ঠাকুরগাঁওয়ের পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২৪ জন শিক্ষার্থীর একজনও পাস করতে পারেনি। এমন বিপর্যয়কর ফলাফল ঘিরে বিদ্যালয়গুলোর পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষকদের ভূমিকা ও তদারকি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, শূন্য পাসের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-সদর উপজেলার আকচা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়, অনভারডিঘি উচ্চবিদ্যালয়, মাধবপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও তাওরিগাঁও উচ্চবিদ্যালয় এবং হরিপুর উপজেলার রামপুর ভাতুরিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়।
বিদ্যালয়গুলোর তথ্য অনুযায়ী, অনভারডিঘি উচ্চবিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ সাতজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। এ ছাড়া মাধবপুর বালিকা ও তাওরিগাঁও উচ্চবিদ্যালয় থেকে পাঁচজন করে, আকচা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় থেকে চারজন এবং রামপুর ভাতুরিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে তিনজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান হয় না। শিক্ষকদের গড়হাজিরা ও শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতিই এই ফলাফলের মূল কারণ। তবে শিক্ষকদের দাবি, গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র পরিবারের অনেক শিক্ষার্থীকে পড়াশোনার পাশাপাশি মাঠে কাজ করতে হয়। অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসে না।
আকচা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, তার বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে আসত না। অভাবের সংসারে অনেক শিক্ষার্থী বাবার সঙ্গে কৃষিকাজে যুক্ত হয়ে যায়। মাধবপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তাহেরুল ইসলামও শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতির ওপর দায় চাপিয়েছেন।
ঠাকুরগাঁও জেলায় এবার গড় পাসের হার ৫৫ দশমিক ৯০ শতাংশ। ১৭ হাজার ৬৮৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৯ হাজার ৮৮৬ জন। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৪৬৪ জন।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহীন আকতার বলেন, পাঁচটি বিদ্যালয়ে একজনও পাস না করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। কেন এমন ফলাফল হলো, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন