সকালের খাবার ও পানীয়ের ওপর দিনের শুরুটা অনেকটাই নির্ভর করে। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান ও নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। এমন কিছু প্রাকৃতিক পানীয় রয়েছে, যেগুলোতে থাকা পটাশিয়াম, ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ উপাদান রক্তনালীর স্বাভাবিক কার্যকারিতায় সহায়ক হতে পারে।
তবে এসব পানীয় কোনোভাবেই উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের বিকল্প নয়। বরং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হিসেবে এগুলো খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
১. লেবু-পানি
দিনের শুরুতে এক গ্লাস পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে পান করলে শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সহায়তা করতে পারে। লেবুতে থাকা ভিটামিন সি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে।
কিছু গবেষণায় নিয়মিত ভিটামিন সি গ্রহণের সঙ্গে সিস্টোলিক ও ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ সামান্য কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে শুধু লেবুপানি পান করলেই উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসবে - এমন নিশ্চয়তা নেই।
চিনি ছাড়া সাধারণ অথবা হালকা গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে পান করা যেতে পারে।
২. বিটরুটের রস
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সম্ভাবনাময় পানীয় হিসেবে বিটরুটের রসের কথা বলা হয়। এতে থাকা ডায়েটারি নাইট্রেট শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড তৈরিতে সহায়তা করে। এর ফলে রক্তনালী শিথিল হওয়া এবং রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখার প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে পারে।
বিভিন্ন গবেষণায় বিটরুটের রস পানের সঙ্গে বিশেষ করে সিস্টোলিক রক্তচাপ কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
সকালে অল্প পরিমাণ তাজা বিটরুটের রস পান করা যেতে পারে। তবে এতে বাড়তি লবণ বা চিনি না দেওয়াই ভালো। কিডনিতে পাথরের প্রবণতা থাকলে বিটরুট খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
৩. ডাবের পানি
ডাবের পানিতে পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খনিজ রয়েছে। শরীরে সোডিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে পটাশিয়াম ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ডাবের পানি শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতেও সহায়ক।
তবে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের একমাত্র উপায় হিসেবে ডাবের পানিকে দেখা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা কম থাকলে বা রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি থাকলে এটি পান করার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
প্যাকেটজাত ডাবের পানি কেনার ক্ষেত্রে উপাদান তালিকায় অতিরিক্ত চিনি ও সোডিয়াম রয়েছে কি না, সেটিও দেখে নেওয়া উচিত।
৪. গ্রিন টি
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ গ্রিন টি হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী পানীয় হিসেবে পরিচিত। এতে থাকা ক্যাটেচিনসহ বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ উপাদান রক্তনালীর কার্যকারিতা উন্নত করতে ভূমিকা রাখতে পারে।
২০১৪ সালে প্রকাশিত American Journal of Clinical Nutrition-এর একটি মেটা-অ্যানালাইসিসে দীর্ঘমেয়াদে গ্রিন টি গ্রহণের সঙ্গে রক্তচাপ সামান্য কমার সম্পর্ক পাওয়া যায়।
তবে গ্রিন টিতে ক্যাফেইন থাকায় অতিরিক্ত পান করা উচিত নয়। ক্যাফেইনে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি সাময়িকভাবে রক্তচাপ বাড়াতে পারে। তাই চিনি ছাড়া পরিমিত পরিমাণে গ্রিন টি পান করাই ভালো।
৫. আমলকি-পানি
ভিটামিন সি, পলিফেনল ও ফ্ল্যাভোনয়েডের উৎস আমলকি। এসব উপাদান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালীর কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় সহায়তা করতে পারে।
সকালে এক গ্লাস পানিতে অল্প পরিমাণ আমলকির রস মিশিয়ে পান করা যেতে পারে। তবে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আমলকিপানির কার্যকারিতা নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
এ ছাড়া আমলকির পানি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেওয়ার বিশেষ ক্ষমতা রাখে - এমন দাবির পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
শুধু পানীয়ের ওপর নির্ভর নয়
সকালের এসব পানীয় স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের একটি অংশ হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এর পাশাপাশি লবণ কম খাওয়া, নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং ধূমপান এড়িয়ে চলার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ বন্ধ বা পরিবর্তন না করা। নিয়মিত রক্তচাপ মাপার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখাই দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬
সকালের খাবার ও পানীয়ের ওপর দিনের শুরুটা অনেকটাই নির্ভর করে। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান ও নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। এমন কিছু প্রাকৃতিক পানীয় রয়েছে, যেগুলোতে থাকা পটাশিয়াম, ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ উপাদান রক্তনালীর স্বাভাবিক কার্যকারিতায় সহায়ক হতে পারে।
তবে এসব পানীয় কোনোভাবেই উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের বিকল্প নয়। বরং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হিসেবে এগুলো খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
১. লেবু-পানি
দিনের শুরুতে এক গ্লাস পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে পান করলে শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সহায়তা করতে পারে। লেবুতে থাকা ভিটামিন সি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে।
কিছু গবেষণায় নিয়মিত ভিটামিন সি গ্রহণের সঙ্গে সিস্টোলিক ও ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ সামান্য কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে শুধু লেবুপানি পান করলেই উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসবে - এমন নিশ্চয়তা নেই।
চিনি ছাড়া সাধারণ অথবা হালকা গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে পান করা যেতে পারে।
২. বিটরুটের রস
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সম্ভাবনাময় পানীয় হিসেবে বিটরুটের রসের কথা বলা হয়। এতে থাকা ডায়েটারি নাইট্রেট শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড তৈরিতে সহায়তা করে। এর ফলে রক্তনালী শিথিল হওয়া এবং রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখার প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে পারে।
বিভিন্ন গবেষণায় বিটরুটের রস পানের সঙ্গে বিশেষ করে সিস্টোলিক রক্তচাপ কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
সকালে অল্প পরিমাণ তাজা বিটরুটের রস পান করা যেতে পারে। তবে এতে বাড়তি লবণ বা চিনি না দেওয়াই ভালো। কিডনিতে পাথরের প্রবণতা থাকলে বিটরুট খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
৩. ডাবের পানি
ডাবের পানিতে পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খনিজ রয়েছে। শরীরে সোডিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে পটাশিয়াম ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ডাবের পানি শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতেও সহায়ক।
তবে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের একমাত্র উপায় হিসেবে ডাবের পানিকে দেখা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা কম থাকলে বা রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি থাকলে এটি পান করার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
প্যাকেটজাত ডাবের পানি কেনার ক্ষেত্রে উপাদান তালিকায় অতিরিক্ত চিনি ও সোডিয়াম রয়েছে কি না, সেটিও দেখে নেওয়া উচিত।
৪. গ্রিন টি
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ গ্রিন টি হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী পানীয় হিসেবে পরিচিত। এতে থাকা ক্যাটেচিনসহ বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ উপাদান রক্তনালীর কার্যকারিতা উন্নত করতে ভূমিকা রাখতে পারে।
২০১৪ সালে প্রকাশিত American Journal of Clinical Nutrition-এর একটি মেটা-অ্যানালাইসিসে দীর্ঘমেয়াদে গ্রিন টি গ্রহণের সঙ্গে রক্তচাপ সামান্য কমার সম্পর্ক পাওয়া যায়।
তবে গ্রিন টিতে ক্যাফেইন থাকায় অতিরিক্ত পান করা উচিত নয়। ক্যাফেইনে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি সাময়িকভাবে রক্তচাপ বাড়াতে পারে। তাই চিনি ছাড়া পরিমিত পরিমাণে গ্রিন টি পান করাই ভালো।
৫. আমলকি-পানি
ভিটামিন সি, পলিফেনল ও ফ্ল্যাভোনয়েডের উৎস আমলকি। এসব উপাদান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালীর কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় সহায়তা করতে পারে।
সকালে এক গ্লাস পানিতে অল্প পরিমাণ আমলকির রস মিশিয়ে পান করা যেতে পারে। তবে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আমলকিপানির কার্যকারিতা নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
এ ছাড়া আমলকির পানি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেওয়ার বিশেষ ক্ষমতা রাখে - এমন দাবির পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
শুধু পানীয়ের ওপর নির্ভর নয়
সকালের এসব পানীয় স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের একটি অংশ হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এর পাশাপাশি লবণ কম খাওয়া, নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং ধূমপান এড়িয়ে চলার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ বন্ধ বা পরিবর্তন না করা। নিয়মিত রক্তচাপ মাপার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখাই দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার মতামত লিখুন