মৌলভীবাজারের সরকারি হাসপাতালে এক জটিল অস্ত্রোপচারে বড় সাফল্য এসেছে। পেটে বড় কোনো কাটাছেঁড়া না করেই জন্মগতভাবে জরায়ু ও যোনিপথবিহীন এক নারীর কৃত্রিম যোনিপথ তৈরি করেছেন চিকিৎসকেরা। আধুনিক ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে এই অস্ত্রোপচারটি মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে প্রথমবারের মতো সম্পন্ন হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে ৩০ বছর বয়সী ওই নারীর অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়। চিকিৎসকদের মতে, মৌলভীবাজার জেলার কোনো সরকারি হাসপাতালে এ ধরনের জটিল অস্ত্রোপচার এটিই প্রথম।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ওই নারী জন্মগতভাবে ‘মেয়ার-রোকিটানস্কি-কুস্টার-হাউজার সিনড্রোমে’ (MRKH syndrome) আক্রান্ত ছিলেন। এই বিরল সমস্যায় আক্রান্ত নারীর ডিম্বাশয় স্বাভাবিক থাকলেও জন্মগতভাবে জরায়ু ও যোনিপথ অনুপস্থিত থাকে। এর ফলে তাদের দাম্পত্য ও মানসিক জীবনে নানা সংকট তৈরি হয়।
প্রচলিত পদ্ধতিতে এই অস্ত্রোপচারের জন্য পেটে বড় ধরনের কাটাছেঁড়ার প্রয়োজন হয়। তবে এই রোগীর ক্ষেত্রে কয়েকটি ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে ল্যাপারোস্কোপ ব্যবহার করে সূক্ষ্ম ও অত্যন্ত দক্ষতানির্ভর এই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়।
হাসপাতালের এনেস্থেসিওলজিস্ট ডা. শাহী আরশাদ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জানান, ‘মৌলভীবাজারে এই প্রথম সরকারি হাসপাতালে এমন জটিল অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হলো। বেসরকারি ক্লিনিকে এই চিকিৎসায় প্রায় ৬ লাখ টাকার মতো ব্যয় হয়। এটি আমাদের পুরো চিকিৎসা দলের জন্য একটি বড় অর্জন।’ তিনি আরও জানান, ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে ক্ষত ও ব্যথা কম হওয়ায় রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং শরীরে বড় কোনো দাগ থাকে না।
অস্ত্রোপচারটিতে নেতৃত্ব দেন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. ফারজানা হক পর্না। এনেস্থেসিওলজিস্ট হিসেবে ছিলেন ডা. শাহী আরশাদ এবং সহকারী চিকিৎসক হিসেবে ছিলেন ডা. ইমরান। এ ছাড়া সিনিয়র স্টাফ নার্সসহ একটি চৌকস দল অস্ত্রোপচারে সহায়তা করেন।
চিকিৎসকদের এই সাফল্যকে জেলার স্বাস্থ্যসেবায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের আধুনিক চিকিৎসাসেবা চালু হওয়ায় এখন থেকে রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা যাওয়ার প্রয়োজন ও আর্থিক চাপ অনেকটাই কমে আসবে।
আপনার মতামত লিখুন