সংবাদ

ঋণের চাপে দিশেহারা গৃহবধূর আত্মহত্যার অভিযোগ


প্রতিনিধি, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)
প্রতিনিধি, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৯ পিএম

ঋণের চাপে দিশেহারা গৃহবধূর আত্মহত্যার অভিযোগ
ছবি : সংবাদ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ সইতে না পেরে হনুফা বেগম (৪৫) নামের এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে পৌর শহরের ভৈরবপুর উত্তর পাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গামছা দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত হনুফা বেগম ওই এলাকার রিকশা গ্যারেজ মেকানিক আকরাম হোসেনের স্ত্রী। তিনি তিন সন্তানের জননী ছিলেন।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ছোট ছেলে সায়মন ও একমাত্র মেয়ের জামাইকে বিদেশে পাঠাতে বিভিন্ন এনজিও এবং আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে প্রায় ৭-৮ লাখ টাকা ধারদেনা করেছিলেন হনুফা বেগম। কিন্তু ছোট ছেলে বিদেশে গিয়ে সুবিধা করতে পারেননি। এরপর বড় ছেলে ইমরানকে বিদেশে পাঠানোর জন্য এক দালালের হাতে টাকা তুলে দেন তিনি। তবে ওই দালাল তাকে বিদেশে পাঠাতে ব্যর্থ হয় এবং আত্মসাৎ করা টাকাও ফেরত দেয়নি।

একদিকে দালালের প্রতারণা, অন্যদিকে এনজিওর কিস্তি ও পাওনাদারদের চাপের মুখে দিশেহারা হয়ে পড়েন হনুফা। রোববার ভোরেও স্বামীর সঙ্গে টাকা জোগাড়ের চেষ্টায় বেরিয়ে ব্যর্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন। এরপর নিজের ঘরে দরজা বন্ধ করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।

নিহতের ভাই জামাল মিয়া বলেন, ‘বোন বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেক টাকা ঋণ নিয়েছিল। কিস্তির টাকা শোধ করার জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো ব্যবস্থা করতে পারেনি। এই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই সে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।’

ভৈরব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ঋণের চাপেই এই আত্মহত্যা বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬


ঋণের চাপে দিশেহারা গৃহবধূর আত্মহত্যার অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ সইতে না পেরে হনুফা বেগম (৪৫) নামের এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে পৌর শহরের ভৈরবপুর উত্তর পাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গামছা দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত হনুফা বেগম ওই এলাকার রিকশা গ্যারেজ মেকানিক আকরাম হোসেনের স্ত্রী। তিনি তিন সন্তানের জননী ছিলেন।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ছোট ছেলে সায়মন ও একমাত্র মেয়ের জামাইকে বিদেশে পাঠাতে বিভিন্ন এনজিও এবং আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে প্রায় ৭-৮ লাখ টাকা ধারদেনা করেছিলেন হনুফা বেগম। কিন্তু ছোট ছেলে বিদেশে গিয়ে সুবিধা করতে পারেননি। এরপর বড় ছেলে ইমরানকে বিদেশে পাঠানোর জন্য এক দালালের হাতে টাকা তুলে দেন তিনি। তবে ওই দালাল তাকে বিদেশে পাঠাতে ব্যর্থ হয় এবং আত্মসাৎ করা টাকাও ফেরত দেয়নি।

একদিকে দালালের প্রতারণা, অন্যদিকে এনজিওর কিস্তি ও পাওনাদারদের চাপের মুখে দিশেহারা হয়ে পড়েন হনুফা। রোববার ভোরেও স্বামীর সঙ্গে টাকা জোগাড়ের চেষ্টায় বেরিয়ে ব্যর্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন। এরপর নিজের ঘরে দরজা বন্ধ করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।

নিহতের ভাই জামাল মিয়া বলেন, ‘বোন বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেক টাকা ঋণ নিয়েছিল। কিস্তির টাকা শোধ করার জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো ব্যবস্থা করতে পারেনি। এই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই সে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।’

ভৈরব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ঋণের চাপেই এই আত্মহত্যা বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত