শ্রীমঙ্গল মানেই দুচোখ জুড়ানো চায়ের স্বর্গরাজ্য। কিন্তু এবার সেই সবুজের বুকে নজর কেড়েছে এক কাঁটাময় ক্যাকটাস। শ্রীমঙ্গলের বিদ্যাবিল চা-বাগানে দেখা মিলেছে ব্যতিক্রমী এক ক্যাকটাস ফুলের, যার রূপ দেখতে দিনের আলো নয়–অপেক্ষা করতে হয় নিঝুম রাতের জন্য।
সেরিয়াস গোত্রের এই কলামার ক্যাকটাসটির কাণ্ডজুড়ে তীক্ষ্ণ কাঁটা। কিন্তু সেই রুক্ষ শরীর থেকেই বেরিয়েছে কোমল সবুজ-হলুদ ফুল। উদ্ভিদবিদেরা বলছেন, এই ফুলের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি কেবল রাতেই ফোটে। সূর্যের আলো ফোটার আগেই এটি নেতিয়ে পড়ে। তাই এর পূর্ণ প্রস্ফুটিত রূপ দেখতে হলে রাত জেগে অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।
বিদ্যাবিল চা-বাগান কর্তৃপক্ষ জানায়, ক্যাকটাসটি ঠিক কবে বা কে রোপণ করেছিলেন, তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। তবে কয়েক বছর ধরে এটি বাগানের শোভাবর্ধন করছে। এখন ফুল আসায় এটি কৌতূহলী উদ্ভিদপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জীবন চন্দ্র দেবনাথ বলেন, 'এটি মূলত দক্ষিণ আমেরিকার উদ্ভিদ। খাড়া ও মাংসল এই ক্যাকটাস রাতের বেলায় ফুল ফোটানোর জন্য পরিচিত। সূর্যাস্তের পর ফুলটি পাপড়ি মেলতে শুরু করে এবং পরদিন সকালেই শুকিয়ে যায়।'
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, পৃথিবীতে প্রায় ১ হাজার ৮০০ প্রজাতির ক্যাকটাস থাকলেও বাংলাদেশে পাওয়া যায় মাত্র ৪৬টি প্রজাতি। ড্রাগন ফলও মূলত এই ক্যাকটাস পরিবারেরই সদস্য।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আলাউদ্দিন বলেন, 'অনেকে মনে করেন ক্যাকটাস মানেই কেবল রুক্ষ কাঁটা। কিন্তু অনেক ক্যাকটাসেই এমন মনোমুগ্ধকর ফুল ফোটে। পরিবেশগত ও ওষধি গুণও রয়েছে এসব উদ্ভিদের।'
দিনের আলোয় যাকে দূর থেকে কেবল রুক্ষ ও কঠিন মনে হয়, রাতের নিস্তব্ধতায় সেই ক্যাকটাসই ধারণ করে এক মায়াবী রূপ। বিদ্যাবিল চা-বাগানের এই ক্যাকটাস যেন প্রকৃতির সেই অমৌঘ সত্যই মনে করিয়ে দিচ্ছে–কঠিনের বুকেও সুন্দরের বাস।

শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬
শ্রীমঙ্গল মানেই দুচোখ জুড়ানো চায়ের স্বর্গরাজ্য। কিন্তু এবার সেই সবুজের বুকে নজর কেড়েছে এক কাঁটাময় ক্যাকটাস। শ্রীমঙ্গলের বিদ্যাবিল চা-বাগানে দেখা মিলেছে ব্যতিক্রমী এক ক্যাকটাস ফুলের, যার রূপ দেখতে দিনের আলো নয়–অপেক্ষা করতে হয় নিঝুম রাতের জন্য।
সেরিয়াস গোত্রের এই কলামার ক্যাকটাসটির কাণ্ডজুড়ে তীক্ষ্ণ কাঁটা। কিন্তু সেই রুক্ষ শরীর থেকেই বেরিয়েছে কোমল সবুজ-হলুদ ফুল। উদ্ভিদবিদেরা বলছেন, এই ফুলের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি কেবল রাতেই ফোটে। সূর্যের আলো ফোটার আগেই এটি নেতিয়ে পড়ে। তাই এর পূর্ণ প্রস্ফুটিত রূপ দেখতে হলে রাত জেগে অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।
বিদ্যাবিল চা-বাগান কর্তৃপক্ষ জানায়, ক্যাকটাসটি ঠিক কবে বা কে রোপণ করেছিলেন, তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। তবে কয়েক বছর ধরে এটি বাগানের শোভাবর্ধন করছে। এখন ফুল আসায় এটি কৌতূহলী উদ্ভিদপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জীবন চন্দ্র দেবনাথ বলেন, 'এটি মূলত দক্ষিণ আমেরিকার উদ্ভিদ। খাড়া ও মাংসল এই ক্যাকটাস রাতের বেলায় ফুল ফোটানোর জন্য পরিচিত। সূর্যাস্তের পর ফুলটি পাপড়ি মেলতে শুরু করে এবং পরদিন সকালেই শুকিয়ে যায়।'
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, পৃথিবীতে প্রায় ১ হাজার ৮০০ প্রজাতির ক্যাকটাস থাকলেও বাংলাদেশে পাওয়া যায় মাত্র ৪৬টি প্রজাতি। ড্রাগন ফলও মূলত এই ক্যাকটাস পরিবারেরই সদস্য।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আলাউদ্দিন বলেন, 'অনেকে মনে করেন ক্যাকটাস মানেই কেবল রুক্ষ কাঁটা। কিন্তু অনেক ক্যাকটাসেই এমন মনোমুগ্ধকর ফুল ফোটে। পরিবেশগত ও ওষধি গুণও রয়েছে এসব উদ্ভিদের।'
দিনের আলোয় যাকে দূর থেকে কেবল রুক্ষ ও কঠিন মনে হয়, রাতের নিস্তব্ধতায় সেই ক্যাকটাসই ধারণ করে এক মায়াবী রূপ। বিদ্যাবিল চা-বাগানের এই ক্যাকটাস যেন প্রকৃতির সেই অমৌঘ সত্যই মনে করিয়ে দিচ্ছে–কঠিনের বুকেও সুন্দরের বাস।

আপনার মতামত লিখুন