সংবাদ

দুই সন্তানকে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগ বাবার বিরুদ্ধে


প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ
প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম

দুই সন্তানকে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগ বাবার বিরুদ্ধে
ছবি : সংবাদ

পারিবারিক কলহ যে কতটা ভয়াবহ ও নিষ্ঠুর হতে পারে, তার এক মর্মান্তিক সাক্ষী হয়ে রইল সুনামগঞ্জের দিরাই। নিজ হাতে দুই অবুঝ সন্তানকে হাওরের পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগে কামরুল হাসান (৩২) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত শিশুরা হলো–ছয় বছর বয়সী মুহাদ্দিস মিয়া ও সাড়ে তিন বছর বয়সী তুলনা বেগম।

অভিযুক্ত কামরুল হাসান দিরাই উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নের পেরুয়া মধুপুর গ্রামের আব্দুল কাদিরের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ফেরিওয়ালা। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কামরুলের মা ও স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া চলছিল। এর জেরে গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে স্ত্রীর সঙ্গে কামরুলের কথা-কাটাকাটি হয়। এরপরই তিনি রাগের মাথায় দুই সন্তানকে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে কামরুল জানান, দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি প্রথমে সিলেটে যান এবং সেখানে দুই দিন অবস্থান করেন। রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে তিনি বাসে করে সিলেট থেকে দিরাইয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে শান্তিগঞ্জ উপজেলার ডাবর এলাকায় বাস থেকে নেমে পড়লে অন্ধকার হাওরে মেয়ে তুলনাকে পানিতে ফেলে দেন তিনি। এরপর সুনামগঞ্জ সদর থানার মদনপুর এলাকায় গিয়ে ছেলে মুহাদ্দিসকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অবচেতন অবস্থায় হাওরে ফেলে দেন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ দেকার হাওর থেকে তুলনা বেগমের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে। বুধবার (১২ আগস্ট) সুনামগঞ্জ সদরের লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের গোবিন্দপুর এলাকা থেকে মুহাদ্দিসের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

চরনারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পরিতোষ রায় বলেন, ‘সোমবার রাতে কামরুল একা বাড়ি ফেরেন। গ্রামবাসীর সন্দেহ হলে আজ সকালে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তখন তিনি নিজেই দুই সন্তানকে হাওরে ফেলে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে পুলিশকে খবর দিলে দিরাই থানা পুলিশ তাকে নিয়ে যায়।’

দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘কামরুল হাসান নিজের দুই সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। পারিবারিক কলহ থেকেই তিনি এমন চরম ও নৃশংস পথ বেছে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তাকে সুনামগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।’

সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ জানান, শিশুদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬


দুই সন্তানকে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগ বাবার বিরুদ্ধে

প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

পারিবারিক কলহ যে কতটা ভয়াবহ ও নিষ্ঠুর হতে পারে, তার এক মর্মান্তিক সাক্ষী হয়ে রইল সুনামগঞ্জের দিরাই। নিজ হাতে দুই অবুঝ সন্তানকে হাওরের পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগে কামরুল হাসান (৩২) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত শিশুরা হলো–ছয় বছর বয়সী মুহাদ্দিস মিয়া ও সাড়ে তিন বছর বয়সী তুলনা বেগম।

অভিযুক্ত কামরুল হাসান দিরাই উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নের পেরুয়া মধুপুর গ্রামের আব্দুল কাদিরের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ফেরিওয়ালা। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কামরুলের মা ও স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া চলছিল। এর জেরে গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে স্ত্রীর সঙ্গে কামরুলের কথা-কাটাকাটি হয়। এরপরই তিনি রাগের মাথায় দুই সন্তানকে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে কামরুল জানান, দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি প্রথমে সিলেটে যান এবং সেখানে দুই দিন অবস্থান করেন। রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে তিনি বাসে করে সিলেট থেকে দিরাইয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে শান্তিগঞ্জ উপজেলার ডাবর এলাকায় বাস থেকে নেমে পড়লে অন্ধকার হাওরে মেয়ে তুলনাকে পানিতে ফেলে দেন তিনি। এরপর সুনামগঞ্জ সদর থানার মদনপুর এলাকায় গিয়ে ছেলে মুহাদ্দিসকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অবচেতন অবস্থায় হাওরে ফেলে দেন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ দেকার হাওর থেকে তুলনা বেগমের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে। বুধবার (১২ আগস্ট) সুনামগঞ্জ সদরের লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের গোবিন্দপুর এলাকা থেকে মুহাদ্দিসের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

চরনারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পরিতোষ রায় বলেন, ‘সোমবার রাতে কামরুল একা বাড়ি ফেরেন। গ্রামবাসীর সন্দেহ হলে আজ সকালে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তখন তিনি নিজেই দুই সন্তানকে হাওরে ফেলে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে পুলিশকে খবর দিলে দিরাই থানা পুলিশ তাকে নিয়ে যায়।’

দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘কামরুল হাসান নিজের দুই সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। পারিবারিক কলহ থেকেই তিনি এমন চরম ও নৃশংস পথ বেছে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তাকে সুনামগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।’

সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ জানান, শিশুদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত