সংবাদ

কর্ণফুলীর টানেল দিয়ে আসবে পানি, কাটছে ভান্ডালজুড়ি প্রকল্পের অনিশ্চয়তা


মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম

কর্ণফুলীর টানেল দিয়ে আসবে পানি, কাটছে ভান্ডালজুড়ি প্রকল্পের অনিশ্চয়তা
ছবি : সংবাদ

বন্দরনগরী ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের পানি সংকট দূর করতে নেওয়া চট্টগ্রাম ওয়াসার ‘ভান্ডালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্প’ ঘিরে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা অবশেষে কাটতে শুরু করেছে। কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে নির্মিত টানেলের ‘ইউটিলিটি ডাক্ট’ ব্যবহার করে প্রকল্পের পানি নগরে আনার অনুমতি মিলেছে। একই সঙ্গে এতদিন পানি নিতে অনাগ্রহী কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (কেইপিজেড) এখন বড় অংকের পানি নিতে রাজি হয়েছে।

ওয়াসা সূত্র জানায়, প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পের পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগাতে কেইপিজেড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি দৈনিক দুই কোটি লিটার পানি নিতে চায়। এ লক্ষ্যে তারা নিজস্ব পাইপলাইন স্থাপনের জন্য দরপত্রও আহ্বান করেছে। এর ফলে প্রকল্পের অব্যবহৃত পানির একটি বড় অংশ বাণিজ্যিক ব্যবহারে আসবে, যা ওয়াসার জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বলেন, ‘ভান্ডালজুড়ি প্রকল্পের পানি শহরে আনার জন্য কর্ণফুলী টানেল কর্তৃপক্ষের অনাপত্তি আমরা পেয়েছি। টানেল কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এছাড়া কেইপিজেড দৈনিক দুই কোটি লিটার পানি নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী দুই মাসের মধ্যে কেইপিজেডে পানি সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে।’

বোয়ালখালী উপজেলার ভান্ডালজুড়িতে কর্ণফুলী নদীর তীরে এই প্রকল্পে প্রতিদিন ছয় কোটি লিটার পানি উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ১৩৩ দশমিক ৩০ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন এবং আনোয়ারায় ১০ হাজার ঘনমিটার ও পটিয়ায় ৩ হাজার ঘনমিটার ধারণক্ষমতার দুটি জলাধার নির্মাণ করা হয়েছে।

মূলত দক্ষিণ চট্টগ্রামের বোয়ালখালী, পটিয়া, কর্ণফুলী ও আনোয়ারার আবাসিক এলাকা ছাড়াও কেইপিজেড, চায়না ইকোনমিক জোন, সিইউএফএল ও কাফকোর মতো বড় শিল্পকারখানায় পানি সরবরাহের লক্ষ্যেই এই বিশাল প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে সরকার।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬


কর্ণফুলীর টানেল দিয়ে আসবে পানি, কাটছে ভান্ডালজুড়ি প্রকল্পের অনিশ্চয়তা

প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বন্দরনগরী ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের পানি সংকট দূর করতে নেওয়া চট্টগ্রাম ওয়াসার ‘ভান্ডালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্প’ ঘিরে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা অবশেষে কাটতে শুরু করেছে। কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে নির্মিত টানেলের ‘ইউটিলিটি ডাক্ট’ ব্যবহার করে প্রকল্পের পানি নগরে আনার অনুমতি মিলেছে। একই সঙ্গে এতদিন পানি নিতে অনাগ্রহী কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (কেইপিজেড) এখন বড় অংকের পানি নিতে রাজি হয়েছে।

ওয়াসা সূত্র জানায়, প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পের পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগাতে কেইপিজেড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি দৈনিক দুই কোটি লিটার পানি নিতে চায়। এ লক্ষ্যে তারা নিজস্ব পাইপলাইন স্থাপনের জন্য দরপত্রও আহ্বান করেছে। এর ফলে প্রকল্পের অব্যবহৃত পানির একটি বড় অংশ বাণিজ্যিক ব্যবহারে আসবে, যা ওয়াসার জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বলেন, ‘ভান্ডালজুড়ি প্রকল্পের পানি শহরে আনার জন্য কর্ণফুলী টানেল কর্তৃপক্ষের অনাপত্তি আমরা পেয়েছি। টানেল কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এছাড়া কেইপিজেড দৈনিক দুই কোটি লিটার পানি নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী দুই মাসের মধ্যে কেইপিজেডে পানি সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে।’

বোয়ালখালী উপজেলার ভান্ডালজুড়িতে কর্ণফুলী নদীর তীরে এই প্রকল্পে প্রতিদিন ছয় কোটি লিটার পানি উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ১৩৩ দশমিক ৩০ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন এবং আনোয়ারায় ১০ হাজার ঘনমিটার ও পটিয়ায় ৩ হাজার ঘনমিটার ধারণক্ষমতার দুটি জলাধার নির্মাণ করা হয়েছে।

মূলত দক্ষিণ চট্টগ্রামের বোয়ালখালী, পটিয়া, কর্ণফুলী ও আনোয়ারার আবাসিক এলাকা ছাড়াও কেইপিজেড, চায়না ইকোনমিক জোন, সিইউএফএল ও কাফকোর মতো বড় শিল্পকারখানায় পানি সরবরাহের লক্ষ্যেই এই বিশাল প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে সরকার।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত