নদীর ওপর সগর্বে দাঁড়িয়ে আছে ৯০ মিটার দীর্ঘ কংক্রিটের সেতু। ১২ কোটি টাকা খরচ করে বানানো ঝকঝকে এই সেতুটি দুই বছর আগে কাজ শেষ হলেও স্থানীয়দের কোনো কাজে আসছে না। কারণ, সেতুর এক পাশে সংযোগ সড়ক নেই। ফলে সেতুতে উঠতে স্থানীয়রা তৈরি করেছেন একটি বাঁশের সাঁকো বা মই। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে সেই মই বেয়ে মূল সেতুতে উঠছেন।
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ঘড়িসার ইউনিয়নে হুগলী নদীর ওপর নির্মিত এই সেতুটি এখন স্থানীয়দের কাছে এক অদ্ভুত যন্ত্রণার নাম। অথচ নড়িয়ার ঘড়িসার ও ভেদরগঞ্জের চরভাগাসহ আশপাশের কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াত সহজ করতে থিরপাড়া এলাকায় এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু এক পাশের ১০৫ মিটার সংযোগ সড়ক না থাকায় যাতায়াত থমকে আছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের নভেম্বরে ১২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের জুনে মূল সেতুর কাজ শেষ হয়। সেতুর এক পাশে সংযোগ সড়ক হলেও পশ্চিম পাশে ১০৫ মিটার জায়গা নিয়ে বেঁধেছে বিপত্তি। ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির মালিকেরা ক্ষতিপূরণ ছাড়া জমি দিতে নারাজ। অথচ প্রকল্পের বাজেটে জমি অধিগ্রহণের জন্য কোনো অর্থই বরাদ্দ রাখা হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর এক প্রান্তে ওঠার জন্য কোনো রাস্তা নেই। সেখানে প্রায় ১৫ ফুট উঁচু বাঁশের একটি মই বা সাঁকো দিয়ে মানুষ সেতুতে উঠছে। বৃদ্ধ, নারী ও শিশুদের জন্য এই পারাপার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে এটি মরণফাঁদে পরিণত হয়।
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আলামিন হোসেন বলে, ‘বৃষ্টি হলে মই পিচ্ছিল হয়ে যায়। অনেকবার পড়ে গিয়ে ব্যথা পেয়েছি। স্কুলে যেতেও দেরি হয়ে যায়।’ স্থানীয় বাসিন্দা আমেনা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ব্রিজ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আমাদের কপাল খোলেনি। অসুস্থ রোগী নিয়ে এই মই বাওয়া অসম্ভব।’
কৃষক মান্নান মুন্সি জানান, সড়ক না থাকায় উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে দুই কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হয়। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে। অন্যদিকে জমির মালিক শাহ আলম মাল বলেন, ‘আমরা জমি দিতে রাজি, কিন্তু ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসন তো দিতে হবে। আমার দোকান সরালে আমার আয় বন্ধ হয়ে যাবে।’
এলজিইডির নড়িয়া উপজেলা প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, জমি নিয়ে জটিলতার কারণেই সংযোগ সড়কটি করা যাচ্ছে না। জমির মালিকেরা ক্ষতিপূরণ না পেলে কাজ করতে দিচ্ছেন না।
শরীয়তপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রাফেউল ইসলাম জানান, শুরুতে স্থানীয়রা জমি দেওয়ার মৌখিক প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে পিছিয়ে গেছেন। প্রকল্পের বাজেটে জমি কেনার টাকা না থাকায় এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। তবে বিকল্প কোনো উপায়ে দ্রুত সড়কটি করার চেষ্টা চলছে।
সেতু আছে কিন্তু পথ নেই–এই রসিকতা এখন ঘড়িসার এলাকার মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী। ১২ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল এখন ঝুলে আছে মাত্র একশ মিটারের এক টুকরো সড়কের জন্য।

শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬
নদীর ওপর সগর্বে দাঁড়িয়ে আছে ৯০ মিটার দীর্ঘ কংক্রিটের সেতু। ১২ কোটি টাকা খরচ করে বানানো ঝকঝকে এই সেতুটি দুই বছর আগে কাজ শেষ হলেও স্থানীয়দের কোনো কাজে আসছে না। কারণ, সেতুর এক পাশে সংযোগ সড়ক নেই। ফলে সেতুতে উঠতে স্থানীয়রা তৈরি করেছেন একটি বাঁশের সাঁকো বা মই। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে সেই মই বেয়ে মূল সেতুতে উঠছেন।
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ঘড়িসার ইউনিয়নে হুগলী নদীর ওপর নির্মিত এই সেতুটি এখন স্থানীয়দের কাছে এক অদ্ভুত যন্ত্রণার নাম। অথচ নড়িয়ার ঘড়িসার ও ভেদরগঞ্জের চরভাগাসহ আশপাশের কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াত সহজ করতে থিরপাড়া এলাকায় এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু এক পাশের ১০৫ মিটার সংযোগ সড়ক না থাকায় যাতায়াত থমকে আছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের নভেম্বরে ১২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের জুনে মূল সেতুর কাজ শেষ হয়। সেতুর এক পাশে সংযোগ সড়ক হলেও পশ্চিম পাশে ১০৫ মিটার জায়গা নিয়ে বেঁধেছে বিপত্তি। ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির মালিকেরা ক্ষতিপূরণ ছাড়া জমি দিতে নারাজ। অথচ প্রকল্পের বাজেটে জমি অধিগ্রহণের জন্য কোনো অর্থই বরাদ্দ রাখা হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর এক প্রান্তে ওঠার জন্য কোনো রাস্তা নেই। সেখানে প্রায় ১৫ ফুট উঁচু বাঁশের একটি মই বা সাঁকো দিয়ে মানুষ সেতুতে উঠছে। বৃদ্ধ, নারী ও শিশুদের জন্য এই পারাপার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে এটি মরণফাঁদে পরিণত হয়।
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আলামিন হোসেন বলে, ‘বৃষ্টি হলে মই পিচ্ছিল হয়ে যায়। অনেকবার পড়ে গিয়ে ব্যথা পেয়েছি। স্কুলে যেতেও দেরি হয়ে যায়।’ স্থানীয় বাসিন্দা আমেনা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ব্রিজ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আমাদের কপাল খোলেনি। অসুস্থ রোগী নিয়ে এই মই বাওয়া অসম্ভব।’
কৃষক মান্নান মুন্সি জানান, সড়ক না থাকায় উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে দুই কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হয়। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে। অন্যদিকে জমির মালিক শাহ আলম মাল বলেন, ‘আমরা জমি দিতে রাজি, কিন্তু ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসন তো দিতে হবে। আমার দোকান সরালে আমার আয় বন্ধ হয়ে যাবে।’
এলজিইডির নড়িয়া উপজেলা প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, জমি নিয়ে জটিলতার কারণেই সংযোগ সড়কটি করা যাচ্ছে না। জমির মালিকেরা ক্ষতিপূরণ না পেলে কাজ করতে দিচ্ছেন না।
শরীয়তপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রাফেউল ইসলাম জানান, শুরুতে স্থানীয়রা জমি দেওয়ার মৌখিক প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে পিছিয়ে গেছেন। প্রকল্পের বাজেটে জমি কেনার টাকা না থাকায় এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। তবে বিকল্প কোনো উপায়ে দ্রুত সড়কটি করার চেষ্টা চলছে।
সেতু আছে কিন্তু পথ নেই–এই রসিকতা এখন ঘড়িসার এলাকার মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী। ১২ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল এখন ঝুলে আছে মাত্র একশ মিটারের এক টুকরো সড়কের জন্য।

আপনার মতামত লিখুন