তীব্র গ্যাস সংকটে দেশে অন্তত ৩০০ নিট পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং সময়মতো পণ্য দিতে না পারায় বিদেশি ক্রেতারা তাদের ক্রয়াদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোতে সরিয়ে নিচ্ছেন বলে জানিয়েছে বিকেএমইএ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গণপরিবহন ছাড়া অন্য সব যানবাহনে সিএনজি সরবরাহ বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার (২২ আগস্ট) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জে বিকেএমইএ’র প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এই আশঙ্কার কথা জানান। তিনি বলেন, গত ২০ জুলাই থেকে গ্যাস সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে এবং গত এক মাসে নিট খাতের রপ্তানি আয় অন্তত ৪০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, ‘গ্যাসের চাপ শূন্য হয়ে যাওয়ায় তিন শতাধিক কারখানায় উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ। বিদেশি ক্রেতারা শঙ্কিত যে আমরা সময়মতো পণ্য দিতে পারব কি না। ফলে আগামী সিজনের অনেক অর্ডার তারা প্রতিবেশী দেশগুলোতে সরিয়ে নিচ্ছে। আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে।’
সংকট মোকাবিলায় বিকেএমইএ’র পক্ষ থেকে সরকারের কাছে বেশ কিছু দাবি জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-জুন ও জুলাই মাসের বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল পরিশোধে ১২ মাসের কিস্তির সুবিধা দেওয়া, বিল বকেয়া থাকলেও সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা এবং সব ধরনের অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা।
এছাড়া গ্যাস সংকটের কারণে ব্যবসায়ীরা নিয়মিত ঋণের কিস্তি দিতে না পারলেও তাদের আগামী ৬ মাস ‘ক্ল্যাসিফাইড’ বা খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত না করতে ব্যাংকগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মোহাম্মদ হাতেম।
সংকট সমাধানের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা জানতে চেয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা অন্ধকারে আছি। কবে এই সমস্যার সমাধান হবে সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত ব্রিফিং দরকার। সঠিক তথ্যের অভাবে নানা গুজব ছড়াচ্ছে।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএ’র নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি অমল পোদ্দার, সহ-সভাপতি মোরশেদ সারোয়ার সোহেল এবং বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান।
আপনার মতামত লিখুন