কিশোর গ্যাং নির্মূলে কেবল সাধারণ সদস্যদের গ্রেফতার করলেই চলবে না, বরং এসব অপরাধী গ্রুপের মূলহোতাদের শনাক্ত করে তাদের শেকড় সমূলে উৎপাটন করতে হবে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবি-২-এর মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নায়মুল হাসান এই কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
তিনি বলেন, এই ধরনের সামাজিক ব্যাধি দূর করতে কোনো ধরনের শর্টকাট সমাধান কাজে আসবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদী ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত ফল পেতে হবে। সম্প্রতি কেরানীগঞ্জ মডেল থানার আলোচিত আরশিনগর এলাকায় পাটালী গ্রুপের ফরহাদ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত তিন নম্বর আসামি এবং কুখ্যাত আরমান-শাহরুখ গ্রুপের শীর্ষ নেতৃত্বদানকারী সবুজ হোসেন আরমানকে গ্রেফতারের পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরে অতিরিক্ত ডিআইজি নায়মুল হাসান জানান, গত ১৫ সেপ্টেম্বর আরশিনগর এলাকার একটি সেলুনে ঢুকে সন্ত্রাসী আরমানসহ তার সহযোগীরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে এবং ধারালো চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে পাটালী গ্রুপের ফরহাদকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে গুরুতর আহত করে। পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের মা নাছিমা বেগম বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের গ্রেফতারে এসআরবি-২ ব্যাপক গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২৮ সেপ্টেম্বর ভোররাতে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুর থানাধীন বুদ্ধিজীবী ১ নম্বর রোড এলাকা থেকে মামলার তিন নম্বর আসামি আরমানকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি ব্যবহৃত একটি সামুরাই, তার ভাড়া বাসা থেকে আরও চারটি সামুরাই এবং মোহাম্মদপুরের কাটাসুর এলাকায় শ্রমিকদের অস্থায়ী টিনশেড থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গত ১৬ আগস্ট এই গ্রুপের আরেক শীর্ষ সদস্য শাহরুখকে গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং বর্তমানে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সাব্বির ও সোহেলসহ বাকি আসামিদের গ্রেফতারে জোরালো অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধী আরমানের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানাতেই দাঙ্গা, চুরি, হত্যাচেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে এবং সে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়েছিল।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত ডিআইজি নায়মুল হাসান দৃঢ়তার সাথে আশা প্রকাশ করেন, অতীতে আইনের ফাঁক ফোকর দিয়ে বারবার বেরিয়ে গেলেও এবার সে যেন সহজে পার পেয়ে যেতে না পারে, সে বিষয়ে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা সম্পর্কে তিনি আরও যোগ করেন, গ্যাংয়ের প্রধান বা গুরুত্বপূর্ণ অপরাধীদের পাকড়াও করলে এসব গ্রুপ এমনিতেই দুর্বল হয়ে পড়ে। তবে ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের কোনো গ্যাং মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সেজন্য এসআরবি-২-এর গবেষণা ও উন্নয়ন সেল গভীরভাবে কাজ করছে এবং খুব শীঘ্রই অপরাধের পেছনের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে আরও বিস্তৃত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কিশোর গ্যাং নির্মূলে কেবল সাধারণ সদস্যদের গ্রেফতার করলেই চলবে না, বরং এসব অপরাধী গ্রুপের মূলহোতাদের শনাক্ত করে তাদের শেকড় সমূলে উৎপাটন করতে হবে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবি-২-এর মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নায়মুল হাসান এই কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
তিনি বলেন, এই ধরনের সামাজিক ব্যাধি দূর করতে কোনো ধরনের শর্টকাট সমাধান কাজে আসবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদী ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত ফল পেতে হবে। সম্প্রতি কেরানীগঞ্জ মডেল থানার আলোচিত আরশিনগর এলাকায় পাটালী গ্রুপের ফরহাদ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত তিন নম্বর আসামি এবং কুখ্যাত আরমান-শাহরুখ গ্রুপের শীর্ষ নেতৃত্বদানকারী সবুজ হোসেন আরমানকে গ্রেফতারের পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরে অতিরিক্ত ডিআইজি নায়মুল হাসান জানান, গত ১৫ সেপ্টেম্বর আরশিনগর এলাকার একটি সেলুনে ঢুকে সন্ত্রাসী আরমানসহ তার সহযোগীরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে এবং ধারালো চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে পাটালী গ্রুপের ফরহাদকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে গুরুতর আহত করে। পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের মা নাছিমা বেগম বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের গ্রেফতারে এসআরবি-২ ব্যাপক গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২৮ সেপ্টেম্বর ভোররাতে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুর থানাধীন বুদ্ধিজীবী ১ নম্বর রোড এলাকা থেকে মামলার তিন নম্বর আসামি আরমানকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি ব্যবহৃত একটি সামুরাই, তার ভাড়া বাসা থেকে আরও চারটি সামুরাই এবং মোহাম্মদপুরের কাটাসুর এলাকায় শ্রমিকদের অস্থায়ী টিনশেড থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গত ১৬ আগস্ট এই গ্রুপের আরেক শীর্ষ সদস্য শাহরুখকে গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং বর্তমানে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সাব্বির ও সোহেলসহ বাকি আসামিদের গ্রেফতারে জোরালো অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধী আরমানের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানাতেই দাঙ্গা, চুরি, হত্যাচেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে এবং সে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়েছিল।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত ডিআইজি নায়মুল হাসান দৃঢ়তার সাথে আশা প্রকাশ করেন, অতীতে আইনের ফাঁক ফোকর দিয়ে বারবার বেরিয়ে গেলেও এবার সে যেন সহজে পার পেয়ে যেতে না পারে, সে বিষয়ে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা সম্পর্কে তিনি আরও যোগ করেন, গ্যাংয়ের প্রধান বা গুরুত্বপূর্ণ অপরাধীদের পাকড়াও করলে এসব গ্রুপ এমনিতেই দুর্বল হয়ে পড়ে। তবে ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের কোনো গ্যাং মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সেজন্য এসআরবি-২-এর গবেষণা ও উন্নয়ন সেল গভীরভাবে কাজ করছে এবং খুব শীঘ্রই অপরাধের পেছনের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে আরও বিস্তৃত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন