সংবাদ

লোডশেডিংয়ে পাবনা-সিরাজগঞ্জে ২ লাখ তাঁত বন্ধ, বেকার ৬ লাখ


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, পাবনা
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, পাবনা
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম

লোডশেডিংয়ে পাবনা-সিরাজগঞ্জে ২ লাখ তাঁত বন্ধ, বেকার ৬ লাখ
ঘন ঘন লোডশেডিং, ডিজেল সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি বৃহত্তর পাবনা জেলার দুই লাখ তাঁত বন্ধ বেকার হয়ে পড়েছেন ছয় লাখ শ্রমিক

ঘন ঘন লোডশেডিং, ডিজেল সংকট ও মূল্যবৃদ্ধিতে পাবনা-সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের বিদ্যুৎচালিত তাঁত কারখানাগুলোতে কাপড় উৎপাদন ধসে পড়েছে। দিকে ডিজেল সংকট, তাঁত উপকরণের দাম বৃদ্ধিসহ বৈশ্বিক মন্দার কারণে তাঁত বস্ত্রের চাহিদা কমে গেছে। এতে অব্যাহত লোকসানে প্রায় দুই লাখ বিদ্যুৎচালিত পাওয়ার লুম ও চিত্তরঞ্জন তাঁত বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে বেকার হয়ে পড়েছেন প্রায় ছয় লাখ প্রান্তিক-ক্ষুদ্র তাঁতী, শ্রমিক ও জাগালী। ঊর্ধ্বমুখী দ্রব্যমূল্যের এই বাজারে তাঁতী ও বেকার শ্রমিকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবিক জীবন যাপন করছেন।

বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের পাবনার সাঁথিয়া ও সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর বেসিক সেন্টারের সূত্রে জানা গেছে, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ তাঁত সমৃদ্ধ জেলা হিসেবে পরিচিত। বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী দুটি জেলায় বিদ্যুৎচালিত পাওয়ারলুম ও চিত্তরঞ্জন তাঁতের সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার লাখ। পাবনা সদর, সাঁথিয়া, সুজানগর, বেড়া, সিরাজগঞ্জের চৌহালীর এনায়েতপুর, শাহজাদপুর, বেলকুচি, উল্লাপাড়া ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় তাঁতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

এ অঞ্চলের তাঁতে উৎপাদিত কাপড় দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি হতো। কিন্তু তাঁত পল্লীগুলোতে চাহিদা মতো বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় অধিকাংশ তাঁত কারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। লোডশেডিংয়ের কারণে কাপড় উৎপাদন ধসে পড়েছে। আবার যে পরিমাণ কাপড় উৎপাদিত হচ্ছে সেগুলো হাটে বিক্রি হচ্ছে না। সে কারণে অনেক মালিক তাঁত কারখানা বন্ধ করে দিয়েছেন।

তাঁত প্রধান এলাকাগুলো ঘুরে দেখা যায়, তাঁতীপাড়ায় আগের মতো খট খট শব্দ নেই। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে কাজ বন্ধ। কারখানার সামনে কয়েকজন তাঁত শ্রমিক গোল হয়ে বসে আছেন। মলিন মুখে ক্ষোভ ও হতাশার ছাপ ফুটে উঠেছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে তাঁতশিল্প উৎপাদন কমেছে অর্ধেকের বেশি। অনেক কারখানা মালিক কাপড় উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে বেকার হয়ে পড়েছেন প্রায় পাঁচ লাখ ক্ষুদ্র তাঁতী ও শ্রমিক।

বিদ্যুৎচালিত তাঁত কারখানাগুলোতে সুতায় মাড়-রং দেয়া, সুতা শুকানো, নলী ভরা ও কাপড় উৎপাদনের জন্য প্রতি তাঁতে গড়ে ৩-৪ জন নারী-পুরুষ শ্রমিক কাজ করেন। এ শিল্পের সাথে জড়িত রয়েছেন তাঁত মালিক শ্রমিক মিলে প্রায় ৭ লাখ মানুষ। এই তাঁত শিল্পের সঙ্গে জড়িত রয়েছে প্রায় ৯ লাখ শ্রমিক পরিবারের বত্রিশ লাখ নারী পুরুষের জীবন-জীবিকা। অনেক ক্ষুদ্র তাঁতী, নারী ও পুরুষ শ্রমিক কাজের সন্ধানে চলে গেছেন অন্যত্র। অনেকেই ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, চট্টগ্রামে গার্মেন্টসে কারখানায় কাজ করছেন। আবার কেউ কেউ রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

পাবনার দোগাছী গ্রামের গ্রামের তাঁত কারখানা মালিক আবু জাফর বলেন, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ডিজেলচালিত জেনারেটর দিয়ে কারখানা চালু রাখা হতো। কিন্তু ডিজেল সংকট ও সরকার দাম বৃদ্ধি করায় জেনারেটর চালানো যাচ্ছে না। ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা জেনারেটর চালু রাখলে ১০ থেকে ১২ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হচ্ছে। এই কয়েক ঘণ্টার জন্য অতিরিক্ত দেড় হাজার টাকা খরচ হয়। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে অনেক বেশি। একই গ্রামের সুতার ডাইং মালিক দবির উদ্দিন ব্যাপারি বলেন, সুতা, রং, সোডা এসিডসহ অন্যান্য তাঁত উপকরণের দাম বেড়েছে। উৎপাদিত কাপড়ের দাম কমেছে। ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

পাবনার সদর উপজেলার দোগাছি গ্রামের তাঁত শ্রমিক মগরেব আলী জানান, দিনে তিন-চারটি শাড়ি তৈরি করা যেত। লোডশেডিংয়ের কারণে এখন সারা দিন দুটি শাড়ি তৈরি করা কঠিন। সাঁথিয়া উপজেলার ছেঁচানিয়া আফতাবনগর গ্রামের তাঁত শ্রমিক রহমত আলী, আব্দুল লতিফ ও রজব আলী বলেন, আগে একজন শ্রমিক সপ্তাহে তিন-চার হাজার টাকার কাজ করত। এখন এক থেকে দেড় হাজার টাকার কাজ করা হচ্ছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে দিন ও রাত বেকার বসে থাকতে হচ্ছে। এ কারণে ঠিক মতো কাজ হচ্ছে না। আয়ও কমেছে, সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর হাটে পাইকারি কাপড় বিক্রি করেন সাঁথিয়া উপজেলার সিলন্দা  গ্রামের রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, হঠাৎ ঘন ঘন লোডশেডিং, ডিজেল সংকট ও দাম বৃদ্ধিতে তাঁত শিল্প খাদের কিনারে এসে দাঁড়িয়েছে। এতে কাপড়ের উৎপাদন খরচ বহুলাংশে বেড়ে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে কাপড়ের বাজারে।

আগে শাহজাদপুর হাট থেকে প্রতি সপ্তাহে ব্যবসায়ীরা ৪-৫ ট্রাক শাড়ি লুঙ্গি কিনে নিয়ে যেত। বৈশ্বিক মন্দার কারণে চাহিদা কমে যাওয়ায় তারা এখন এক দুই ট্রাক কাপড় কিনছেন।

বেড়া উপজেলা তাঁতী সমিতির সভাপতি আব্দুল গফুর বলেন, তাঁত কারখানা মালিকদের বিদ্যুৎ বিল দিতে হচ্ছে, আবার উচ্চমূল্যে ডিজেল কিনে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। এতে কাপড় উৎপাদন খরচ বাড়ছে। লোকসান গুনতে হচ্ছে তাঁত কারখানা মালিকদের। এ শিল্প টিকিয়ে রাখা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁতশিল্প টিকিয়ে রাখার জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার দাবি জানান তিনি।

তাঁতশিল্পকে কেন্দ্র করে পাবনা-সিরাজগঞ্জের চৌহালীর এনায়েতপুর, শাহজাদপুর, বেলকুচি, আতাইকুলা চারটি কাপড়ের হাট গড়ে উঠেছে। হাটগুলোতে অবস্থিত বিভিন্ন প্রাইভেট ব্যাংক, কাপড় ব্যবসায়ী ও কারখানা মালিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এনায়েতপুর, বেলকুচি, শাহজাদপুর, আতাইকুলা হাটে প্রতি সপ্তাহে দুদিন করে ৬ দিন (দিনরাত মিলে) কাপড় বিক্রি হয়ে থাকে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কাপড় ব্যবসায়ী ও দোকান মালিকরা এই হাটে এসে শাড়ি, লুঙ্গি ক্রয় করে থাকেন। ভারতের ব্যবসায়ীরা এসব হাট থেকে শাড়ি ও লুঙ্গি কিনে থাকেন। প্রতি হাটে ব্যাংক ও নগদসহ শত কোটি টাকার লেনদেন হতো। বর্তমান কাপড় ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যাংক লেনদেন প্রায় অর্ধেক কমে গেছে।


আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬


লোডশেডিংয়ে পাবনা-সিরাজগঞ্জে ২ লাখ তাঁত বন্ধ, বেকার ৬ লাখ

প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ঘন ঘন লোডশেডিং, ডিজেল সংকট ও মূল্যবৃদ্ধিতে পাবনা-সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের বিদ্যুৎচালিত তাঁত কারখানাগুলোতে কাপড় উৎপাদন ধসে পড়েছে। দিকে ডিজেল সংকট, তাঁত উপকরণের দাম বৃদ্ধিসহ বৈশ্বিক মন্দার কারণে তাঁত বস্ত্রের চাহিদা কমে গেছে। এতে অব্যাহত লোকসানে প্রায় দুই লাখ বিদ্যুৎচালিত পাওয়ার লুম ও চিত্তরঞ্জন তাঁত বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে বেকার হয়ে পড়েছেন প্রায় ছয় লাখ প্রান্তিক-ক্ষুদ্র তাঁতী, শ্রমিক ও জাগালী। ঊর্ধ্বমুখী দ্রব্যমূল্যের এই বাজারে তাঁতী ও বেকার শ্রমিকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবিক জীবন যাপন করছেন।

বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের পাবনার সাঁথিয়া ও সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর বেসিক সেন্টারের সূত্রে জানা গেছে, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ তাঁত সমৃদ্ধ জেলা হিসেবে পরিচিত। বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী দুটি জেলায় বিদ্যুৎচালিত পাওয়ারলুম ও চিত্তরঞ্জন তাঁতের সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার লাখ। পাবনা সদর, সাঁথিয়া, সুজানগর, বেড়া, সিরাজগঞ্জের চৌহালীর এনায়েতপুর, শাহজাদপুর, বেলকুচি, উল্লাপাড়া ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় তাঁতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

এ অঞ্চলের তাঁতে উৎপাদিত কাপড় দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি হতো। কিন্তু তাঁত পল্লীগুলোতে চাহিদা মতো বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় অধিকাংশ তাঁত কারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। লোডশেডিংয়ের কারণে কাপড় উৎপাদন ধসে পড়েছে। আবার যে পরিমাণ কাপড় উৎপাদিত হচ্ছে সেগুলো হাটে বিক্রি হচ্ছে না। সে কারণে অনেক মালিক তাঁত কারখানা বন্ধ করে দিয়েছেন।

তাঁত প্রধান এলাকাগুলো ঘুরে দেখা যায়, তাঁতীপাড়ায় আগের মতো খট খট শব্দ নেই। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে কাজ বন্ধ। কারখানার সামনে কয়েকজন তাঁত শ্রমিক গোল হয়ে বসে আছেন। মলিন মুখে ক্ষোভ ও হতাশার ছাপ ফুটে উঠেছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে তাঁতশিল্প উৎপাদন কমেছে অর্ধেকের বেশি। অনেক কারখানা মালিক কাপড় উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে বেকার হয়ে পড়েছেন প্রায় পাঁচ লাখ ক্ষুদ্র তাঁতী ও শ্রমিক।

বিদ্যুৎচালিত তাঁত কারখানাগুলোতে সুতায় মাড়-রং দেয়া, সুতা শুকানো, নলী ভরা ও কাপড় উৎপাদনের জন্য প্রতি তাঁতে গড়ে ৩-৪ জন নারী-পুরুষ শ্রমিক কাজ করেন। এ শিল্পের সাথে জড়িত রয়েছেন তাঁত মালিক শ্রমিক মিলে প্রায় ৭ লাখ মানুষ। এই তাঁত শিল্পের সঙ্গে জড়িত রয়েছে প্রায় ৯ লাখ শ্রমিক পরিবারের বত্রিশ লাখ নারী পুরুষের জীবন-জীবিকা। অনেক ক্ষুদ্র তাঁতী, নারী ও পুরুষ শ্রমিক কাজের সন্ধানে চলে গেছেন অন্যত্র। অনেকেই ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, চট্টগ্রামে গার্মেন্টসে কারখানায় কাজ করছেন। আবার কেউ কেউ রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

পাবনার দোগাছী গ্রামের গ্রামের তাঁত কারখানা মালিক আবু জাফর বলেন, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ডিজেলচালিত জেনারেটর দিয়ে কারখানা চালু রাখা হতো। কিন্তু ডিজেল সংকট ও সরকার দাম বৃদ্ধি করায় জেনারেটর চালানো যাচ্ছে না। ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা জেনারেটর চালু রাখলে ১০ থেকে ১২ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হচ্ছে। এই কয়েক ঘণ্টার জন্য অতিরিক্ত দেড় হাজার টাকা খরচ হয়। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে অনেক বেশি। একই গ্রামের সুতার ডাইং মালিক দবির উদ্দিন ব্যাপারি বলেন, সুতা, রং, সোডা এসিডসহ অন্যান্য তাঁত উপকরণের দাম বেড়েছে। উৎপাদিত কাপড়ের দাম কমেছে। ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

পাবনার সদর উপজেলার দোগাছি গ্রামের তাঁত শ্রমিক মগরেব আলী জানান, দিনে তিন-চারটি শাড়ি তৈরি করা যেত। লোডশেডিংয়ের কারণে এখন সারা দিন দুটি শাড়ি তৈরি করা কঠিন। সাঁথিয়া উপজেলার ছেঁচানিয়া আফতাবনগর গ্রামের তাঁত শ্রমিক রহমত আলী, আব্দুল লতিফ ও রজব আলী বলেন, আগে একজন শ্রমিক সপ্তাহে তিন-চার হাজার টাকার কাজ করত। এখন এক থেকে দেড় হাজার টাকার কাজ করা হচ্ছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে দিন ও রাত বেকার বসে থাকতে হচ্ছে। এ কারণে ঠিক মতো কাজ হচ্ছে না। আয়ও কমেছে, সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর হাটে পাইকারি কাপড় বিক্রি করেন সাঁথিয়া উপজেলার সিলন্দা  গ্রামের রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, হঠাৎ ঘন ঘন লোডশেডিং, ডিজেল সংকট ও দাম বৃদ্ধিতে তাঁত শিল্প খাদের কিনারে এসে দাঁড়িয়েছে। এতে কাপড়ের উৎপাদন খরচ বহুলাংশে বেড়ে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে কাপড়ের বাজারে।

আগে শাহজাদপুর হাট থেকে প্রতি সপ্তাহে ব্যবসায়ীরা ৪-৫ ট্রাক শাড়ি লুঙ্গি কিনে নিয়ে যেত। বৈশ্বিক মন্দার কারণে চাহিদা কমে যাওয়ায় তারা এখন এক দুই ট্রাক কাপড় কিনছেন।

বেড়া উপজেলা তাঁতী সমিতির সভাপতি আব্দুল গফুর বলেন, তাঁত কারখানা মালিকদের বিদ্যুৎ বিল দিতে হচ্ছে, আবার উচ্চমূল্যে ডিজেল কিনে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। এতে কাপড় উৎপাদন খরচ বাড়ছে। লোকসান গুনতে হচ্ছে তাঁত কারখানা মালিকদের। এ শিল্প টিকিয়ে রাখা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁতশিল্প টিকিয়ে রাখার জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার দাবি জানান তিনি।

তাঁতশিল্পকে কেন্দ্র করে পাবনা-সিরাজগঞ্জের চৌহালীর এনায়েতপুর, শাহজাদপুর, বেলকুচি, আতাইকুলা চারটি কাপড়ের হাট গড়ে উঠেছে। হাটগুলোতে অবস্থিত বিভিন্ন প্রাইভেট ব্যাংক, কাপড় ব্যবসায়ী ও কারখানা মালিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এনায়েতপুর, বেলকুচি, শাহজাদপুর, আতাইকুলা হাটে প্রতি সপ্তাহে দুদিন করে ৬ দিন (দিনরাত মিলে) কাপড় বিক্রি হয়ে থাকে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কাপড় ব্যবসায়ী ও দোকান মালিকরা এই হাটে এসে শাড়ি, লুঙ্গি ক্রয় করে থাকেন। ভারতের ব্যবসায়ীরা এসব হাট থেকে শাড়ি ও লুঙ্গি কিনে থাকেন। প্রতি হাটে ব্যাংক ও নগদসহ শত কোটি টাকার লেনদেন হতো। বর্তমান কাপড় ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যাংক লেনদেন প্রায় অর্ধেক কমে গেছে।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত