বৈরী আবহাওয়া, টানা বৃষ্টি আর বিদ্যুৎ–সংকটে বরিশালের ১৫ দিনব্যাপী জেলা বৃক্ষমেলায় ধস নেমেছে। মেলায় দর্শনার্থীর আনাগোনা থাকলেও বিক্রি না হওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের শঙ্কায় পড়েছেন নার্সারি মালিক ও ব্যবসায়ীরা।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ স্টল ক্রেতাশূন্য। ব্যবসায়ীরা অলস সময় পার করছেন। স্বরূপকাঠি থেকে আসা ‘মা মণি নার্সারি’র মালিক রহিম জানান, বৃক্ষপ্রেমীরা মেলায় এসে গাছ দেখে ছবি তুললেও চারা কিনছেন না। ২০ বছর ধরে এই পেশায় থাকা ‘তরুলতা নার্সারি’র নান্নু মিয়া বলেন, ‘এবারের বিক্রি দেখে আমি হতবাক। দুজন কর্মচারীর খরচসহ সব মিলিয়ে বড় লোকসান গুনতে হবে।’
ব্যবসায়ীদের প্রধান অভিযোগ বিদ্যুৎ নিয়ে। তারা জানান, সাধারণত সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত বেচা-কেনা বেশি হয়। কিন্তু সরকারি নির্দেশনার অজুহাতে রাত ৯টার পর বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকি সন্ধ্যার পর দুই ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে অন্ধকারে দোকান চালাতে হচ্ছে।
এবারের মেলায় ছবেদা, ভিয়েতনামি মাল্টা, রাম্বুটান, অ্যাভোকাডো, পিংক কাঁঠালসহ ১০০-এর বেশি প্রজাতির ফলজ ও বনজ চারা রয়েছে। মেলায় মোট ১৬টি স্টল অংশ নিয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে ৫ হাজার টাকার চারা বিক্রি হলেও এবার তা তলানিতে নেমেছে।
আগামী ২৩ আগস্ট মেলা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সময় বাড়ানো হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। বরিশাল বিভাগীয় বন বিভাগ জানায়, বিক্রির পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
এ বিষয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বলেন, ‘আপাতত ২৩ আগস্ট পর্যন্তই মেলা চলবে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারি নির্দেশনা মেনে নির্দিষ্ট সময়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করা হচ্ছে। বিক্রি বাড়াতে জনগণকে আরও উৎসাহিত করা প্রয়োজন।’
আপনার মতামত লিখুন