সংবাদ

গৃহবধূকে বাথরুমে আটকে লুট, দস্যুরা উধাও!


প্রতিনিধি, ফেনী
প্রতিনিধি, ফেনী
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম

গৃহবধূকে বাথরুমে আটকে লুট,  দস্যুরা উধাও!
ছবি : সংগৃহীত

ফেনী শহরের মহিপালে প্রবাসীর বাসায় ঢুকে গৃহবধূকে বাথরুমে আটকে রেখে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় মামলা হয়েছে। তবে ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যাওয়া সেই দুই দস্যুর পরিচয় এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। প্রযুক্তির যুগে স্পষ্ট ছবি হাতে থাকলেও দস্যুরা যেন ‘হাওয়ায় মিলিয়ে’ গেছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে মহিপালের রেহান ম্যানশনে প্রবাসী প্রকৌশলী মো. নুরুজ্জামানের বাসায় এই দুর্ধর্ষ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) নুরুজ্জামান বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে নুরুজ্জামানের স্ত্রী শাহানা আক্তার বাসায় একা ছিলেন। সকাল ৮টা ৩৮ মিনিটে কলিংবেলের শব্দ শুনে তিনি দরজা খুললে টি-শার্ট ও টুপি পরা দুই ব্যক্তি জোরপূর্বক ভেতরে ঢোকেন। দস্যুরা ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে শাহানার মুখ চেপে ধরেন এবং তার সন্তানকে নিচে জিম্মি করা হয়েছে বলে ভয় দেখান। এরপর তাকে বাথরুমে আটকে রেখে আলমারিতে থাকা নগদ ১০ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং প্রায় ১৩ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে পালিয়ে যান।

বাসার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ৮টা ৩৭ মিনিটে দস্যুরা ভবনে প্রবেশ করেন এবং ৮টা ৫৫ মিনিটে লুট করা মালামাল নিয়ে নির্বিঘ্নে বের হয়ে যান।

প্রবাসী প্রকৌশলী মো. নুরুজ্জামান জানান, বাড়ির নির্মাণকাজের জন্য এক মাস আগে ব্যাংক থেকে ওই টাকা তুলে রাখা হয়েছিল। ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার তিনি সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে মামলা করেন। তার দাবি, এটি একটি সুপরিকল্পিত ঘটনা। অপরাধীরা আগে থেকেই জানত বাসায় টাকা ও স্বর্ণ রাখা আছে।

ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মু. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশ দস্যুদের শনাক্ত করতে কাজ করছে। বেশ কিছু সূত্র আমাদের হাতে আছে, সেগুলো যাচাই করা হচ্ছে। আশা করছি দ্রুতই তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।’

এদিকে দিনের বেলায় জনবহুল এলাকায় এমন দুর্ধর্ষ ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ থেকে সংগৃহীত দস্যুদের ছবি এখন ফেসবুকজুড়ে ভাইরাল। নেটিজেনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, আবাসিক এলাকাগুলোতে পুলিশি টহল ও নজরদারি না বাড়ালে এমন অপরাধ আরও বাড়তে পারে।

পুলিশ বলছে, দস্যুরা পেশাদার চক্রের সদস্য হতে পারে। তাদের শনাক্তে জেলা ও গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬


গৃহবধূকে বাথরুমে আটকে লুট, দস্যুরা উধাও!

প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ফেনী শহরের মহিপালে প্রবাসীর বাসায় ঢুকে গৃহবধূকে বাথরুমে আটকে রেখে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় মামলা হয়েছে। তবে ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যাওয়া সেই দুই দস্যুর পরিচয় এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। প্রযুক্তির যুগে স্পষ্ট ছবি হাতে থাকলেও দস্যুরা যেন ‘হাওয়ায় মিলিয়ে’ গেছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে মহিপালের রেহান ম্যানশনে প্রবাসী প্রকৌশলী মো. নুরুজ্জামানের বাসায় এই দুর্ধর্ষ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) নুরুজ্জামান বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে নুরুজ্জামানের স্ত্রী শাহানা আক্তার বাসায় একা ছিলেন। সকাল ৮টা ৩৮ মিনিটে কলিংবেলের শব্দ শুনে তিনি দরজা খুললে টি-শার্ট ও টুপি পরা দুই ব্যক্তি জোরপূর্বক ভেতরে ঢোকেন। দস্যুরা ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে শাহানার মুখ চেপে ধরেন এবং তার সন্তানকে নিচে জিম্মি করা হয়েছে বলে ভয় দেখান। এরপর তাকে বাথরুমে আটকে রেখে আলমারিতে থাকা নগদ ১০ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং প্রায় ১৩ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে পালিয়ে যান।

বাসার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ৮টা ৩৭ মিনিটে দস্যুরা ভবনে প্রবেশ করেন এবং ৮টা ৫৫ মিনিটে লুট করা মালামাল নিয়ে নির্বিঘ্নে বের হয়ে যান।

প্রবাসী প্রকৌশলী মো. নুরুজ্জামান জানান, বাড়ির নির্মাণকাজের জন্য এক মাস আগে ব্যাংক থেকে ওই টাকা তুলে রাখা হয়েছিল। ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার তিনি সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে মামলা করেন। তার দাবি, এটি একটি সুপরিকল্পিত ঘটনা। অপরাধীরা আগে থেকেই জানত বাসায় টাকা ও স্বর্ণ রাখা আছে।

ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মু. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশ দস্যুদের শনাক্ত করতে কাজ করছে। বেশ কিছু সূত্র আমাদের হাতে আছে, সেগুলো যাচাই করা হচ্ছে। আশা করছি দ্রুতই তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।’

এদিকে দিনের বেলায় জনবহুল এলাকায় এমন দুর্ধর্ষ ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ থেকে সংগৃহীত দস্যুদের ছবি এখন ফেসবুকজুড়ে ভাইরাল। নেটিজেনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, আবাসিক এলাকাগুলোতে পুলিশি টহল ও নজরদারি না বাড়ালে এমন অপরাধ আরও বাড়তে পারে।

পুলিশ বলছে, দস্যুরা পেশাদার চক্রের সদস্য হতে পারে। তাদের শনাক্তে জেলা ও গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত