গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চর এলাকার শিশুদের শিক্ষার একমাত্র ভরসা ‘ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ শেষ পর্যন্ত রক্ষা করা গেল না। পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ সম্প্রতি এলাকাটি পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। তীব্র নদীভাঙনের মুখে সোমবার (১৭ আগস্ট) থেকে বিদ্যালয় ভবনটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তিস্তার ভাঙন তীব্র হওয়ায় বিদ্যালয়টি রক্ষার জন্য তারা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলেন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা দফায় দফায় এলাকাটি পরিদর্শন করেন। সর্বশেষ গত ৮ আগস্ট পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করলে আশার আলো দেখেছিলেন চরের মানুষ। কিন্তু দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিদ্যালয় ভবনটি ভেঙে সরিয়ে নিতে হচ্ছে।
কাপাসিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মো. জামাল উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘টিও, ইউএনও, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ডিসিসহ সংশ্লিষ্ট সবাই পরিদর্শনে এসে শুধু আশ্বাসই দিয়েছেন। আজ পর্যন্ত বিদ্যালয়টি রক্ষায় একটি জিও ব্যাগও ফেলা হয়নি।’
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘গতকালও স্কুলে পাঠদান হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভোরে ভাঙন তীব্র হলে দ্রুত মালামাল সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করি। এরই মধ্যে স্কুলের একটি বেড়া ও তিনটি জানালা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট সবাই শুধু আশ্বাস দিয়েছেন, কেউ এগিয়ে আসেননি।’
উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুকুল চন্দ্র বর্মন জানান, নদীভাঙন শুরুর পর থেকেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে জানানো হয়েছে। কিন্তু সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।’
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয় রক্ষার জন্য এবার আলাদা কোনো জিও ব্যাগ বরাদ্দ ছিল না। তবে খবর পাওয়া মাত্রই ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। দ্রুতই জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হবে বলে তিনি দাবি করেন।
আপনার মতামত লিখুন