দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত এলাকায় ড্রোন থেকে ফ্লেয়ার বা অগ্নিগোলক নিক্ষেপ করে বনাঞ্চল ও ফসলি জমিতে ইচ্ছাকৃতভাবে দাবানল সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দা ও অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর দাবি, এই হামলার মূল লক্ষ্য লেবাননের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও কৃষিনির্ভর অর্থনীতি ধ্বংস করা।
লেবাননের সিভিল ডিফেন্সের নাবাতিহ অঞ্চলের প্রধান হুসাইন ফাকিহ জানান, সম্প্রতি খিয়াম এলাকার বনাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনী ফ্লেয়ার নিক্ষেপ করলে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা যখন সেই আগুন নেভানোর চেষ্টা করছিলেন, তখন তাদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে প্রাণভয়ে তারা পিছু হটতে বাধ্য হন। ফাকিহ আরও জানান, সীমান্তের কাছাকাছি প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ জমি ইতিমধ্যে ইসরায়েলি হামলায় সৃষ্ট আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত ১৭ জুন যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে হামলা কিছুটা কমলেও কৃষি জমিতে আগুনের ঘটনা বেড়েছে। ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ইসরায়েলি ড্রোনগুলো বনাঞ্চলে সাদা ফসফরাস এবং দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপ করছে। এতে শতাব্দী প্রাচীন জলপাই বাগান ও পাইন বন পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে।
পরিবেশবাদী সংগঠন ‘গ্রিন সাউদার্নার্স’-এর প্রতিষ্ঠাতা হিশাম ইউনেস এই ঘটনাকে ‘ইকোসাইড’ বা পরিবেশ নিধন বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন,'এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং সুপরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞ। এর ফলে দীর্ঘদিনের বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে, যা পরিযায়ী পাখিদের বিচরণ ক্ষেত্র হিসেবেও পরিচিত।'
ইয়ারুন গ্রামের মেয়র হাফেজ গাশাম জানান, দখলদার ইসরায়েলি সেনারা গ্রামের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর এখন গাছপালায় আগুন দিচ্ছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, 'এই জলপাই গাছগুলো আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে পেয়েছিলাম। এগুলো শুধু আমাদের উপার্জনের উৎস নয়, বরং আমাদের সংস্কৃতি ও স্মৃতির অংশ। তারা চায় এই ভূমিকে বসবাসের অযোগ্য করে আমাদের ইতিহাস মুছে দিতে।'
যদিও ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করেছে, হিজবুল্লাহ এসব বনাঞ্চলকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে। তবে পরিবেশবিদ ও মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, নির্বিচারে পরিবেশ ধ্বংসের এই পরিণতি সাধারণ মানুষের জীবনকে দীর্ঘমেয়াদে চরম সংকটে ফেলবে।

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬
দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত এলাকায় ড্রোন থেকে ফ্লেয়ার বা অগ্নিগোলক নিক্ষেপ করে বনাঞ্চল ও ফসলি জমিতে ইচ্ছাকৃতভাবে দাবানল সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দা ও অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর দাবি, এই হামলার মূল লক্ষ্য লেবাননের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও কৃষিনির্ভর অর্থনীতি ধ্বংস করা।
লেবাননের সিভিল ডিফেন্সের নাবাতিহ অঞ্চলের প্রধান হুসাইন ফাকিহ জানান, সম্প্রতি খিয়াম এলাকার বনাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনী ফ্লেয়ার নিক্ষেপ করলে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা যখন সেই আগুন নেভানোর চেষ্টা করছিলেন, তখন তাদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে প্রাণভয়ে তারা পিছু হটতে বাধ্য হন। ফাকিহ আরও জানান, সীমান্তের কাছাকাছি প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ জমি ইতিমধ্যে ইসরায়েলি হামলায় সৃষ্ট আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত ১৭ জুন যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে হামলা কিছুটা কমলেও কৃষি জমিতে আগুনের ঘটনা বেড়েছে। ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ইসরায়েলি ড্রোনগুলো বনাঞ্চলে সাদা ফসফরাস এবং দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপ করছে। এতে শতাব্দী প্রাচীন জলপাই বাগান ও পাইন বন পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে।
পরিবেশবাদী সংগঠন ‘গ্রিন সাউদার্নার্স’-এর প্রতিষ্ঠাতা হিশাম ইউনেস এই ঘটনাকে ‘ইকোসাইড’ বা পরিবেশ নিধন বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন,'এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং সুপরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞ। এর ফলে দীর্ঘদিনের বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে, যা পরিযায়ী পাখিদের বিচরণ ক্ষেত্র হিসেবেও পরিচিত।'
ইয়ারুন গ্রামের মেয়র হাফেজ গাশাম জানান, দখলদার ইসরায়েলি সেনারা গ্রামের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর এখন গাছপালায় আগুন দিচ্ছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, 'এই জলপাই গাছগুলো আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে পেয়েছিলাম। এগুলো শুধু আমাদের উপার্জনের উৎস নয়, বরং আমাদের সংস্কৃতি ও স্মৃতির অংশ। তারা চায় এই ভূমিকে বসবাসের অযোগ্য করে আমাদের ইতিহাস মুছে দিতে।'
যদিও ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করেছে, হিজবুল্লাহ এসব বনাঞ্চলকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে। তবে পরিবেশবিদ ও মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, নির্বিচারে পরিবেশ ধ্বংসের এই পরিণতি সাধারণ মানুষের জীবনকে দীর্ঘমেয়াদে চরম সংকটে ফেলবে।

আপনার মতামত লিখুন