান, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ফেনী জেলার ৭টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ৩৯ হাজার ৩৫০টি দলিল রেজিস্ট্রি বাবদ ২২১ কোটি ৩৩ লাখ ৯৯ হাজার ৭৬২ টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। 

সংশিষ্টদের তথ্যমতে, সরকারের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হলো ভূমি রাজস্ব কর, যা ইউনিয়ন পর্যায়ে ভূমি অফিস বা তহসিল অফিস, উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মাধ্যমে আদায় হয়। বর্তমান সরকারের পদক্ষেপের কারণে এ খাত থেকে রাজস্ব আদায় বহুগুণ বেড়ে গেছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ফেনীতে অবিশ্বাস্যভাবে বাড়ছে জমির দাম, রহস্য কী?

প্রকাশের তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ফেনী জেলায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা মেডিকেল কলেজ নেই। উল্লেখযোগ্যভাবে বলার মতো কোনো শিল্পকারখানাও গড়ে উঠছে না। শুধুমাত্র রাজধানী ঢাকা আর বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা ভালো হওয়ায় ক্রমবর্ধমান উন্নতি হচ্ছে মফস্বল শহরটির। ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই জেলা প্রবাসী অধ্যুষিত হওয়ায় রেমিট্যান্স আহরণেও সারা দেশে শীর্ষে রয়েছে। ফলে এই শহরে সুউচ্চ বহুতল ভবনের পরিমাণ দিনদিন বেড়েই চলছে। এতে করে জায়গার দামও আনুপাতিকহারে বেশি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৮ সালে পাঠানবাড়ি সংলগ্ন স্থানে ৬ শতাংশ জায়গা কিনে বাড়ি করেন ৬ জন বেসরকারি চাকরিজীবী।প্রতিশতক ২২ লাখ টাকায় কেনা হলেও এখন ওই জায়গার আশপাশের জায়গা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৫০ লাখ টাকার বেশি। শহরের শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কের ইসলামপুর রোড় সংলগ্ন ৫ শতাংশ জায়গা বেচাকেনা হয়েছে ৯ কোটি টাকায়।

ফেনী সদরের এক প্রবাসী ওই জায়গাটি কেনার পর ৪ তলার ভবনটিতে লিফট সংযুক্ত করে আরো দুই তলা বর্ধিত করেন। অথচ সরকারি হিসাবে রামপুর মৌজায় প্রতি শতক জায়গার দাম প্রায় ৯৯ লাখ টাকা। শুধু তাই নয়, শহরের পাগলা মিয়া সড়কের পাশে ৬ লাখ টাকার নাল জমি বিক্রি হচ্ছে ৩০ লাখ টাকার বেশি।

পৌরসভার তথ্য বলছে, ফেনী শহর আয়তনে তুলনামূলক ছোট। ২৭.২০ বর্গ কিলোমিটারের এই শহরের ১৮টি ওয়ার্ডে প্রায় ৩ লক্ষাধিক নারী-পুরুষ বসবাস করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, জায়গার পাশাপাশি নির্মাণ সামগ্রীর ঊর্ধ্বগতির কারণে স্থানীয় বাসিন্দা হলেও মধ্য ও নিম্নআয়ের মানুষেরা স্বপ্নের বাড়ি করতে পারছেন না। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে জায়গা বিক্রি করলে গ্রামাঞ্চলের প্রবাসীরা জায়গা কিনে বাড়ি তৈরি করেন। আবার অনেকে ডেভেলপার কোম্পানির মাধ্যমে বাড়ি করেন।

তারা আরো বলেন, ফেনী শহরে নাগরিক সুবিধা ভালো হওয়ায় এখানে জায়গার চাহিদাও বেড়েছে। ফেনী জেলার পাশাপাশি নোয়াখালী, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাসিন্দারা এখানে স্থায়ী আবাস গড়েন।

আবাসন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, আলিফ ভিশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপক মু. ফজলুল হক জানান, শিল্পায়ন না বাড়লেও ফেনী শহরের আকার বাড়ায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে জমির চাহিদা অতিরিক্ত বেড়ে গেছে। প্রবাসীরা জায়গা-জমিকে নিরাপদ বিনিয়োগ মনে করেন। যারা এখানে চাকরিজীবী, শহর জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ায় গ্রামের তুলনায় সুযোগ-সুবিধা অবশ্যই বেশি পাচ্ছেন। ফলে তারা গ্রামে ফিরতে চান না বলেই বাসা-বাড়ি গড়তে চান। সরকারের পরিবর্তনের পর আবাসন ব্যবসায়ীরাও স্বাচ্ছন্দ্যে বিনিয়োগ করে সুউচ্চ বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন।

একাধিক প্রবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছেলে-মেয়েদের শহরে পড়ানোর আশায় উপার্জিত টাকা দিয়ে জায়গা কিনে অনেকে বাড়ি তৈরি করেন। নিজেরা থাকার পাশাপাশি বাসা ভাড়া দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে অবসর জীবন কাটাতে পারবেন বলে মনে করেন তারা।

ফেনী সিটি গার্লস হাইস্কুল ও শান্তি নিকেতন ইনস্টিটিউটের প্রধান শিক্ষক এম. মামুনুর রশিদ বলেন, দুটি প্রতিষ্ঠানে দেড় হাজার ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। এর মধ্যে ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী ফেনী শহরের স্থায়ী বাসিন্দা। অন্যরা জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলা এমনকি জেলার বাইরের বাসিন্দা। ফলে আবাসিক এলাকাগুলোতে বাসাবাড়ির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ভাড়াও বেড়েছে।

ইসলামী ব্যাংক ফেনী শাখার ব্যবস্থাপক শহীদুল আলম জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তাদের শাখায় ২৩০ কোটি টাকা রেমিট্যান্স এসেছে। গত আগস্টে ৩০ কোটি টাকা প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।

ফেনী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহ-সভাপতি আমান উদ্দিন কায়সার সাব্বির বলেন, ফেনীর সঙ্গে অন্য জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় মূলত মানুষের চাহিদা বাড়ছে। এছাড়া আশপাশের জেলা কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, নাঙ্গলকোট, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ, সেনবাগ, কোম্পানীগঞ্জ, চট্টগ্রামের মিরসরাই আর খাগড়াছড়ি জেলার বাসিন্দাদের প্রায় সবাই ফেনীর ওপর নির্ভরশীল। এখানে শিল্প জোন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ফাইভস্টার মানের হোটেল না থাকলেও যাদের স্বচ্ছলতা রয়েছে তারা ফ্ল্যাট, বাড়ি করতে আগ্রহী। ফলে মানুষের ঘনত্ব বাড়ায় চারপাশে শহর সম্প্রসারণ ঘটছে।

সম্প্রতি ফেনীতে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আবেদন করেছেন সংরক্ষিত নারী সদস্য রেহানা আক্তার রানু। এর প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা হলে জায়গার চাহিদা আরো বেড়ে যাবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

ফেনী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলালের মতে, বিগত সময়ে ফেনী শহরে জায়গা কেনা, বাড়ি নির্মাণ করতে ক্ষমতাসীনদের মোটা অংকের চাঁদা দিতে হতো। চব্বিশের জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পটপরিবর্তনের পর রাজনৈতিক নেতাদের সদিচ্ছার কারণে এ ধরনের কোনো চাঁদা দিতে হয় না। এতে করে আগের তুলনায় স্থবিরতা কাটিয়ে জায়গা বেচাকেনা বেড়েছে বলে তিনি মনে করেন।

ফেনী জেলা রেজিস্ট্রার আবদুর রহমান মুহাম্মদ তামিম (চলতি দায়িত্ব) জানান, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ফেনী জেলার ৭টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ৩৯ হাজার ৩৫০টি দলিল রেজিস্ট্রি বাবদ ২২১ কোটি ৩৩ লাখ ৯৯ হাজার ৭৬২ টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। 

সংশিষ্টদের তথ্যমতে, সরকারের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হলো ভূমি রাজস্ব কর, যা ইউনিয়ন পর্যায়ে ভূমি অফিস বা তহসিল অফিস, উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মাধ্যমে আদায় হয়। বর্তমান সরকারের পদক্ষেপের কারণে এ খাত থেকে রাজস্ব আদায় বহুগুণ বেড়ে গেছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত