সংবাদ

চরাঞ্চলে বাড়ছে পানি, স্কুলে উপস্থিতি নামল অর্ধেকে


প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম

চরাঞ্চলে বাড়ছে পানি, স্কুলে উপস্থিতি নামল অর্ধেকে
ছবি : সংবাদ

গাইবান্ধার চরাঞ্চলে বর্ষায় নদী-নালা ও খাল-বিলে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। যাতায়াত ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্গম চরের প্রায় অর্ধেক শিশু এখন বিদ্যালয়ের বাইরে। দীর্ঘ সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে দূরে থাকায় নিয়মিত পাঠ্যক্রমে বড় ধরনের ঘাটতির মুখে পড়ছে এই কোমলমতি শিশুরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলার সাঘাটা, ফুলছড়ি, সদর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর দুর্গম চরে ৩২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। প্রতিবছর জুন থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত নদ-নদীতে পানি বাড়লে যাতায়াত ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। এই সময়ে যাতায়াতের জন্য পর্যাপ্ত নৌকা পাওয়া যায় না, আবার নিয়মিত নৌকার ভাড়া দেওয়ার সামর্থ্যও থাকে না অধিকাংশ দরিদ্র পরিবারের। ফলে প্রায় ৫০ শতাংশ শিশু বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে পারে না।

সাঘাটা উপজেলার চর হলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতান আহমদ বলেন, ‘বন্যার এই তিন মাস বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি অর্ধেকে নেমে আসে। দীর্ঘ অনুপস্থিতির ফলে পাঠ্যসূচিতে যে ঘাটতি তৈরি হয়, তা পরবর্তীতে পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।’

একই চিত্র সদর উপজেলার কুন্দেরপাড়া কেবলাগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েরও। ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক নাজমা বেগম জানান, চরের শিশুদের জন্য সবচেয়ে বড় সংকট বর্ষাকালীন পানি। প্রায় তিন-চার মাস শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে আসতে না পারায় শিক্ষাবর্ষ শেষে এই ক্ষতি আর পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হয় না।

ফুলছড়ি ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান নুর ইসলাম ভৌগোলিক প্রতিকূলতার কথা উল্লেখ করে বলেন, যাতায়াত সংকটে চরের অধিকাংশ শিক্ষার্থী দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকতে বাধ্য হয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে তাদের শিক্ষাজীবনে।

এ বিষয়ে উন্নয়ন গবেষক এম. আবদুস সালাম বলেন, চরাঞ্চলের বন্যা ও নদীভাঙনের বাস্তবতা মাথায় রেখেই এখানকার শিক্ষাকার্যক্রম পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বর্ষাকালে সরকারিভাবে বিশেষ নৌকা সহায়তা দেওয়া কিংবা ভাসমান বিদ্যালয় চালুর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬


চরাঞ্চলে বাড়ছে পানি, স্কুলে উপস্থিতি নামল অর্ধেকে

প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

গাইবান্ধার চরাঞ্চলে বর্ষায় নদী-নালা ও খাল-বিলে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। যাতায়াত ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্গম চরের প্রায় অর্ধেক শিশু এখন বিদ্যালয়ের বাইরে। দীর্ঘ সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে দূরে থাকায় নিয়মিত পাঠ্যক্রমে বড় ধরনের ঘাটতির মুখে পড়ছে এই কোমলমতি শিশুরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলার সাঘাটা, ফুলছড়ি, সদর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর দুর্গম চরে ৩২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। প্রতিবছর জুন থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত নদ-নদীতে পানি বাড়লে যাতায়াত ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। এই সময়ে যাতায়াতের জন্য পর্যাপ্ত নৌকা পাওয়া যায় না, আবার নিয়মিত নৌকার ভাড়া দেওয়ার সামর্থ্যও থাকে না অধিকাংশ দরিদ্র পরিবারের। ফলে প্রায় ৫০ শতাংশ শিশু বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে পারে না।

সাঘাটা উপজেলার চর হলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতান আহমদ বলেন, ‘বন্যার এই তিন মাস বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি অর্ধেকে নেমে আসে। দীর্ঘ অনুপস্থিতির ফলে পাঠ্যসূচিতে যে ঘাটতি তৈরি হয়, তা পরবর্তীতে পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।’

একই চিত্র সদর উপজেলার কুন্দেরপাড়া কেবলাগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েরও। ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক নাজমা বেগম জানান, চরের শিশুদের জন্য সবচেয়ে বড় সংকট বর্ষাকালীন পানি। প্রায় তিন-চার মাস শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে আসতে না পারায় শিক্ষাবর্ষ শেষে এই ক্ষতি আর পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হয় না।

ফুলছড়ি ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান নুর ইসলাম ভৌগোলিক প্রতিকূলতার কথা উল্লেখ করে বলেন, যাতায়াত সংকটে চরের অধিকাংশ শিক্ষার্থী দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকতে বাধ্য হয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে তাদের শিক্ষাজীবনে।

এ বিষয়ে উন্নয়ন গবেষক এম. আবদুস সালাম বলেন, চরাঞ্চলের বন্যা ও নদীভাঙনের বাস্তবতা মাথায় রেখেই এখানকার শিক্ষাকার্যক্রম পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বর্ষাকালে সরকারিভাবে বিশেষ নৌকা সহায়তা দেওয়া কিংবা ভাসমান বিদ্যালয় চালুর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত