সংবাদ

দীর্ঘ সাড়ে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা শুরু


প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম
প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪০ পিএম

দীর্ঘ সাড়ে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা শুরু
ছবি : সংবাদ

দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম জলাধার রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে দীর্ঘ ৩ মাস ১০ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে আবারও শুরু হয়েছে মৎস্য আহরণ। সোমবার (১০ আগস্ট) দিবাগত মধ্যরাত থেকে হ্রদে মাছ ধরা, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ উন্মুক্ত করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। দীর্ঘ বিরতির পর রূপালি সম্পদের খোঁজে হ্রদে নামতে পেরে জেলে ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ফিরছে প্রাণচাঞ্চল্য।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কাপ্তাই হ্রদে কার্প জাতীয় মাছের সুষ্ঠু প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ২৫ এপ্রিল থেকে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময় শেষে গত ২৭ জুলাই এক সভায় ১০ আগস্ট মধ্যরাত থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে মাছ আহরণের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০টি কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত এক আদেশে বলা হয়েছে, হ্রদে মাছ ধরার জন্য বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) থেকে বৈধ লাইসেন্স নিতে হবে এবং নির্ধারিত রয়্যালটি পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া ৯ ইঞ্চির ছোট মাছ ধরা যাবে না এবং অভয়াশ্রমগুলোতে সারা বছর মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে। নিয়ম অমান্য করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় থাকা জেলেরা সোমবার বিকেল থেকেই জাল ও নৌকা নিয়ে হ্রদের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েন। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোর থেকে রাঙামাটির ফিশারিঘাটসহ বিভিন্ন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে আহরিত মাছ নিয়ে নৌকা ভিড়তে শুরু করেছে।

বিএফডিসি রাঙামাটির ব্যবস্থাপক কমান্ডার মোহাম্মদ ফয়েজ আল করিম জানান, মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) থেকে কাপ্তাই হ্রদের মাছ সারাদেশে বিপণন শুরু হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় বাজারে সুস্বাদু মাছের সরবরাহ বাড়বে এবং সাধারণ ভোক্তারা সুফল পাবেন।

কাপ্তাই হ্রদ কেবল মাছের উৎস নয়, এটি রাঙামাটির অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি নির্দেশনা মেনে নিয়ন্ত্রিতভাবে মাছ আহরণ করলে কাপ্তাই হ্রদ থেকে আরও টেকসই মৎস্য সম্পদ পাওয়া সম্ভব হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬


দীর্ঘ সাড়ে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা শুরু

প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম জলাধার রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে দীর্ঘ ৩ মাস ১০ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে আবারও শুরু হয়েছে মৎস্য আহরণ। সোমবার (১০ আগস্ট) দিবাগত মধ্যরাত থেকে হ্রদে মাছ ধরা, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ উন্মুক্ত করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। দীর্ঘ বিরতির পর রূপালি সম্পদের খোঁজে হ্রদে নামতে পেরে জেলে ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ফিরছে প্রাণচাঞ্চল্য।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কাপ্তাই হ্রদে কার্প জাতীয় মাছের সুষ্ঠু প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ২৫ এপ্রিল থেকে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময় শেষে গত ২৭ জুলাই এক সভায় ১০ আগস্ট মধ্যরাত থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে মাছ আহরণের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০টি কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত এক আদেশে বলা হয়েছে, হ্রদে মাছ ধরার জন্য বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) থেকে বৈধ লাইসেন্স নিতে হবে এবং নির্ধারিত রয়্যালটি পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া ৯ ইঞ্চির ছোট মাছ ধরা যাবে না এবং অভয়াশ্রমগুলোতে সারা বছর মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে। নিয়ম অমান্য করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় থাকা জেলেরা সোমবার বিকেল থেকেই জাল ও নৌকা নিয়ে হ্রদের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েন। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোর থেকে রাঙামাটির ফিশারিঘাটসহ বিভিন্ন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে আহরিত মাছ নিয়ে নৌকা ভিড়তে শুরু করেছে।

বিএফডিসি রাঙামাটির ব্যবস্থাপক কমান্ডার মোহাম্মদ ফয়েজ আল করিম জানান, মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) থেকে কাপ্তাই হ্রদের মাছ সারাদেশে বিপণন শুরু হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় বাজারে সুস্বাদু মাছের সরবরাহ বাড়বে এবং সাধারণ ভোক্তারা সুফল পাবেন।

কাপ্তাই হ্রদ কেবল মাছের উৎস নয়, এটি রাঙামাটির অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি নির্দেশনা মেনে নিয়ন্ত্রিতভাবে মাছ আহরণ করলে কাপ্তাই হ্রদ থেকে আরও টেকসই মৎস্য সম্পদ পাওয়া সম্ভব হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত