সংবাদ

জবাব দিতে না পারলেই পুরোনো বিতর্ক সামনে আনে ব্যর্থ শাসকেরা : জামায়াত সেক্রেটারি


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৬ পিএম

জবাব দিতে না পারলেই পুরোনো বিতর্ক সামনে আনে ব্যর্থ শাসকেরা : জামায়াত সেক্রেটারি
ছবি : সংগৃহীত

পুরোনো রাজনৈতিক বিতর্ক সামনে এনে জনদুর্ভোগের বাস্তব কারণ আড়াল না করে সরকারকে জ্বালানি সংকট সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘জনদুর্ভোগের কোনো ইস্যুর জবাব দিতে না পারলেই ব্যর্থ শাসকেরা পুরোনো রাজনৈতিক বিতর্ক সামনে আনেন। বর্তমান সরকার ও সরকারপ্রধানের মধ্যেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।’

এর আগে কিশোরগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জামায়াতের নাম উল্লেখ না করে একাত্তরসহ বিভিন্ন সময়ে দলটির ভূমিকার সমালোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একাত্তর, ৮৬ ও ৯৬ সালে তাদের ভূমিকা কী ছিল এবং গত ১৭ বছরের আন্দোলনে তাদের রাজপথে দেখা যায়নি।

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের জবাবে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘দেশের এই কঠিন জনদুর্ভোগ আড়াল করতেই প্রধানমন্ত্রী অহেতুক বিতর্কের অবতারণা করেছেন। গত ছয় মাসে সরকারের হাতে দায়িত্ব পালনের যথেষ্ট সুযোগ থাকলেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যর্থতা ঢাকতে বিরোধীদলের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা চলছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ যেসব পুরোনো বিতর্ক আর পছন্দ করে না, মীমাংসিত অতীতের সেসব প্রসঙ্গ সাধারণত তখনই সামনে আনা হয়, যখন জনদুর্ভোগের জবাব দেওয়ার মতো কিছু থাকে না।’

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জামায়াত শুরু থেকেই গঠনমূলক ভূমিকা রাখছে দাবি করে তিনি জানান, গত ২১ মে জ্বালানি সংকট-সংক্রান্ত সংসদীয় বিশেষ কমিটিতে বিরোধীদলের সদস্যরা ১০ দফা সুপারিশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই পরিকল্পনার কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

জ্বালানি পরিস্থিতির তাৎক্ষণিক উন্নতির জন্য ৯০ দিনের মধ্যে ছয়টি উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে জামায়াত। প্রস্তাবগুলো হলো-গ্যাসকূপে দ্রুত ওয়ার্কওভার, বন্ধ ও কম উৎপাদনশীল কূপের তালিকা প্রকাশ, ভোলার গ্যাস সিএনজি/এলএনজি আকারে পরিবহন বাড়ানো, সিস্টেম লস ও অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে সাপ্তাহিক অগ্রগতি প্রকাশ, খাতভিত্তিক গ্যাস বণ্টনের সময়সূচি প্রকাশ এবং এসপিএম ও ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা কার্যকর করা।

এ ছাড়া জরুরি জ্বালানি সেল গঠন এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন শুরুর সময় ও শুল্কহার স্পষ্ট করারও দাবি জানিয়েছে দলটি।

জ্বালানি সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য জাতীয় সংসদের জরুরি বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের দাবি জানিয়েছে জামায়াত। এ লক্ষ্যে গত ১৪ আগস্ট রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন দলের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এ দাবির কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। সরকার কার্যকর ও স্বচ্ছ উদ্যোগ নিলে দায়িত্বশীল বিরোধীদল হিসেবে জামায়াত সহযোগিতা করবে এবং ৯০ দিন পর অগ্রগতির হিসাব চাইবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬


জবাব দিতে না পারলেই পুরোনো বিতর্ক সামনে আনে ব্যর্থ শাসকেরা : জামায়াত সেক্রেটারি

প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

পুরোনো রাজনৈতিক বিতর্ক সামনে এনে জনদুর্ভোগের বাস্তব কারণ আড়াল না করে সরকারকে জ্বালানি সংকট সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘জনদুর্ভোগের কোনো ইস্যুর জবাব দিতে না পারলেই ব্যর্থ শাসকেরা পুরোনো রাজনৈতিক বিতর্ক সামনে আনেন। বর্তমান সরকার ও সরকারপ্রধানের মধ্যেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।’

এর আগে কিশোরগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জামায়াতের নাম উল্লেখ না করে একাত্তরসহ বিভিন্ন সময়ে দলটির ভূমিকার সমালোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একাত্তর, ৮৬ ও ৯৬ সালে তাদের ভূমিকা কী ছিল এবং গত ১৭ বছরের আন্দোলনে তাদের রাজপথে দেখা যায়নি।

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের জবাবে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘দেশের এই কঠিন জনদুর্ভোগ আড়াল করতেই প্রধানমন্ত্রী অহেতুক বিতর্কের অবতারণা করেছেন। গত ছয় মাসে সরকারের হাতে দায়িত্ব পালনের যথেষ্ট সুযোগ থাকলেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যর্থতা ঢাকতে বিরোধীদলের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা চলছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ যেসব পুরোনো বিতর্ক আর পছন্দ করে না, মীমাংসিত অতীতের সেসব প্রসঙ্গ সাধারণত তখনই সামনে আনা হয়, যখন জনদুর্ভোগের জবাব দেওয়ার মতো কিছু থাকে না।’

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জামায়াত শুরু থেকেই গঠনমূলক ভূমিকা রাখছে দাবি করে তিনি জানান, গত ২১ মে জ্বালানি সংকট-সংক্রান্ত সংসদীয় বিশেষ কমিটিতে বিরোধীদলের সদস্যরা ১০ দফা সুপারিশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই পরিকল্পনার কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

জ্বালানি পরিস্থিতির তাৎক্ষণিক উন্নতির জন্য ৯০ দিনের মধ্যে ছয়টি উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে জামায়াত। প্রস্তাবগুলো হলো-গ্যাসকূপে দ্রুত ওয়ার্কওভার, বন্ধ ও কম উৎপাদনশীল কূপের তালিকা প্রকাশ, ভোলার গ্যাস সিএনজি/এলএনজি আকারে পরিবহন বাড়ানো, সিস্টেম লস ও অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে সাপ্তাহিক অগ্রগতি প্রকাশ, খাতভিত্তিক গ্যাস বণ্টনের সময়সূচি প্রকাশ এবং এসপিএম ও ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা কার্যকর করা।

এ ছাড়া জরুরি জ্বালানি সেল গঠন এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন শুরুর সময় ও শুল্কহার স্পষ্ট করারও দাবি জানিয়েছে দলটি।

জ্বালানি সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য জাতীয় সংসদের জরুরি বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের দাবি জানিয়েছে জামায়াত। এ লক্ষ্যে গত ১৪ আগস্ট রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন দলের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এ দাবির কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। সরকার কার্যকর ও স্বচ্ছ উদ্যোগ নিলে দায়িত্বশীল বিরোধীদল হিসেবে জামায়াত সহযোগিতা করবে এবং ৯০ দিন পর অগ্রগতির হিসাব চাইবে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত