সংবাদ

‘সীমান্তে শান্তির’ খোঁজে বেইজিংয়ে দোভাল


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম

‘সীমান্তে শান্তির’ খোঁজে বেইজিংয়ে দোভাল

দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ ও সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উত্তেজনার আবহেই চীন সফরে যাচ্ছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। আগামী সোমবার বেইজিং সফরে গিয়ে তিনি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র সঙ্গে সীমান্ত বিষয়ক ২৫ তম দফার বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন।

সীমান্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান ও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এমন এক সময়ে এই সীমান্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যখন অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন স্থানের নাম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ভারত ও চীনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা নতুন করে তুঙ্গে উঠেছে। তবে সব বিতর্ক দূরে সরিয়ে সীমান্ত সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজতেই বেইজিং যাচ্ছেন ভারতের প্রতিনিধি।

ভারত-চীন সীমান্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ২০০৩ সাল থেকে শুরু হওয়া বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের এটি ২৫তম বৈঠক। মঙ্গলবারে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈঠকের আগে শেষবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ২৪তম দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

কূটনৈতিক মহল মনে করছে, দোভালের এই সফরের পেছনে বড় একটি লক্ষ্য সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস সম্মেলন। নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এই সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পৃথক বৈঠকের সম্ভাবনা জোরাল করতে দোভালের এই বেইজিং বৈঠক বিশেষ পথ তৈরি করবে।

শনিবার দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হলে সীমান্তে শান্তি এবং স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে হবে। দু’দেশের সম্পর্ক কেমন হবে, তা স্বাভাবিক ভাবেই অনেকাংশে স্থির করবে দু’দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি।"

২০২০ সালে লাদাখের গলওয়ান উপত্যকায় দু'দেশের সেনার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর দীর্ঘ চার বছর সম্পর্কের যে অচলাবস্থা ছিল, ২০২৪ সালে রাশিয়ার কাজানে মোদী-জিনপিং বৈঠকের পর তা কাটার ইঙ্গিত মেলে।

সম্প্রতি দীর্ঘ ছ’বছর বন্ধ থাকার পর সিকিমের নাথুলা, হিমাচল প্রদেশের শিপকিলা এবং উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ দিয়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যপথ পুনরায় চালু হয়েছে। অরুণাচল ঘিরে টানাপোড়েন সত্ত্বেও, বেইজিংয়ে দোভাল-ওয়াং ই বৈঠক দুই দেশের মধ্যে আস্থা ফেরানোর জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬


‘সীমান্তে শান্তির’ খোঁজে বেইজিংয়ে দোভাল

প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ ও সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উত্তেজনার আবহেই চীন সফরে যাচ্ছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। আগামী সোমবার বেইজিং সফরে গিয়ে তিনি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র সঙ্গে সীমান্ত বিষয়ক ২৫ তম দফার বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন।

সীমান্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান ও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এমন এক সময়ে এই সীমান্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যখন অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন স্থানের নাম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ভারত ও চীনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা নতুন করে তুঙ্গে উঠেছে। তবে সব বিতর্ক দূরে সরিয়ে সীমান্ত সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজতেই বেইজিং যাচ্ছেন ভারতের প্রতিনিধি।

ভারত-চীন সীমান্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ২০০৩ সাল থেকে শুরু হওয়া বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের এটি ২৫তম বৈঠক। মঙ্গলবারে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈঠকের আগে শেষবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ২৪তম দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

কূটনৈতিক মহল মনে করছে, দোভালের এই সফরের পেছনে বড় একটি লক্ষ্য সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস সম্মেলন। নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এই সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পৃথক বৈঠকের সম্ভাবনা জোরাল করতে দোভালের এই বেইজিং বৈঠক বিশেষ পথ তৈরি করবে।

শনিবার দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হলে সীমান্তে শান্তি এবং স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে হবে। দু’দেশের সম্পর্ক কেমন হবে, তা স্বাভাবিক ভাবেই অনেকাংশে স্থির করবে দু’দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি।"

২০২০ সালে লাদাখের গলওয়ান উপত্যকায় দু'দেশের সেনার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর দীর্ঘ চার বছর সম্পর্কের যে অচলাবস্থা ছিল, ২০২৪ সালে রাশিয়ার কাজানে মোদী-জিনপিং বৈঠকের পর তা কাটার ইঙ্গিত মেলে।

সম্প্রতি দীর্ঘ ছ’বছর বন্ধ থাকার পর সিকিমের নাথুলা, হিমাচল প্রদেশের শিপকিলা এবং উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ দিয়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যপথ পুনরায় চালু হয়েছে। অরুণাচল ঘিরে টানাপোড়েন সত্ত্বেও, বেইজিংয়ে দোভাল-ওয়াং ই বৈঠক দুই দেশের মধ্যে আস্থা ফেরানোর জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত