সংবাদ

বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে সালমান খান, বানাবেন ৫০০ আধা স্থায়ী ঘর


বিনোদন ডেস্ক
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম

বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে সালমান খান, বানাবেন ৫০০ আধা স্থায়ী ঘর

আসামে ভয়াবহ বন্যায় হাজারো পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এমন সংকটময় সময়ে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন বলিউড তারকা সালমান খান। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে একটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার (এনজিও) সঙ্গে যৌথভাবে ৫০০টি আধা স্থায়ী ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

সালমান খানের সংস্থা ‘বিইং হিউম্যান’ এর আগেও বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিতরণ করেছে। এবার ত্রাণ কার্যক্রমের দ্বিতীয় ধাপে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে পুনর্বাসনে।

মিড-ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামের শিবসাগরের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত নেপালি খুটি এলাকায় ইতিমধ্যে প্রায় ২২০টি আধা স্থায়ী ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। বাঁশ ও টিনের ছাদ দিয়ে তৈরি এসব ঘর বন্যাকবলিত মানুষের জন্য তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও টেকসই করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বলিউড অভিনেতা রণদীপ হুদাকে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ত্রাণকাজে অংশ নিতে দেখে সালমান খান এই উদ্যোগ আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে এ বিষয়ে রণদীপের সঙ্গে তাঁর কথা হয়।

রণদীপ জানান, গ্লোবাল শিখসের ত্রাণ কার্যক্রমে প্রায় ৭০ জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা অমরপ্রীত সিং সালমানকে জানান, বন্যায় ঘরবাড়ি হারানো পরিবারগুলোর জন্য বাঁশ ও টিন দিয়ে আধা স্থায়ী ঘর নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ঘর নির্মাণে আনুমানিক ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার রুপি খরচ হচ্ছে।

এরপরই এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হন সালমান খান। যৌথভাবে ৫০০টি ঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অমরপ্রীত সিং মিড-ডেকে বলেন, কয়েক দিন আগে সালমান খান তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং উদ্বিগ্ন না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। শিবসাগরের নেপালি খুটি এলাকাকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর একটি উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রথম ধাপে ২২০টি ঘরের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এসব ঘর পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। প্রতিদিন ৮ থেকে ১০টি ঘর নির্মাণের সক্ষমতা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য ত্রাণকাজে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন রণদীপ হুদাও। শিবসাগর রেলস্টেশনের আশপাশে আশ্রয় নেওয়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য কয়েক দিন ধরে খাবার রান্না করে বিতরণ করছেন তিনি।

রণদীপ বলেন, বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে গ্লোবাল শিখসের সঙ্গে কাজ করছেন জানিয়ে তিনি সংগঠনটির তৃণমূল পর্যায়ের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি সামর্থ্য অনুযায়ী সবাইকে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান এই অভিনেতা।

সালমান খান ও রণদীপ হুদার এই উদ্যোগে এখন ত্রাণের পাশাপাশি পুনর্বাসনের কাজও গতি পাচ্ছে। বন্যায় ঘরবাড়ি হারানো পরিবারগুলোর জন্য ৫০০টি আধা স্থায়ী ঘর নির্মাণ শেষ হলে তা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পারিবারিক আবেগ, মানবিক সম্পর্ক, রোমাঞ্চকর অভিযান এবং প্রাণীর প্রতি ভালোবাসার বার্তা—সব মিলিয়ে ‘ওহ মাই ডগ’ হতে পারে এই সপ্তাহের অন্যতম আলোচিত পারিবারিক সিনেমা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬


বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে সালমান খান, বানাবেন ৫০০ আধা স্থায়ী ঘর

প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

আসামে ভয়াবহ বন্যায় হাজারো পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এমন সংকটময় সময়ে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন বলিউড তারকা সালমান খান। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে একটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার (এনজিও) সঙ্গে যৌথভাবে ৫০০টি আধা স্থায়ী ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

সালমান খানের সংস্থা ‘বিইং হিউম্যান’ এর আগেও বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিতরণ করেছে। এবার ত্রাণ কার্যক্রমের দ্বিতীয় ধাপে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে পুনর্বাসনে।

মিড-ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামের শিবসাগরের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত নেপালি খুটি এলাকায় ইতিমধ্যে প্রায় ২২০টি আধা স্থায়ী ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। বাঁশ ও টিনের ছাদ দিয়ে তৈরি এসব ঘর বন্যাকবলিত মানুষের জন্য তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও টেকসই করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বলিউড অভিনেতা রণদীপ হুদাকে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ত্রাণকাজে অংশ নিতে দেখে সালমান খান এই উদ্যোগ আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে এ বিষয়ে রণদীপের সঙ্গে তাঁর কথা হয়।

রণদীপ জানান, গ্লোবাল শিখসের ত্রাণ কার্যক্রমে প্রায় ৭০ জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা অমরপ্রীত সিং সালমানকে জানান, বন্যায় ঘরবাড়ি হারানো পরিবারগুলোর জন্য বাঁশ ও টিন দিয়ে আধা স্থায়ী ঘর নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ঘর নির্মাণে আনুমানিক ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার রুপি খরচ হচ্ছে।

এরপরই এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হন সালমান খান। যৌথভাবে ৫০০টি ঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অমরপ্রীত সিং মিড-ডেকে বলেন, কয়েক দিন আগে সালমান খান তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং উদ্বিগ্ন না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। শিবসাগরের নেপালি খুটি এলাকাকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর একটি উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রথম ধাপে ২২০টি ঘরের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এসব ঘর পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। প্রতিদিন ৮ থেকে ১০টি ঘর নির্মাণের সক্ষমতা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য ত্রাণকাজে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন রণদীপ হুদাও। শিবসাগর রেলস্টেশনের আশপাশে আশ্রয় নেওয়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য কয়েক দিন ধরে খাবার রান্না করে বিতরণ করছেন তিনি।

রণদীপ বলেন, বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে গ্লোবাল শিখসের সঙ্গে কাজ করছেন জানিয়ে তিনি সংগঠনটির তৃণমূল পর্যায়ের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি সামর্থ্য অনুযায়ী সবাইকে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান এই অভিনেতা।

সালমান খান ও রণদীপ হুদার এই উদ্যোগে এখন ত্রাণের পাশাপাশি পুনর্বাসনের কাজও গতি পাচ্ছে। বন্যায় ঘরবাড়ি হারানো পরিবারগুলোর জন্য ৫০০টি আধা স্থায়ী ঘর নির্মাণ শেষ হলে তা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পারিবারিক আবেগ, মানবিক সম্পর্ক, রোমাঞ্চকর অভিযান এবং প্রাণীর প্রতি ভালোবাসার বার্তা—সব মিলিয়ে ‘ওহ মাই ডগ’ হতে পারে এই সপ্তাহের অন্যতম আলোচিত পারিবারিক সিনেমা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত