সংবাদ

মাটির নিচে ‘সেদ্ধ’ হচ্ছে আলু, এশিয়াজুড়ে আগুনের হলকা


দ্য গার্ডিয়ান
দ্য গার্ডিয়ান
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৫ পিএম

মাটির নিচে ‘সেদ্ধ’ হচ্ছে আলু, এশিয়াজুড়ে আগুনের হলকা
দক্ষিণ কোরিয়ার স্ট্রবেরির ক্ষেতে কৃষকরা কাজ করছেন। ছবি : সংগৃহীত

এশিয়াজুড়ে বইছে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ দাবদাহ। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে জাপান কিংবা হংকং–সূর্যের তপ্ত নিঃশ্বাসে পুড়ছে জনপদ। পরিস্থিতি এতটাই চরম যে, দক্ষিণ কোরিয়ার ফসলি জমিতে মাটির নিচেই সেদ্ধ হয়ে যাচ্ছে আলু। একদিকে রেকর্ডের পর রেকর্ড ভাঙছে তাপমাত্রা, অন্যদিকে দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল।

সিউল থেকে ১৩০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে ইয়াঙ্গু কাউন্টির এক আলু ক্ষেতে দাঁড়িয়ে দিশেহারা কৃষক লি সাং-হিউক। এক সপ্তাহ আগেও তার ক্ষেতের আলু ছিল সতেজ। কিন্তু মাটি খুঁড়তেই দেখা গেল এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। লি বলেন, 'একটি বা দুটি ক্ষেত নয়, পুরো মাঠের আলুই নরম হয়ে গলে গেছে। মনে হচ্ছে মাটির নিচেই কেউ আলুগুলো সেদ্ধ করে রেখেছে। এভাবে সব শেষ হয়ে যাবে ভাবিনি।'

গত ২ আগস্ট দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়াঙ্গসান শহরের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা গত ১২০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। দাবদাহে এখন পর্যন্ত দেশটিতে অন্তত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রাণ হারিয়েছে প্রায় ৯ লাখ গবাদিপশু এবং ১৪ লাখ খামারের মাছ। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ুং পরিস্থিতির ভয়াবহতা দেখে একে ‘জাতীয় সংকট’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, 'এমন আবহাওয়া আমরা আগে কখনো দেখিনি। জলবায়ু পরিবর্তনই এখন আমাদের নতুন বাস্তবতা।'

প্রতিবেশী দেশ জাপানে পরিস্থিতি আরও শোচনীয়। দেশটিতে এবার প্রথমবারের মতো ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রাকে ‘কোকুশোবি’ বা ‘নিষ্ঠুর গরমের দিন’ হিসেবে নতুন ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। টোকিওর একটি চিড়িয়াখানায় তিনটি সিংহ হিটস্ট্রোকে মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিশ্ব উষ্ণায়ন না থাকলে এমন দাবদাহ ১০ হাজার বছরে একবার হওয়াও অসম্ভব ছিল।

হংকংয়ে তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৩৬.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা ১৮৮৪ সালের পর সর্বোচ্চ। সেখানকার শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে চলছে তীব্র বিতর্ক। অন্যদিকে চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে। উত্তর কোরিয়ার পিয়ংইয়ংয়ে রাতের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রির নিচে নামছে না, যাকে বলা হচ্ছে ‘ট্রপিক্যাল নাইট’।

দক্ষিণ কোরিয়ার গুয়াংজু এলাকায় তরমুজ চাষি হং কিয়ং-হি জানান, তার ৫০ বছরের চাষি জীবনে এমন দুর্যোগ দেখেননি। মাঠের তরমুজ বাইরে থেকে ভালো মনে হলেও ভেতরে গরমে গলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। স্ট্রবেরি চাষি ইউন উ-হাও একই সংকটে পড়েছেন। বিমার টাকা না পাওয়ায় অনেক কৃষক এখন ঋণের বোঝার ভয়ে আতঙ্কিত।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জুন-ই লি সতর্ক করে বলেছেন, গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ এখনই না কমালে এই 'নরক গুলজার' পরিস্থিতি আরও নিয়মিত হয়ে উঠবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬


মাটির নিচে ‘সেদ্ধ’ হচ্ছে আলু, এশিয়াজুড়ে আগুনের হলকা

প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

এশিয়াজুড়ে বইছে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ দাবদাহ। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে জাপান কিংবা হংকং–সূর্যের তপ্ত নিঃশ্বাসে পুড়ছে জনপদ। পরিস্থিতি এতটাই চরম যে, দক্ষিণ কোরিয়ার ফসলি জমিতে মাটির নিচেই সেদ্ধ হয়ে যাচ্ছে আলু। একদিকে রেকর্ডের পর রেকর্ড ভাঙছে তাপমাত্রা, অন্যদিকে দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল।

সিউল থেকে ১৩০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে ইয়াঙ্গু কাউন্টির এক আলু ক্ষেতে দাঁড়িয়ে দিশেহারা কৃষক লি সাং-হিউক। এক সপ্তাহ আগেও তার ক্ষেতের আলু ছিল সতেজ। কিন্তু মাটি খুঁড়তেই দেখা গেল এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। লি বলেন, 'একটি বা দুটি ক্ষেত নয়, পুরো মাঠের আলুই নরম হয়ে গলে গেছে। মনে হচ্ছে মাটির নিচেই কেউ আলুগুলো সেদ্ধ করে রেখেছে। এভাবে সব শেষ হয়ে যাবে ভাবিনি।'

গত ২ আগস্ট দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়াঙ্গসান শহরের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা গত ১২০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। দাবদাহে এখন পর্যন্ত দেশটিতে অন্তত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রাণ হারিয়েছে প্রায় ৯ লাখ গবাদিপশু এবং ১৪ লাখ খামারের মাছ। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ুং পরিস্থিতির ভয়াবহতা দেখে একে ‘জাতীয় সংকট’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, 'এমন আবহাওয়া আমরা আগে কখনো দেখিনি। জলবায়ু পরিবর্তনই এখন আমাদের নতুন বাস্তবতা।'

প্রতিবেশী দেশ জাপানে পরিস্থিতি আরও শোচনীয়। দেশটিতে এবার প্রথমবারের মতো ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রাকে ‘কোকুশোবি’ বা ‘নিষ্ঠুর গরমের দিন’ হিসেবে নতুন ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। টোকিওর একটি চিড়িয়াখানায় তিনটি সিংহ হিটস্ট্রোকে মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিশ্ব উষ্ণায়ন না থাকলে এমন দাবদাহ ১০ হাজার বছরে একবার হওয়াও অসম্ভব ছিল।

হংকংয়ে তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৩৬.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা ১৮৮৪ সালের পর সর্বোচ্চ। সেখানকার শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে চলছে তীব্র বিতর্ক। অন্যদিকে চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে। উত্তর কোরিয়ার পিয়ংইয়ংয়ে রাতের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রির নিচে নামছে না, যাকে বলা হচ্ছে ‘ট্রপিক্যাল নাইট’।

দক্ষিণ কোরিয়ার গুয়াংজু এলাকায় তরমুজ চাষি হং কিয়ং-হি জানান, তার ৫০ বছরের চাষি জীবনে এমন দুর্যোগ দেখেননি। মাঠের তরমুজ বাইরে থেকে ভালো মনে হলেও ভেতরে গরমে গলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। স্ট্রবেরি চাষি ইউন উ-হাও একই সংকটে পড়েছেন। বিমার টাকা না পাওয়ায় অনেক কৃষক এখন ঋণের বোঝার ভয়ে আতঙ্কিত।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জুন-ই লি সতর্ক করে বলেছেন, গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ এখনই না কমালে এই 'নরক গুলজার' পরিস্থিতি আরও নিয়মিত হয়ে উঠবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত