লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিস যাওয়ার সময় নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার অন্তত পাঁচজন যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। এ ঘটনায় নিখোঁজদের পরিবারে শোকের মাতম চললেও দালালের ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে চাইছেন না। এদিকে, একই ঘটনার শিকার আরও চার যুবক মিশরের একটি হাসপাতালে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
নিখোঁজ যুবকরা হলেন-শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের চিকারকান্দি গ্রামের রিপন মিয়া, এনাম খান, মামুন খান, রনসী গ্রামের সাব্বির হোসেন তালহা এবং পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের শত্রুমর্দন গ্রামের হৃদয় পাল।
নিখোঁজ হৃদয় পালের বাবা রিন্টু পাল জানান, লিবিয়া প্রবাসী ওমর আলী ও স্থানীয় দালাল কুদ্দুস আলীর মাধ্যমে ১৩ লাখ টাকা চুক্তিতে তার ছেলে গত ৯ জুন দেশ ছাড়েন। ভারত, শ্রীলঙ্কা ও আরব আমিরাত হয়ে লিবিয়া পৌঁছান হৃদয়। গত ৩১ জুলাই শেষ কথা হলে হৃদয় জানিয়েছিলেন, দু-এক দিনের মধ্যেই তাকে নৌকায় (গেম) তোলা হবে। এরপর থেকে হৃদয়ের আর কোনো সন্ধান নেই।
একইভাবে ৩ আগস্টের পর থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় মামুন খান ও সাব্বির হোসেন তালহার। সাব্বিরের ভাই মুর্শেদ আলম জানান, ৩ আগস্ট শেষ কথা হওয়ার পর থেকে তারা দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার নবনিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিল্লোল চাকমা জানান, প্রশাসন নিখোঁজদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে। এখন পর্যন্ত পাঁচজন নিখোঁজ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের সঙ্গে ৩ আগস্টের পর আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, এই ঘটনায় চার বাংলাদেশি যুবক জীবিত উদ্ধার হয়ে মিশরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তারা হলেন-শান্তিগঞ্জ উপজেলার দরগাপাশা ইউনিয়নের সিচনী গ্রামের বদর উদ্দিন কামরান, বুরমপুর গ্রামের আলিম উদ্দিন, পাথারিয়া ইউনিয়নের আবু সাঈদ ও আব্দুল করিম। বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে।
শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি উল্লাহ বলেন, নিখোঁজদের স্বজনদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কেউ মিশরে আছেন বলেও তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ২৯ মার্চ ভূমধ্যসাগরে এক নৌকাডুবির ঘটনায় ১৮ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছিলেন, যাদের মধ্যে ১২ জনই ছিলেন সুনামগঞ্জের। সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই আবারও একই ধরনের ট্র্যাজেডির মুখে পড়ল জেলাটি।
আপনার মতামত লিখুন