কিশোরগঞ্জের ভৈরবে রেলওয়ের জমিতে থাকা একটি শতবর্ষী বটগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি ও বিশিষ্ট চাল ব্যবসায়ী আলহাজ আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় শহরের বাগানবাড়ি এলাকায় রেলওয়ের লিজ নেওয়া জায়গায় অবস্থিত একটি রাইস মিলের ভেতর থেকে গাছটি কাটা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ এইচ এম আজিমুল হক ও বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (কার্য) মোয়াজ্জেম হোসেন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতেই ভৈরব থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গাছ কাটার খবর পেয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আবদুল্লাহ আল মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভূমি অফিসে ডাকা হয়। এসিল্যান্ডের সঙ্গে দেখা করার জন্য তিনি পাশের একটি রুমে অপেক্ষা করছিলেন। এরই মধ্যে ভৈরব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসিবুল পুলিশ ফোর্স নিয়ে সেখানে প্রবেশ করলে আবদুল্লাহ আল মামুন ও তার সহযোগীরা কৌশলে সেখান থেকে সটকে পড়েন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বাগানবাড়ি মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, এক সময়ের বিশাল বটগাছের সেই ছায়াঘেরা পরিবেশ আর নেই। তপ্ত রোদে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে আছে এলাকাটি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গাছটি কেবল পরিবেশের সৌন্দর্যই বাড়াত না, বরং এটি ছিল অসংখ্য পাখির নিরাপদ আবাসন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী ও বাসিন্দা বলেন, এই বটগাছের ছায়ায় প্রায় ১৫ থেকে ২০টি দোকান ছিল। সকাল-সন্ধ্যা পাখির কিচিরমিচিরে মুখরিত থাকত এলাকাটি। পথচারীরা ক্লান্তি মেটাতে এখানে আশ্রয় নিতেন। গাছটি কেটে ফেলায় এখন খাঁ খাঁ করছে চারপাশ।
বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (কার্য) শেখ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘গাছ কাটার খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। মামুন তার অপরাধের কথা স্বীকারও করেছিলেন। কিন্তু কথা বলার একপর্যায়ে তিনি কাউকে কিছু না জানিয়ে ভূমি অফিস থেকে পালিয়ে যান। বিনা অনুমতিতে গাছ কেটে তিনি অপরাধ করেছেন, তাই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, সরকারি রেলওয়ের জমিতে অনুমতি ছাড়া গাছ কাটার অভিযোগে একজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৮-১০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। আসামিদের ধরতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ এইচ এম আজিমুল হক বলেন, ‘ঘটনাস্থলে আমরা গাছের কাণ্ড ও ডালপালার অসংখ্য টুকরো পেয়েছি। শতবর্ষী একটি গাছ এভাবে কেটে ফেলা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হলেও তিনি পালিয়ে যাওয়ায় কথা বলা সম্ভব হয়নি। আমরা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।’

বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে রেলওয়ের জমিতে থাকা একটি শতবর্ষী বটগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি ও বিশিষ্ট চাল ব্যবসায়ী আলহাজ আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় শহরের বাগানবাড়ি এলাকায় রেলওয়ের লিজ নেওয়া জায়গায় অবস্থিত একটি রাইস মিলের ভেতর থেকে গাছটি কাটা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ এইচ এম আজিমুল হক ও বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (কার্য) মোয়াজ্জেম হোসেন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতেই ভৈরব থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গাছ কাটার খবর পেয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আবদুল্লাহ আল মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভূমি অফিসে ডাকা হয়। এসিল্যান্ডের সঙ্গে দেখা করার জন্য তিনি পাশের একটি রুমে অপেক্ষা করছিলেন। এরই মধ্যে ভৈরব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসিবুল পুলিশ ফোর্স নিয়ে সেখানে প্রবেশ করলে আবদুল্লাহ আল মামুন ও তার সহযোগীরা কৌশলে সেখান থেকে সটকে পড়েন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বাগানবাড়ি মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, এক সময়ের বিশাল বটগাছের সেই ছায়াঘেরা পরিবেশ আর নেই। তপ্ত রোদে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে আছে এলাকাটি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গাছটি কেবল পরিবেশের সৌন্দর্যই বাড়াত না, বরং এটি ছিল অসংখ্য পাখির নিরাপদ আবাসন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী ও বাসিন্দা বলেন, এই বটগাছের ছায়ায় প্রায় ১৫ থেকে ২০টি দোকান ছিল। সকাল-সন্ধ্যা পাখির কিচিরমিচিরে মুখরিত থাকত এলাকাটি। পথচারীরা ক্লান্তি মেটাতে এখানে আশ্রয় নিতেন। গাছটি কেটে ফেলায় এখন খাঁ খাঁ করছে চারপাশ।
বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (কার্য) শেখ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘গাছ কাটার খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। মামুন তার অপরাধের কথা স্বীকারও করেছিলেন। কিন্তু কথা বলার একপর্যায়ে তিনি কাউকে কিছু না জানিয়ে ভূমি অফিস থেকে পালিয়ে যান। বিনা অনুমতিতে গাছ কেটে তিনি অপরাধ করেছেন, তাই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, সরকারি রেলওয়ের জমিতে অনুমতি ছাড়া গাছ কাটার অভিযোগে একজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৮-১০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। আসামিদের ধরতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ এইচ এম আজিমুল হক বলেন, ‘ঘটনাস্থলে আমরা গাছের কাণ্ড ও ডালপালার অসংখ্য টুকরো পেয়েছি। শতবর্ষী একটি গাছ এভাবে কেটে ফেলা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হলেও তিনি পালিয়ে যাওয়ায় কথা বলা সম্ভব হয়নি। আমরা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।’

আপনার মতামত লিখুন