জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ফলাফলে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। উপজেলার তিনটি ধারার (সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরি) গড় সাফল্য এবার অত্যন্ত হতাশাজনক। বিশেষ করে মাদ্রাসা শিক্ষায় জেলাজুড়ে শূন্য জিপিএ-৫ এবং কয়েকটি কারিগরি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল করার ঘটনা এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
উপজেলা শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এবার ৩৩টি উচ্চবিদ্যালয়, ১৫টি দাখিল মাদ্রাসা এবং ১০টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৩ হাজার ৬৪৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৪৪৯ জন।
সাধারণ এসএসসিতে ৩৩টি বিদ্যালয় থেকে অংশ নেওয়া ২ হাজার ৫৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ১ হাজার ১৮ জন। পাসের হার ৩৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৪ জন। মাদ্রাসা শিক্ষায় ফলাফল আরও উদ্বেগজনক। ১৫টি দাখিল মাদ্রাসার ৫৫৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২০৯ জন পাস করলেও পাসের হার মাত্র ৩৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ। তবে সবচেয়ে বড় বিষ্ময় হলো, উপজেলার কোনো মাদ্রাসা থেকেই কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি।
কারিগরি (ভোকেশনাল) শিক্ষায় ১০টি প্রতিষ্ঠান থেকে ৫০৩ জন অংশ নিয়ে ২২২ জন পাস করেছে। পাসের হার ৪৪ দশমিক ১৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৬ জন। তবে এই বিভাগে দেওয়ানগঞ্জ মহিলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ ও সানন্দবাড়ী টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে অংশ নেওয়া পাঁচজন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।
স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের মতে, নিয়মিত পাঠদানের অভাব এবং তদারকি না থাকায় শিক্ষার এই বেহাল দশা তৈরি হয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর কবির ফলাফলে অবনতির কথা স্বীকার করে বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার ফলাফল খারাপ হয়েছে। মানোন্নয়নের জন্য আমরা শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিয়ে বিশেষ সমাবেশের পরিকল্পনা করছি। কেন এমন বিপর্যয় হলো, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আপনার মতামত লিখুন