মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পাহাড়ের পাদদেশ আর ছড়াগুলো থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব থামছেই না। সোমবার (১৭ আগস্ট) উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে এক যুবককে কারাদণ্ড দেওয়া হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ–যারা এই ব্যবসার মূল হোতা, তারা বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে উপজেলার ৫ নম্বর পুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলনের সময় ছাতির মিয়া (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়। শ্রীমঙ্গলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুল ইসলাম পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এর আগে রূপশপুর এলাকায় অভিযান চালালেও টের পেয়ে বালু দস্যুরা ছড়া পার হয়ে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
শ্রীমঙ্গলে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৩৭টি পাহাড়ি ছড়া ও নদী রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী এক শ্রেণির রাজনীতিক ও অসাধু ব্যক্তিরা শ্রমিক ও ট্রাকচালকদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। অতীতে সিন্দুরখান ও ভূনবীর ইউনিয়নে বালুবাহী ট্রাকের ধাক্কায় বৃদ্ধা, শিশু ও ছাত্র নিহতের ঘটনা ঘটলেও বালু দস্যুদের দৌরাত্ম্য কমেনি।
এলাকাবাসীর মনে বড় প্রশ্ন–অভিযান শুরুর আগেই খবর কীভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে যায়? তাদের দাবি, অভিযানে কেবল দিনমজুর শ্রমিক বা চালকেরা ধরা পড়েন, কিন্তু নেপথ্যের বিনিয়োগকারীরা ধরা পড়েন না। এমনকি এই অবৈধ কারবারে এক প্রভাবশালী সংবাদকর্মীর সংশ্লিষ্টতার গুঞ্জনও এলাকায় ডালপালা মেলেছে। ‘কালের কণ্ঠ’র জেলা প্রতিনিধি সাইফুল ইসলামের একটি ফেসবুক পোস্ট এই গুঞ্জনকে আরও উসকে দিয়েছে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিনহাজুল ইসলাম জানান, জনস্বার্থে ও পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে সচেতন মহলের মতে, শুধু শ্রমিকদের সাজা দিয়ে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। বালু উত্তোলনের অর্থের জোগানদাতা ও রাজনৈতিক আশ্রয়দাতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনলেই কেবল শ্রীমঙ্গলের ছড়াগুলো রক্ষা পাবে।

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পাহাড়ের পাদদেশ আর ছড়াগুলো থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব থামছেই না। সোমবার (১৭ আগস্ট) উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে এক যুবককে কারাদণ্ড দেওয়া হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ–যারা এই ব্যবসার মূল হোতা, তারা বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে উপজেলার ৫ নম্বর পুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলনের সময় ছাতির মিয়া (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়। শ্রীমঙ্গলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুল ইসলাম পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এর আগে রূপশপুর এলাকায় অভিযান চালালেও টের পেয়ে বালু দস্যুরা ছড়া পার হয়ে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
শ্রীমঙ্গলে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৩৭টি পাহাড়ি ছড়া ও নদী রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী এক শ্রেণির রাজনীতিক ও অসাধু ব্যক্তিরা শ্রমিক ও ট্রাকচালকদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। অতীতে সিন্দুরখান ও ভূনবীর ইউনিয়নে বালুবাহী ট্রাকের ধাক্কায় বৃদ্ধা, শিশু ও ছাত্র নিহতের ঘটনা ঘটলেও বালু দস্যুদের দৌরাত্ম্য কমেনি।
এলাকাবাসীর মনে বড় প্রশ্ন–অভিযান শুরুর আগেই খবর কীভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে যায়? তাদের দাবি, অভিযানে কেবল দিনমজুর শ্রমিক বা চালকেরা ধরা পড়েন, কিন্তু নেপথ্যের বিনিয়োগকারীরা ধরা পড়েন না। এমনকি এই অবৈধ কারবারে এক প্রভাবশালী সংবাদকর্মীর সংশ্লিষ্টতার গুঞ্জনও এলাকায় ডালপালা মেলেছে। ‘কালের কণ্ঠ’র জেলা প্রতিনিধি সাইফুল ইসলামের একটি ফেসবুক পোস্ট এই গুঞ্জনকে আরও উসকে দিয়েছে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিনহাজুল ইসলাম জানান, জনস্বার্থে ও পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে সচেতন মহলের মতে, শুধু শ্রমিকদের সাজা দিয়ে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। বালু উত্তোলনের অর্থের জোগানদাতা ও রাজনৈতিক আশ্রয়দাতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনলেই কেবল শ্রীমঙ্গলের ছড়াগুলো রক্ষা পাবে।

আপনার মতামত লিখুন