সংবাদ

ফারাক্কার সব গেট খুলে দেওয়ার অনুরোধ বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম

ফারাক্কার সব গেট খুলে দেওয়ার অনুরোধ বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল অব্যাহত বর্ষণে ফারাক্কা পয়েন্টে গঙ্গার পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম রূপ নিয়েছে ভারতের বিহার রাজ্য বন্যা পরিস্থিতি। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফারাক্কা ব্যারাজের সবগুলো কপাট খুলে দেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী।

রবিবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এক জরুরি ফোনালাপে এই আহ্বান জানান বিহারের মুখ্যমন্ত্রী।

পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমএক্সে’ দেওয়া এক বার্তায় তিনি বিষয়টি নিজেই নিশ্চিত করে বলেন, "গঙ্গার পানি বিপজ্জনকভাবে বাড়ছে এবং বিহারের বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ফারাক্কা ব্যারাজের সব গেট খুলে দেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।"

বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর মতে, সবকটি গেট একসঙ্গে খুলে দেওয়া হলে গঙ্গার পানি দ্রুত প্রবাহিত হয়ে নামতে পারবে, যা বিহারকে এক বড় ধরনের প্লাবনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

৯৬-এর গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি ফারাক্কা প্রসঙ্গ

এদিকে গঙ্গার পানি বৃদ্ধি ফারাক্কা কপাট উন্মুক্ত করার এই দাবির মধ্যেই সামনে এসেছে ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়টি।

এই ইস্যুতে ভারতের জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর রাজ্যসভার সদস্য সঞ্জয় ঝা এক জোরালো বক্তব্য পেশ করেছেন।

পানিবণ্টন চুক্তির পুনর্বিবেচনার দাবি তুলে শাসক দলের এই আইনপ্রণেতা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "১৯৯৬ সালের বাংলাদেশ-ভারত গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তিটি আগামী ডিসেম্বরে ৩০ বছর পূর্ণ করতে চলেছে। চুক্তিটি নবায়নের সময় বিহার রাজ্য এর জনগণের স্বার্থকে সবার আগে গুরুত্ব দিতে হবে। বিহারের পানির চাহিদা নদী ভাঙন পরিস্থিতির সঠিক মূল্যায়ন ছাড়া চুক্তি নবায়ন করা উচিত হবে না।"

এর আগে, ভারত বাংলাদেশের মধ্যকার ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন ব্যবস্থার মধ্যে গঙ্গার চুক্তিটি অন্যতম প্রধান ভিত্তি। ফারাক্কা ব্যারাজকে কেন্দ্র করে সাধারণত শুষ্ক মৌসুমে দুই দেশের মধ্যে পানি ভাগাভাগির হিসেব নির্ধারিত হয়ে থাকে। বিহারে বন্যা নিয়ন্ত্রণকে ঘিরে ভারতীয় রাজনীতিতে ফারাক্কার সব গেট খোলার দাবি বাস্তবায়িত হলে তা নিম্ন অববাহিকা হিসেবে বাংলাদেশের প্লাবন পরিস্থিতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে পর্যবেক্ষণ করছেন নদী বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬


ফারাক্কার সব গেট খুলে দেওয়ার অনুরোধ বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর

প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল অব্যাহত বর্ষণে ফারাক্কা পয়েন্টে গঙ্গার পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম রূপ নিয়েছে ভারতের বিহার রাজ্য বন্যা পরিস্থিতি। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফারাক্কা ব্যারাজের সবগুলো কপাট খুলে দেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী।

রবিবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এক জরুরি ফোনালাপে এই আহ্বান জানান বিহারের মুখ্যমন্ত্রী।

পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমএক্সে’ দেওয়া এক বার্তায় তিনি বিষয়টি নিজেই নিশ্চিত করে বলেন, "গঙ্গার পানি বিপজ্জনকভাবে বাড়ছে এবং বিহারের বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ফারাক্কা ব্যারাজের সব গেট খুলে দেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।"

বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর মতে, সবকটি গেট একসঙ্গে খুলে দেওয়া হলে গঙ্গার পানি দ্রুত প্রবাহিত হয়ে নামতে পারবে, যা বিহারকে এক বড় ধরনের প্লাবনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

৯৬-এর গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি ফারাক্কা প্রসঙ্গ

এদিকে গঙ্গার পানি বৃদ্ধি ফারাক্কা কপাট উন্মুক্ত করার এই দাবির মধ্যেই সামনে এসেছে ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়টি।

এই ইস্যুতে ভারতের জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর রাজ্যসভার সদস্য সঞ্জয় ঝা এক জোরালো বক্তব্য পেশ করেছেন।

পানিবণ্টন চুক্তির পুনর্বিবেচনার দাবি তুলে শাসক দলের এই আইনপ্রণেতা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "১৯৯৬ সালের বাংলাদেশ-ভারত গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তিটি আগামী ডিসেম্বরে ৩০ বছর পূর্ণ করতে চলেছে। চুক্তিটি নবায়নের সময় বিহার রাজ্য এর জনগণের স্বার্থকে সবার আগে গুরুত্ব দিতে হবে। বিহারের পানির চাহিদা নদী ভাঙন পরিস্থিতির সঠিক মূল্যায়ন ছাড়া চুক্তি নবায়ন করা উচিত হবে না।"

এর আগে, ভারত বাংলাদেশের মধ্যকার ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন ব্যবস্থার মধ্যে গঙ্গার চুক্তিটি অন্যতম প্রধান ভিত্তি। ফারাক্কা ব্যারাজকে কেন্দ্র করে সাধারণত শুষ্ক মৌসুমে দুই দেশের মধ্যে পানি ভাগাভাগির হিসেব নির্ধারিত হয়ে থাকে। বিহারে বন্যা নিয়ন্ত্রণকে ঘিরে ভারতীয় রাজনীতিতে ফারাক্কার সব গেট খোলার দাবি বাস্তবায়িত হলে তা নিম্ন অববাহিকা হিসেবে বাংলাদেশের প্লাবন পরিস্থিতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে পর্যবেক্ষণ করছেন নদী বিশেষজ্ঞরা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত