সংবাদ

মাকে হত্যা করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে চেয়েছিলেন মেয়ে, ৩ বছর পর রহস্য ফাঁস


প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ
প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম

মাকে হত্যা করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে চেয়েছিলেন মেয়ে, ৩ বছর পর রহস্য ফাঁস
ছবি : সংবাদ

প্রতিপক্ষকে হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জমির মালিকানা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন মেয়ে চম্পা বেগম (৪৮)। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী নিজের জন্মদাত্রী মা হালিমা বেগমকে (৬৫) নির্মমভাবে হত্যা করেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, নিজে বাদী হয়ে প্রতিপক্ষের পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাও করেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দীর্ঘ তদন্তে বেরিয়ে এসেছে সেই পৈশাচিক সত্য।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে কিশোরগঞ্জ পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ। এর আগে মামলার বাদী ও নিহতের মেয়ে চম্পা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। চম্পা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে নিজের মাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

পিবিআই জানায়, ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ রাতে করিমগঞ্জ উপজেলার সিন্ড্রিফ গ্রাম থেকে হালিমা বেগম নিখোঁজ হন। পরদিন বাড়ি থেকে ৩০০ গজ দূরে একটি পতিত জমি থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের গলায় রশি প্যাঁচানো ও মুখে আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় মেয়ে চম্পা বাদী হয়ে প্রতিবেশী বিল্লালসহ পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন।

মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর পিবিআই বাদীর কথাবার্তায় অসংগতি পায়। নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে বেরিয়ে আসে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ। মূলত প্রতিবেশী বিল্লালের সঙ্গে সাড়ে তিন শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল হালিমার। এই জমি দখল ও প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে সহযোগীদের নিয়ে মাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন চম্পা।

ঘটনার ১৫ দিন আগে জমি নিয়ে বিরোধে বিল্লালের হাতে হালিমা বেগম আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। চম্পা ভাবলেন, এই সুযোগে মাকে মেরে ফেললে এর দায় অনায়াসেই বিল্লালের ওপর চাপানো যাবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৩ মার্চ রাতে মীমাংসার কথা বলে মাকে হাসপাতাল থেকে বাড়ি নিয়ে আসেন চম্পা ও তার সহযোগীরা। ওই রাতেই তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ ফেলে রাখা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, ‘জমি পাওয়ার পথ সহজ করতে এবং প্রতিপক্ষকে চিরতরে শেষ করে দিতেই চম্পা এই পথ বেছে নেন। কিন্তু সত্য ঢাকা থাকেনি।’ তদন্তে নেতৃত্ব দেওয়া পরিদর্শক মো. আশরাফুল আলমসহ অন্য কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬


মাকে হত্যা করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে চেয়েছিলেন মেয়ে, ৩ বছর পর রহস্য ফাঁস

প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

প্রতিপক্ষকে হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জমির মালিকানা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন মেয়ে চম্পা বেগম (৪৮)। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী নিজের জন্মদাত্রী মা হালিমা বেগমকে (৬৫) নির্মমভাবে হত্যা করেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, নিজে বাদী হয়ে প্রতিপক্ষের পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাও করেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দীর্ঘ তদন্তে বেরিয়ে এসেছে সেই পৈশাচিক সত্য।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে কিশোরগঞ্জ পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ। এর আগে মামলার বাদী ও নিহতের মেয়ে চম্পা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। চম্পা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে নিজের মাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

পিবিআই জানায়, ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ রাতে করিমগঞ্জ উপজেলার সিন্ড্রিফ গ্রাম থেকে হালিমা বেগম নিখোঁজ হন। পরদিন বাড়ি থেকে ৩০০ গজ দূরে একটি পতিত জমি থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের গলায় রশি প্যাঁচানো ও মুখে আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় মেয়ে চম্পা বাদী হয়ে প্রতিবেশী বিল্লালসহ পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন।

মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর পিবিআই বাদীর কথাবার্তায় অসংগতি পায়। নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে বেরিয়ে আসে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ। মূলত প্রতিবেশী বিল্লালের সঙ্গে সাড়ে তিন শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল হালিমার। এই জমি দখল ও প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে সহযোগীদের নিয়ে মাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন চম্পা।

ঘটনার ১৫ দিন আগে জমি নিয়ে বিরোধে বিল্লালের হাতে হালিমা বেগম আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। চম্পা ভাবলেন, এই সুযোগে মাকে মেরে ফেললে এর দায় অনায়াসেই বিল্লালের ওপর চাপানো যাবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৩ মার্চ রাতে মীমাংসার কথা বলে মাকে হাসপাতাল থেকে বাড়ি নিয়ে আসেন চম্পা ও তার সহযোগীরা। ওই রাতেই তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ ফেলে রাখা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, ‘জমি পাওয়ার পথ সহজ করতে এবং প্রতিপক্ষকে চিরতরে শেষ করে দিতেই চম্পা এই পথ বেছে নেন। কিন্তু সত্য ঢাকা থাকেনি।’ তদন্তে নেতৃত্ব দেওয়া পরিদর্শক মো. আশরাফুল আলমসহ অন্য কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত