দুই বছর আগে সহায়তার তিনটি ছাগল দিয়ে শুরু হয়েছিল তাদের যাত্রা। দিনরাত পরিচর্যা আর কঠোর পরিশ্রমে সেই তিনটি ছাগল এখন সংখ্যায় বেড়ে হয়েছে ১২ থেকে ১৫টি। নিজেদের ভাগ্য বদলানোর সেই আনন্দের দিনে জামালপুরের ৩০০ পরিবার বেছে নিলেন মানবিকতার এক অনন্য পথ। নিজেদের পালের একটি করে ছাগল তারা তুলে দিলেন আরও ৩০০ অসচ্ছল প্রতিবেশীর হাতে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে জামালপুর শহরের ইজ্জতুননেছা উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই সম্পদ হস্তান্তর করা হয়। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ জামালপুর এরিয়া প্রোগ্রাম ও উন্নয়ন সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পদ হস্তান্তর ও আনন্দ সহভাগিতা’।
সুবিধাভোগীদের একজন আমেনা বেগম। দুই বছর আগে তিনটি ছাগল পেয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে তার ১৫টি ছাগল রয়েছে। আজ তিনি নিজের পালে বড় হওয়া একটি ছাগল উপহার দিয়েছেন প্রতিবেশী সুরভী বেগমকে। আমেনা বলেন, ‘আমি চাই আমার মতো সুরভীও যেন একদিন স্বাবলম্বী হয়।’ ছাগল পেয়ে আনন্দিত সুরভীও বললেন, ‘আমিও একদিন আরেকজন অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়াব।’
আয়োজকেরা জানান, ৩০০ পরিবারকে শুধু ছাগলই দেওয়া হয়নি, তাদের সবজি চাষ ও আয় বাড়ানোর প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছিল। ফলে প্রতিটি পরিবার এখন স্বাবলম্বী। আজ তারা নিজেদের সম্পদ থেকে অন্যদের সহায়তা করছেন, যা টেকসই উন্নয়নের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
উন্নয়ন সংঘের পরিচালক (মানবসম্পদ) জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, ‘সুবিধাভোগীরা যখন নিজেদের অর্জন থেকে প্রতিবেশীর পাশে দাঁড়ান, সেটাই আমাদের কাজের প্রকৃত সাফল্য।’
অনুষ্ঠানের প্রশংসা করে জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতার বলেন, ‘একটি পরিবার নিজের অবস্থার উন্নতি করে যখন আরেকটির পাশে দাঁড়ায়, তখন সমাজে মানবিকতার বন্ধন আরও শক্তিশালী হয়। এই মডেলটি দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।’
আপনার মতামত লিখুন