সংবাদ

মিয়ানমারের বক্তব্যের প্রতিবাদে রোহিঙ্গাদের কড়া বিবৃতি


মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২০ পিএম

মিয়ানমারের বক্তব্যের প্রতিবাদে রোহিঙ্গাদের কড়া বিবৃতি

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা (ইউসিআর)। প্রতিবাদে ইউসিআর জানায় রোহিঙ্গারা ‘বাঙালি’ নয়; তারা রাখাইন রাজ্যের ঐতিহাসিক অধিবাসী এবং একটি স্বতন্ত্র জাতিগোষ্ঠী।

সংগঠনটির অভিযোগ, মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা সংকটের ইতিহাস বিকৃত করছে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে সংঘটিত অপরাধের দায় এড়িয়ে যেতে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে।

মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করে এলেও ইউসিআর বলেছে, তাদের নিজস্ব জাতিগত পরিচয় অস্বীকার করে কোনো টেকসই সমাধান বা প্রত্যাবাসন সম্ভব নয়। স্থায়ী সমাধানের জন্য রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় ও মৌলিক অধিকার স্বীকারের পাশাপাশি নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে। এতে রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করার পাশাপাশি দাবি করা হয়, ‘রোহিঙ্গা’ নামে কোনো স্বতন্ত্র জাতিগোষ্ঠী মিয়ানমারে নেই। 

একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে দেওয়া ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের তালিকা থেকে ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের তথ্য যাচাই এবং তাদের মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করার কথা জানায় দেশটি। 

মিয়ানমার আরও জানায়, রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে যাচাই হওয়া ব্যক্তিদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তারা কাজ করবে।

মিয়ানমারের ওই বক্তব্যের দুই দিন পর সোমবার (১৭ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এর বিভিন্ন দিকের পয়েন্টভিত্তিক জবাব দেয় ইউসিআর। সংগঠনটি বলেছে, মিয়ানমারের বক্তব্যে রোহিঙ্গা সংকটের প্রকৃত ইতিহাস আড়াল করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়ভাবে সংঘটিত নিপীড়নের দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। 

ইউসিআরের দাবি, রোহিঙ্গারা ‘বাঙালি’ নয়; তারা রাখাইন রাজ্যের ঐতিহাসিক অধিবাসী এবং একটি স্বতন্ত্র জাতিগোষ্ঠী। সংগঠনটির মতে, রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় অস্বীকার করা তাদের ওপর দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও নিপীড়নের অন্যতম কারণ। 

মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করে এলেও ইউসিআর বলেছে, তাদের নিজস্ব জাতিগত পরিচয় অস্বীকার করে কোনো টেকসই সমাধান বা প্রত্যাবাসন সম্ভব নয়।

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ২০১৬ ও ২০১৭ সালের সামরিক অভিযানকে মিয়ানমার ‘সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান’ হিসেবে যে ব্যাখ্যা দিয়েছে, তারও বিরোধিতা করেছে ইউসিআর। সংগঠনটির ভাষ্য, ওই অভিযানগুলোর সময় রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা, ধর্ষণ, গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া এবং ব্যাপক নিপীড়নের ঘটনা ঘটে। ২০১৭ সালের সহিংসতার পর সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয় বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, মিয়ানমার তাদের বিবৃতিতে ২০১৬ ও ২০১৭ সালের সহিংসতার জন্য রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলাকে দায়ী করে পরবর্তী সামরিক অভিযানকে ‘সন্ত্রাসবিরোধী ব্যবস্থা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। 

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের আগে শুধু পরিচয় যাচাই করাকে যথেষ্ট মনে করছে না ইউসিআর। সংগঠনটির দাবি, প্রত্যাবাসনের আগে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা, চলাচলের স্বাধীনতা ও সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। মিয়ানমারের যাচাই প্রক্রিয়া নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে সংগঠনটি। 

ইউসিআরের অভিযোগ, রোহিঙ্গাদের পরিচয় স্বীকারের ক্ষেত্রে তাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে নিবন্ধনের শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটি রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় অস্বীকারেরই শামিল বলে মনে করে সংগঠনটি। পরিচয় যাচাইয়ের পুরো প্রক্রিয়া স্বাধীনভাবে এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের নেতৃত্বে পরিচালনার দাবি জানিয়েছে ইউসিআর।

মিয়ানমারের ১৫ আগস্টের বিবৃতি অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে দেওয়া তালিকায় মোট ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের নাম ছিল। এর মধ্যে ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের তথ্য যাচাই করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

তবে মিয়ানমার জানিয়েছে, রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যাবাসন শুরু করা সম্ভব নয়।

ইউসিআরের মতে, সংখ্যাগত যাচাই বা প্রত্যাবাসনের তালিকা তৈরির চেয়ে বড় বিষয় হলো ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গারা সেখানে গিয়ে কী ধরনের নিরাপত্তা, অধিকার ও নাগরিক মর্যাদা পাবেন তা নিশ্চিত করা। ১৯৭৮ ও ১৯৯২ সালের প্রত্যাবাসনের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেছে ইউসিআর। 

সংগঠনটির দাবি, ওই সময় রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে মিয়ানমার সরকারের প্রতিশ্রুতির ওপর রোহিঙ্গাদের আস্থা তৈরি হয়নি।

এবার প্রত্যাবাসন হতে হবে স্বেচ্ছামূলক, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই এমন দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে পুরো প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে শুধু বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বিষয় হিসেবে দেখতে রাজি নয় ইউসিআর। সংগঠনটির মতে, রোহিঙ্গা সংকট মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত। তাই এর সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

বিবৃতিতে মিয়ানমার সরকারকে ‘অপপ্রচার’ বন্ধ করে রোহিঙ্গা সংকটের বাস্তবতা স্বীকার করার আহ্বান জানিয়েছে ইউসিআর। একই সঙ্গে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) মাধ্যমে মিয়ানমারের ওপর জবাবদিহির চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইউসিআর বলেছে, রোহিঙ্গাদের অস্তিত্ব মুছে ফেলা যাবে না। নিরাপত্তা, পরিচয় ও অধিকার নিশ্চিত করা হলে তারা নিজেদের মাতৃভূমিতে ফিরে যেতে প্রস্তুত রয়েছে।

সংগঠনটির মতে, শুধু প্রত্যাবাসনের সংখ্যা নির্ধারণ বা পরিচয় যাচাই করলেই রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান হবে না। স্থায়ী সমাধানের জন্য রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় ও মৌলিক অধিকার স্বীকারের পাশাপাশি নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬


মিয়ানমারের বক্তব্যের প্রতিবাদে রোহিঙ্গাদের কড়া বিবৃতি

প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা (ইউসিআর)। প্রতিবাদে ইউসিআর জানায় রোহিঙ্গারা ‘বাঙালি’ নয়; তারা রাখাইন রাজ্যের ঐতিহাসিক অধিবাসী এবং একটি স্বতন্ত্র জাতিগোষ্ঠী।

সংগঠনটির অভিযোগ, মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা সংকটের ইতিহাস বিকৃত করছে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে সংঘটিত অপরাধের দায় এড়িয়ে যেতে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে।

মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করে এলেও ইউসিআর বলেছে, তাদের নিজস্ব জাতিগত পরিচয় অস্বীকার করে কোনো টেকসই সমাধান বা প্রত্যাবাসন সম্ভব নয়। স্থায়ী সমাধানের জন্য রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় ও মৌলিক অধিকার স্বীকারের পাশাপাশি নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে। এতে রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করার পাশাপাশি দাবি করা হয়, ‘রোহিঙ্গা’ নামে কোনো স্বতন্ত্র জাতিগোষ্ঠী মিয়ানমারে নেই। 

একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে দেওয়া ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের তালিকা থেকে ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের তথ্য যাচাই এবং তাদের মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করার কথা জানায় দেশটি। 

মিয়ানমার আরও জানায়, রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে যাচাই হওয়া ব্যক্তিদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তারা কাজ করবে।

মিয়ানমারের ওই বক্তব্যের দুই দিন পর সোমবার (১৭ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এর বিভিন্ন দিকের পয়েন্টভিত্তিক জবাব দেয় ইউসিআর। সংগঠনটি বলেছে, মিয়ানমারের বক্তব্যে রোহিঙ্গা সংকটের প্রকৃত ইতিহাস আড়াল করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়ভাবে সংঘটিত নিপীড়নের দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। 

ইউসিআরের দাবি, রোহিঙ্গারা ‘বাঙালি’ নয়; তারা রাখাইন রাজ্যের ঐতিহাসিক অধিবাসী এবং একটি স্বতন্ত্র জাতিগোষ্ঠী। সংগঠনটির মতে, রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় অস্বীকার করা তাদের ওপর দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও নিপীড়নের অন্যতম কারণ। 

মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করে এলেও ইউসিআর বলেছে, তাদের নিজস্ব জাতিগত পরিচয় অস্বীকার করে কোনো টেকসই সমাধান বা প্রত্যাবাসন সম্ভব নয়।

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ২০১৬ ও ২০১৭ সালের সামরিক অভিযানকে মিয়ানমার ‘সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান’ হিসেবে যে ব্যাখ্যা দিয়েছে, তারও বিরোধিতা করেছে ইউসিআর। সংগঠনটির ভাষ্য, ওই অভিযানগুলোর সময় রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা, ধর্ষণ, গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া এবং ব্যাপক নিপীড়নের ঘটনা ঘটে। ২০১৭ সালের সহিংসতার পর সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয় বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, মিয়ানমার তাদের বিবৃতিতে ২০১৬ ও ২০১৭ সালের সহিংসতার জন্য রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলাকে দায়ী করে পরবর্তী সামরিক অভিযানকে ‘সন্ত্রাসবিরোধী ব্যবস্থা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। 

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের আগে শুধু পরিচয় যাচাই করাকে যথেষ্ট মনে করছে না ইউসিআর। সংগঠনটির দাবি, প্রত্যাবাসনের আগে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা, চলাচলের স্বাধীনতা ও সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। মিয়ানমারের যাচাই প্রক্রিয়া নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে সংগঠনটি। 

ইউসিআরের অভিযোগ, রোহিঙ্গাদের পরিচয় স্বীকারের ক্ষেত্রে তাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে নিবন্ধনের শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটি রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় অস্বীকারেরই শামিল বলে মনে করে সংগঠনটি। পরিচয় যাচাইয়ের পুরো প্রক্রিয়া স্বাধীনভাবে এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের নেতৃত্বে পরিচালনার দাবি জানিয়েছে ইউসিআর।

মিয়ানমারের ১৫ আগস্টের বিবৃতি অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে দেওয়া তালিকায় মোট ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের নাম ছিল। এর মধ্যে ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের তথ্য যাচাই করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

তবে মিয়ানমার জানিয়েছে, রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যাবাসন শুরু করা সম্ভব নয়।

ইউসিআরের মতে, সংখ্যাগত যাচাই বা প্রত্যাবাসনের তালিকা তৈরির চেয়ে বড় বিষয় হলো ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গারা সেখানে গিয়ে কী ধরনের নিরাপত্তা, অধিকার ও নাগরিক মর্যাদা পাবেন তা নিশ্চিত করা। ১৯৭৮ ও ১৯৯২ সালের প্রত্যাবাসনের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেছে ইউসিআর। 

সংগঠনটির দাবি, ওই সময় রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে মিয়ানমার সরকারের প্রতিশ্রুতির ওপর রোহিঙ্গাদের আস্থা তৈরি হয়নি।

এবার প্রত্যাবাসন হতে হবে স্বেচ্ছামূলক, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই এমন দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে পুরো প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে শুধু বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বিষয় হিসেবে দেখতে রাজি নয় ইউসিআর। সংগঠনটির মতে, রোহিঙ্গা সংকট মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত। তাই এর সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

বিবৃতিতে মিয়ানমার সরকারকে ‘অপপ্রচার’ বন্ধ করে রোহিঙ্গা সংকটের বাস্তবতা স্বীকার করার আহ্বান জানিয়েছে ইউসিআর। একই সঙ্গে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) মাধ্যমে মিয়ানমারের ওপর জবাবদিহির চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইউসিআর বলেছে, রোহিঙ্গাদের অস্তিত্ব মুছে ফেলা যাবে না। নিরাপত্তা, পরিচয় ও অধিকার নিশ্চিত করা হলে তারা নিজেদের মাতৃভূমিতে ফিরে যেতে প্রস্তুত রয়েছে।

সংগঠনটির মতে, শুধু প্রত্যাবাসনের সংখ্যা নির্ধারণ বা পরিচয় যাচাই করলেই রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান হবে না। স্থায়ী সমাধানের জন্য রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় ও মৌলিক অধিকার স্বীকারের পাশাপাশি নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত