দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে গেমারদের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে যাচ্ছে রকস্টার গেমসের বহুল আলোচিত গেম ‘গ্র্যান্ড থেফট অটো ৬’ (GTA 6)। আগামী ১৯ নভেম্বর গেমটির আনুষ্ঠানিক মুক্তির কথা রয়েছে। তবে শুরুতে শুধু কনসোলেই পাওয়া যাবে গেমটি। প্লেস্টেশন ৫ এবং এক্সবক্স সিরিজ এক্স ও সিরিজ এস-এর জন্যই প্রথমে এটি উন্মুক্ত করা হবে।
বাংলাদেশের গেমারদের জন্য তাই প্রশ্ন উঠছে—জিটিএ ৬ খেলতে মোট কত টাকা খরচ হতে পারে? কনসোল কেনা থেকে শুরু করে গেমের কপি, সব মিলিয়ে বাজেটটা নেহাত কম নয়।
পিএস৫ কিনতেই লাগবে লাখের কাছাকাছি
জিটিএ ৬ খেলতে বাংলাদেশে সহজলভ্য বিকল্পগুলোর একটি হতে পারে প্লেস্টেশন ৫। দেশের বিভিন্ন প্রযুক্তি ও গেমিং দোকানে বর্তমানে পিএস৫-এর একাধিক সংস্করণ পাওয়া যায়। ডিজিটাল, স্লিম কিংবা প্রো মডেল এবং স্টোরেজের ওপর নির্ভর করে দামেও পার্থক্য রয়েছে।
বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী, বাংলাদেশে একটি পিএস৫ কিনতে প্রায় ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। অর্থাৎ শুধু গেম খেলার কনসোল কিনতেই বড় একটি বাজেট প্রয়োজন।
গেমের জন্য আলাদা বাজেট রাখতে হবে
কনসোল কেনার পরও খরচ শেষ নয়। জিটিএ ৬-এর স্ট্যান্ডার্ড সংস্করণের আন্তর্জাতিক মূল্য প্রায় ৭০ ডলার হতে পারে। বিশেষ বা কালেক্টরস এডিশনের দাম আরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশেও বিভিন্ন তৃতীয় পক্ষের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও গেমিং বিক্রেতার মাধ্যমে গেমটির ডিজিটাল কপি বিক্রির উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। প্রাথমিক হিসাবে দেশে একটি কপির দাম প্রায় ১০ হাজার থেকে ১৪ হাজার টাকা হতে পারে।
এবার গেমটির প্রচলিত ফিজিক্যাল ডিস্কের বদলে ডিজিটাল ডাউনলোড কোড পাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। পিএস৫ ব্যবহারকারীরা প্লেস্টেশন স্টোরে গিয়ে কোড রিডিম করে গেমটি ডাউনলোড করতে পারবেন।
কনসোলে মোট খরচ কত?
পিএস৫-এর জন্য প্রায় ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা এবং গেমের জন্য আরও ১০ থেকে ১৪ হাজার টাকা ধরলে কনসোলে জিটিএ ৬ খেলতে মোটামুটি ১ লাখ থেকে ১ লাখ ১৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বাজেট প্রয়োজন হতে পারে।
তবে আনুষঙ্গিক খরচ, অতিরিক্ত কন্ট্রোলার বা অন্যান্য অ্যাকসেসরিজ যুক্ত হলে মোট ব্যয় আরও বাড়তে পারে।
পিসি গেমারদের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ
কনসোল ব্যবহারকারীরা নভেম্বরেই গেমটি খেলতে পারলেও পিসি গেমারদের অপেক্ষা করতে হবে আরও দীর্ঘ সময়। জিটিএ ৬-এর উইন্ডোজ বা পিসি সংস্করণ কবে প্রকাশ করা হবে, সে বিষয়ে রকস্টার গেমস এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
এর আগে রকস্টারের বিভিন্ন বড় গেম কনসোলে মুক্তির পর পরে পিসিতে এসেছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে কেউ কেউ ধারণা করছেন, জিটিএ ৬-এর পিসি সংস্করণও কনসোল রিলিজের বেশ কিছু সময় পর আসতে পারে। তবে ২০২৭ বা ২০২৮ সালে মুক্তি পাবে—এমন কোনো নিশ্চিত ঘোষণা এখনো নেই।
কেমন পিসি লাগতে পারে?
পিসি সংস্করণের আনুষ্ঠানিক সিস্টেম রিকোয়ারমেন্ট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট কনফিগারেশন নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে গেমটির সম্ভাব্য চাহিদা বিবেচনায় শক্তিশালী প্রসেসর, উন্নত গ্রাফিক্স কার্ড, পর্যাপ্ত র্যাম এবং দ্রুতগতির এসএসডি প্রয়োজন হতে পারে।
উচ্চমানের গ্রাফিক্স ও মসৃণ পারফরম্যান্সের জন্য বর্তমান প্রজন্মের শক্তিশালী গেমিং পিসির প্রয়োজন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে উন্নত গ্রাফিক্স সেটিংসে খেলার ক্ষেত্রে মাঝারি মানের কম্পিউটার যথেষ্ট নাও হতে পারে।
তাই পিসি সংস্করণের জন্য এখনই নির্দিষ্ট ‘ন্যূনতম’ বা ‘আল্টিমেট’ কনফিগারেশন ধরে পিসি কেনা ঠিক হবে না। রকস্টার আনুষ্ঠানিক সিস্টেম রিকোয়ারমেন্ট প্রকাশ করলে সেই অনুযায়ী আপগ্রেডের সিদ্ধান্ত নেওয়াই নিরাপদ।
পিসিতে খরচ আরও বেশি হতে পারে
বাংলাদেশের বাজারে শক্তিশালী প্রসেসর, উচ্চক্ষমতার গ্রাফিক্স কার্ড, ৩২ জিবি বা তার বেশি র্যাম, এসএসডি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার দিয়ে একটি হাই-এন্ড গেমিং পিসি তৈরি করতে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।
ফলে ভবিষ্যতে পিসিতে জিটিএ ৬ উচ্চ গ্রাফিক্স সেটিংসে খেলতে চাইলে শুধু গেমের দাম নয়, পুরো কম্পিউটার সেটআপের খরচও বিবেচনায় রাখতে হবে।
শেষ পর্যন্ত বাজেটটাই বড় বিষয়
জিটিএ ৬ খেলতে চাওয়া বাংলাদেশি গেমারদের জন্য সবচেয়ে সহজ হিসাব হলো—কনসোল আগে থেকেই থাকলে মূল খরচ হবে গেমের কপিতে। কিন্তু নতুন করে পিএস৫ কিনতে হলে বাজেট দ্রুত বেড়ে যাবে।
আর পিসি গেমারদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত। কারণ পিসি সংস্করণের মুক্তির তারিখ ও আনুষ্ঠানিক হার্ডওয়্যার চাহিদা এখনো জানা যায়নি।
তাই আপাতত জিটিএ ৬-এর জন্য প্রস্তুতি নিতে চাইলে কনসোল গেমারদের পিএস৫ ও গেমের দাম, আর পিসি গেমারদের ক্ষেত্রে রকস্টারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা—এই দুটি বিষয়ই নজরে রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে গেমারদের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে যাচ্ছে রকস্টার গেমসের বহুল আলোচিত গেম ‘গ্র্যান্ড থেফট অটো ৬’ (GTA 6)। আগামী ১৯ নভেম্বর গেমটির আনুষ্ঠানিক মুক্তির কথা রয়েছে। তবে শুরুতে শুধু কনসোলেই পাওয়া যাবে গেমটি। প্লেস্টেশন ৫ এবং এক্সবক্স সিরিজ এক্স ও সিরিজ এস-এর জন্যই প্রথমে এটি উন্মুক্ত করা হবে।
বাংলাদেশের গেমারদের জন্য তাই প্রশ্ন উঠছে—জিটিএ ৬ খেলতে মোট কত টাকা খরচ হতে পারে? কনসোল কেনা থেকে শুরু করে গেমের কপি, সব মিলিয়ে বাজেটটা নেহাত কম নয়।
পিএস৫ কিনতেই লাগবে লাখের কাছাকাছি
জিটিএ ৬ খেলতে বাংলাদেশে সহজলভ্য বিকল্পগুলোর একটি হতে পারে প্লেস্টেশন ৫। দেশের বিভিন্ন প্রযুক্তি ও গেমিং দোকানে বর্তমানে পিএস৫-এর একাধিক সংস্করণ পাওয়া যায়। ডিজিটাল, স্লিম কিংবা প্রো মডেল এবং স্টোরেজের ওপর নির্ভর করে দামেও পার্থক্য রয়েছে।
বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী, বাংলাদেশে একটি পিএস৫ কিনতে প্রায় ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। অর্থাৎ শুধু গেম খেলার কনসোল কিনতেই বড় একটি বাজেট প্রয়োজন।
গেমের জন্য আলাদা বাজেট রাখতে হবে
কনসোল কেনার পরও খরচ শেষ নয়। জিটিএ ৬-এর স্ট্যান্ডার্ড সংস্করণের আন্তর্জাতিক মূল্য প্রায় ৭০ ডলার হতে পারে। বিশেষ বা কালেক্টরস এডিশনের দাম আরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশেও বিভিন্ন তৃতীয় পক্ষের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও গেমিং বিক্রেতার মাধ্যমে গেমটির ডিজিটাল কপি বিক্রির উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। প্রাথমিক হিসাবে দেশে একটি কপির দাম প্রায় ১০ হাজার থেকে ১৪ হাজার টাকা হতে পারে।
এবার গেমটির প্রচলিত ফিজিক্যাল ডিস্কের বদলে ডিজিটাল ডাউনলোড কোড পাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। পিএস৫ ব্যবহারকারীরা প্লেস্টেশন স্টোরে গিয়ে কোড রিডিম করে গেমটি ডাউনলোড করতে পারবেন।
কনসোলে মোট খরচ কত?
পিএস৫-এর জন্য প্রায় ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা এবং গেমের জন্য আরও ১০ থেকে ১৪ হাজার টাকা ধরলে কনসোলে জিটিএ ৬ খেলতে মোটামুটি ১ লাখ থেকে ১ লাখ ১৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বাজেট প্রয়োজন হতে পারে।
তবে আনুষঙ্গিক খরচ, অতিরিক্ত কন্ট্রোলার বা অন্যান্য অ্যাকসেসরিজ যুক্ত হলে মোট ব্যয় আরও বাড়তে পারে।
পিসি গেমারদের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ
কনসোল ব্যবহারকারীরা নভেম্বরেই গেমটি খেলতে পারলেও পিসি গেমারদের অপেক্ষা করতে হবে আরও দীর্ঘ সময়। জিটিএ ৬-এর উইন্ডোজ বা পিসি সংস্করণ কবে প্রকাশ করা হবে, সে বিষয়ে রকস্টার গেমস এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
এর আগে রকস্টারের বিভিন্ন বড় গেম কনসোলে মুক্তির পর পরে পিসিতে এসেছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে কেউ কেউ ধারণা করছেন, জিটিএ ৬-এর পিসি সংস্করণও কনসোল রিলিজের বেশ কিছু সময় পর আসতে পারে। তবে ২০২৭ বা ২০২৮ সালে মুক্তি পাবে—এমন কোনো নিশ্চিত ঘোষণা এখনো নেই।
কেমন পিসি লাগতে পারে?
পিসি সংস্করণের আনুষ্ঠানিক সিস্টেম রিকোয়ারমেন্ট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট কনফিগারেশন নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে গেমটির সম্ভাব্য চাহিদা বিবেচনায় শক্তিশালী প্রসেসর, উন্নত গ্রাফিক্স কার্ড, পর্যাপ্ত র্যাম এবং দ্রুতগতির এসএসডি প্রয়োজন হতে পারে।
উচ্চমানের গ্রাফিক্স ও মসৃণ পারফরম্যান্সের জন্য বর্তমান প্রজন্মের শক্তিশালী গেমিং পিসির প্রয়োজন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে উন্নত গ্রাফিক্স সেটিংসে খেলার ক্ষেত্রে মাঝারি মানের কম্পিউটার যথেষ্ট নাও হতে পারে।
তাই পিসি সংস্করণের জন্য এখনই নির্দিষ্ট ‘ন্যূনতম’ বা ‘আল্টিমেট’ কনফিগারেশন ধরে পিসি কেনা ঠিক হবে না। রকস্টার আনুষ্ঠানিক সিস্টেম রিকোয়ারমেন্ট প্রকাশ করলে সেই অনুযায়ী আপগ্রেডের সিদ্ধান্ত নেওয়াই নিরাপদ।
পিসিতে খরচ আরও বেশি হতে পারে
বাংলাদেশের বাজারে শক্তিশালী প্রসেসর, উচ্চক্ষমতার গ্রাফিক্স কার্ড, ৩২ জিবি বা তার বেশি র্যাম, এসএসডি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার দিয়ে একটি হাই-এন্ড গেমিং পিসি তৈরি করতে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।
ফলে ভবিষ্যতে পিসিতে জিটিএ ৬ উচ্চ গ্রাফিক্স সেটিংসে খেলতে চাইলে শুধু গেমের দাম নয়, পুরো কম্পিউটার সেটআপের খরচও বিবেচনায় রাখতে হবে।
শেষ পর্যন্ত বাজেটটাই বড় বিষয়
জিটিএ ৬ খেলতে চাওয়া বাংলাদেশি গেমারদের জন্য সবচেয়ে সহজ হিসাব হলো—কনসোল আগে থেকেই থাকলে মূল খরচ হবে গেমের কপিতে। কিন্তু নতুন করে পিএস৫ কিনতে হলে বাজেট দ্রুত বেড়ে যাবে।
আর পিসি গেমারদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত। কারণ পিসি সংস্করণের মুক্তির তারিখ ও আনুষ্ঠানিক হার্ডওয়্যার চাহিদা এখনো জানা যায়নি।
তাই আপাতত জিটিএ ৬-এর জন্য প্রস্তুতি নিতে চাইলে কনসোল গেমারদের পিএস৫ ও গেমের দাম, আর পিসি গেমারদের ক্ষেত্রে রকস্টারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা—এই দুটি বিষয়ই নজরে রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার মতামত লিখুন