ফ্রান্সজুড়ে শ্রেণিকক্ষের সংকট ও অবকাঠামোগত অব্যবস্থাপনার দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান বিক্ষোভকে দেশটির ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া ব্যাপক অভিবাসন’ এবং ইসলামের প্রভাব বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ফরাসি সরকারের সমালোচনা করে এই মন্তব্য করেন।
পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, 'ফ্রান্সে যা ঘটছে, তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া ব্যাপক অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন ছাড়া আর কিছুই নয়। এটি কেবল স্কুল বা শিক্ষার বিষয় নয়; একসময়ের মহান একটি দেশকে ইসলাম দখল করে নিতে চাইছে!'
তবে বাস্তবের চিত্রের সঙ্গে ট্রাম্পের দাবির কোনো মিল পাওয়া যায়নি। ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের চলমান এই আন্দোলনের নেপথ্যে ধর্ম কিংবা অভিবাসনের কোনো সম্পর্ক নেই। গত সেপ্টেম্বর থেকে দেশটির শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত ভিড়, শিক্ষকসংকট ও জরাজীর্ণ ভবন সংস্কারসহ মানসম্মত শিক্ষার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন ফরাসি শিক্ষার্থীরা।
বিক্ষোভের অধিকাংশ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ হলেও সম্প্রতি কয়েকটি স্থানে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে এক শিক্ষার্থী হাত হারিয়েছেন এবং অপর একজন চোখে মারাত্মক আঘাত পেয়ে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন। আন্দোলন দমনে মাত্রাতিরিক্ত পুলিশি বলপ্রয়োগ নিয়ে সুশীল সমাজে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু অবশ্য বিক্ষোভ সামলাতে পুলিশের নেওয়া পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন। অন্যদিকে, ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাচনকে সামনে রেখে কট্টর অভিবাসনবিরোধী ভোটারদের আকৃষ্ট করতেই ট্রাম্প ফরাসি শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে এভাবে চিত্রায়িত করছেন।

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬
ফ্রান্সজুড়ে শ্রেণিকক্ষের সংকট ও অবকাঠামোগত অব্যবস্থাপনার দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান বিক্ষোভকে দেশটির ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া ব্যাপক অভিবাসন’ এবং ইসলামের প্রভাব বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ফরাসি সরকারের সমালোচনা করে এই মন্তব্য করেন।
পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, 'ফ্রান্সে যা ঘটছে, তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া ব্যাপক অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন ছাড়া আর কিছুই নয়। এটি কেবল স্কুল বা শিক্ষার বিষয় নয়; একসময়ের মহান একটি দেশকে ইসলাম দখল করে নিতে চাইছে!'
তবে বাস্তবের চিত্রের সঙ্গে ট্রাম্পের দাবির কোনো মিল পাওয়া যায়নি। ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের চলমান এই আন্দোলনের নেপথ্যে ধর্ম কিংবা অভিবাসনের কোনো সম্পর্ক নেই। গত সেপ্টেম্বর থেকে দেশটির শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত ভিড়, শিক্ষকসংকট ও জরাজীর্ণ ভবন সংস্কারসহ মানসম্মত শিক্ষার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন ফরাসি শিক্ষার্থীরা।
বিক্ষোভের অধিকাংশ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ হলেও সম্প্রতি কয়েকটি স্থানে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে এক শিক্ষার্থী হাত হারিয়েছেন এবং অপর একজন চোখে মারাত্মক আঘাত পেয়ে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন। আন্দোলন দমনে মাত্রাতিরিক্ত পুলিশি বলপ্রয়োগ নিয়ে সুশীল সমাজে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু অবশ্য বিক্ষোভ সামলাতে পুলিশের নেওয়া পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন। অন্যদিকে, ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাচনকে সামনে রেখে কট্টর অভিবাসনবিরোধী ভোটারদের আকৃষ্ট করতেই ট্রাম্প ফরাসি শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে এভাবে চিত্রায়িত করছেন।

আপনার মতামত লিখুন