সংবাদ

১৩ খাল খননে বাঁচল ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা


কাজী কামাল হোসেন, নওগাঁ
কাজী কামাল হোসেন, নওগাঁ
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম

১৩ খাল খননে বাঁচল ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা
ছবি : সংবাদ

নওগাঁর গ্রামীণ জনপদে মৃতপ্রায় খাল পুনঃখননের ফলে বদলে গেছে কৃষি ও পরিবেশের চিত্র। তবে এই উন্নয়ন প্রকল্পের সবচেয়ে বড় চমক হয়ে দাঁড়িয়েছে আর্থিক স্বচ্ছতা। জেলার ১০টি উপজেলায় ১৩টি খাল পুনঃখননের কাজ শেষে বরাদ্দের প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা সাশ্রয় করে সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে প্রশাসন। দুর্নীতির ভিড়ে সরকারের বিপুল অর্থ সাশ্রয়ের এমন ঘটনা এলাকায় এক বিরল নজির সৃষ্টি করেছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৩টি প্রকল্পের আওতায় ২৬ কিলোমিটার খাল খননের জন্য ৮ কোটি ৭০ লাখ ৩৯ হাজার ৩৯৭ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত নকশা অনুযায়ী শতভাগ কাজ সম্পন্ন করার পর প্রকৃত ব্যয় হয়েছে ৭ কোটি ৩০ লাখ ৫৪ হাজার ৩৮৯ টাকা। বাকি ১ কোটি ৩৯ লাখ ৮৫ হাজার ৮ টাকা (প্রায় ১৬ শতাংশ) অব্যয়িত থাকায় তা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

উপজেলাওয়ারি সাশ্রয়ের চিত্রে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে বদলগাছি উপজেলায়। সেখানে দুটি প্রকল্পে প্রায় ৪০ লাখ ৭২ হাজার টাকা সাশ্রয় হয়েছে। নওগাঁ সদর উপজেলায় দুটি প্রকল্পে সাশ্রয় হয়েছে প্রায় ৪১ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। পোরশায় প্রায় ১৩ লাখ টাকা এবং মহাদেবপুরে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা সাশ্রয় হয়েছে। অন্যদিকে, মান্দা উপজেলায় দুটি প্রকল্পে ব্যয় প্রায় বরাদ্দের সমান হওয়ায় সেখানে মাত্র ৩০ হাজার ৫৩১ টাকা সাশ্রয় হয়েছে।

নওগাঁ সদর উপজেলার শ্যামপুর ও রাণীনগরের দেওলা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, খালের দুই পাড়ে রোপণ করা হয়েছে পরিবেশবান্ধব গাছ। বর্ষার পানি জমে থাকায় কৃষকেরা এখন খালের পানি দিয়ে চাষাবাদ করতে পারছেন।

মান্দার হারকিশোর গ্রামের কৃষক সুমন আলী বলেন, ‘আগে এই খালগুলো মরা ছিল। এখন পানি থাকায় শুষ্ক মৌসুমেও চাষাবাদ করা যাবে। অনেকে মাছ ধরছেন, বাড়ির মহিলারা হাঁস পালন করছেন।’

পোরশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী বরাদ্দের বড় অংশ স্থানীয় অসহায় মানুষদের মজুরি হিসেবে দেওয়া হয়েছে। কড়া তদারকির ফলে নকশা অনুযায়ী কাজ করার পরেও ১৩ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে। আমাদের এই স্বচ্ছতার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসায় তিনি আমাকে ডেকে ব্যক্তিগতভাবে অভিজ্ঞতা শুনেছেন এবং প্রশংসা করেছেন।’

এদিকে মান্দার দুটি প্রকল্পে অর্থ সাশ্রয় কম হওয়ায় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, সেখানে খননকাজ কিছুটা দায়সারা হয়েছে।

তবে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সরাসরি তদারকিতে এই কাজগুলো করা হয়েছে। যেখানেই সমস্যা দেখা গেছে, পুনরায় সংস্কার করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলার সব মৃতপ্রায় খাল খনন করা হবে।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রকল্পগুলো হাতে নেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬


১৩ খাল খননে বাঁচল ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা

প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নওগাঁর গ্রামীণ জনপদে মৃতপ্রায় খাল পুনঃখননের ফলে বদলে গেছে কৃষি ও পরিবেশের চিত্র। তবে এই উন্নয়ন প্রকল্পের সবচেয়ে বড় চমক হয়ে দাঁড়িয়েছে আর্থিক স্বচ্ছতা। জেলার ১০টি উপজেলায় ১৩টি খাল পুনঃখননের কাজ শেষে বরাদ্দের প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা সাশ্রয় করে সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে প্রশাসন। দুর্নীতির ভিড়ে সরকারের বিপুল অর্থ সাশ্রয়ের এমন ঘটনা এলাকায় এক বিরল নজির সৃষ্টি করেছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৩টি প্রকল্পের আওতায় ২৬ কিলোমিটার খাল খননের জন্য ৮ কোটি ৭০ লাখ ৩৯ হাজার ৩৯৭ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত নকশা অনুযায়ী শতভাগ কাজ সম্পন্ন করার পর প্রকৃত ব্যয় হয়েছে ৭ কোটি ৩০ লাখ ৫৪ হাজার ৩৮৯ টাকা। বাকি ১ কোটি ৩৯ লাখ ৮৫ হাজার ৮ টাকা (প্রায় ১৬ শতাংশ) অব্যয়িত থাকায় তা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

উপজেলাওয়ারি সাশ্রয়ের চিত্রে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে বদলগাছি উপজেলায়। সেখানে দুটি প্রকল্পে প্রায় ৪০ লাখ ৭২ হাজার টাকা সাশ্রয় হয়েছে। নওগাঁ সদর উপজেলায় দুটি প্রকল্পে সাশ্রয় হয়েছে প্রায় ৪১ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। পোরশায় প্রায় ১৩ লাখ টাকা এবং মহাদেবপুরে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা সাশ্রয় হয়েছে। অন্যদিকে, মান্দা উপজেলায় দুটি প্রকল্পে ব্যয় প্রায় বরাদ্দের সমান হওয়ায় সেখানে মাত্র ৩০ হাজার ৫৩১ টাকা সাশ্রয় হয়েছে।

নওগাঁ সদর উপজেলার শ্যামপুর ও রাণীনগরের দেওলা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, খালের দুই পাড়ে রোপণ করা হয়েছে পরিবেশবান্ধব গাছ। বর্ষার পানি জমে থাকায় কৃষকেরা এখন খালের পানি দিয়ে চাষাবাদ করতে পারছেন।

মান্দার হারকিশোর গ্রামের কৃষক সুমন আলী বলেন, ‘আগে এই খালগুলো মরা ছিল। এখন পানি থাকায় শুষ্ক মৌসুমেও চাষাবাদ করা যাবে। অনেকে মাছ ধরছেন, বাড়ির মহিলারা হাঁস পালন করছেন।’

পোরশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী বরাদ্দের বড় অংশ স্থানীয় অসহায় মানুষদের মজুরি হিসেবে দেওয়া হয়েছে। কড়া তদারকির ফলে নকশা অনুযায়ী কাজ করার পরেও ১৩ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে। আমাদের এই স্বচ্ছতার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসায় তিনি আমাকে ডেকে ব্যক্তিগতভাবে অভিজ্ঞতা শুনেছেন এবং প্রশংসা করেছেন।’

এদিকে মান্দার দুটি প্রকল্পে অর্থ সাশ্রয় কম হওয়ায় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, সেখানে খননকাজ কিছুটা দায়সারা হয়েছে।

তবে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সরাসরি তদারকিতে এই কাজগুলো করা হয়েছে। যেখানেই সমস্যা দেখা গেছে, পুনরায় সংস্কার করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলার সব মৃতপ্রায় খাল খনন করা হবে।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রকল্পগুলো হাতে নেওয়া হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত