সংবাদ

সুন্দরগঞ্জে তিস্তার ভাঙনে ৫ পরিবার ও স্কুল বিলীন


প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম

সুন্দরগঞ্জে তিস্তার ভাঙনে ৫ পরিবার ও স্কুল বিলীন
ছবি : সংবাদ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে এক দিনেই পাঁচটি পরিবারের ঘরবাড়ি ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোর থেকে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভোর পর্যন্ত উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভোরের পাখি এলাকায় এই ভাঙন চলে। মুহূর্তের মধ্যে সব হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন নদীপাড়ের মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিস্তা নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোরের পাখি এলাকায় ভাঙন ভয়াবহ রূপ নেয়। প্রথমে নদী তীরের পাঁচটি বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীতে তলিয়ে যায়। এরপর নদীগর্ভে বিলীন হয় এলাকার একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’। চোখের সামনে নিজেদের মাথা গোঁজার ঠাঁই ও সন্তানদের প্রিয় বিদ্যাপীঠ হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

কাপাসিয়া ইউনিয়নের সাবেক সদস্য রাজা মিয়া বলেন, ‘তিস্তা মুহূর্তেই সব কেড়ে নিল। আমরা কিছুই রক্ষা করতে পারিনি। পাঁচটি পরিবার একদম নিঃস্ব হয়ে গেছে। শত শত পরিবার এখন আতঙ্কে আছে। বাচ্চাদের স্কুলটাও বিলীন হয়ে গেল। এখন ওরা কোথায় পড়বে?’

এ বিষয়ে কাপাসিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব আব্দুর রহিম সরকার বলেন, ‘আমরা আর অস্থায়ী সমাধান হিসেবে জিও ব্যাগ চাই না। প্রতিবছর জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে কাজ হয়, কিন্তু স্থায়ী সমাধান হয় না। নদী ভাঙন ঠেকাতে তিস্তা নদীতে স্থায়ী বাঁধ ও নদী শাসনের ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই।’

নদীভাঙনের শিকার পরিবারগুলো বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। বিদ্যালয়টি বিলীন হওয়ায় কয়েক শ শিক্ষার্থীর পড়াশোনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন বলে জানা গেছে। তবে এখনো ভাঙন রোধে কোনো দৃশ্যমান কার্যকর ব্যবস্থা শুরু হয়নি। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে কাপাসিয়া ইউনিয়নের আরও কয়েকটি গ্রাম তিস্তার গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬


সুন্দরগঞ্জে তিস্তার ভাঙনে ৫ পরিবার ও স্কুল বিলীন

প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে এক দিনেই পাঁচটি পরিবারের ঘরবাড়ি ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোর থেকে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভোর পর্যন্ত উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভোরের পাখি এলাকায় এই ভাঙন চলে। মুহূর্তের মধ্যে সব হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন নদীপাড়ের মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিস্তা নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোরের পাখি এলাকায় ভাঙন ভয়াবহ রূপ নেয়। প্রথমে নদী তীরের পাঁচটি বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীতে তলিয়ে যায়। এরপর নদীগর্ভে বিলীন হয় এলাকার একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’। চোখের সামনে নিজেদের মাথা গোঁজার ঠাঁই ও সন্তানদের প্রিয় বিদ্যাপীঠ হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

কাপাসিয়া ইউনিয়নের সাবেক সদস্য রাজা মিয়া বলেন, ‘তিস্তা মুহূর্তেই সব কেড়ে নিল। আমরা কিছুই রক্ষা করতে পারিনি। পাঁচটি পরিবার একদম নিঃস্ব হয়ে গেছে। শত শত পরিবার এখন আতঙ্কে আছে। বাচ্চাদের স্কুলটাও বিলীন হয়ে গেল। এখন ওরা কোথায় পড়বে?’

এ বিষয়ে কাপাসিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব আব্দুর রহিম সরকার বলেন, ‘আমরা আর অস্থায়ী সমাধান হিসেবে জিও ব্যাগ চাই না। প্রতিবছর জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে কাজ হয়, কিন্তু স্থায়ী সমাধান হয় না। নদী ভাঙন ঠেকাতে তিস্তা নদীতে স্থায়ী বাঁধ ও নদী শাসনের ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই।’

নদীভাঙনের শিকার পরিবারগুলো বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। বিদ্যালয়টি বিলীন হওয়ায় কয়েক শ শিক্ষার্থীর পড়াশোনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন বলে জানা গেছে। তবে এখনো ভাঙন রোধে কোনো দৃশ্যমান কার্যকর ব্যবস্থা শুরু হয়নি। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে কাপাসিয়া ইউনিয়নের আরও কয়েকটি গ্রাম তিস্তার গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত