সংবাদ

দুই কিডনিই নষ্ট, বাঁচার আকুতি লিবিয়াফেরত শংকরের


প্রতিনিধি, চাঁদপুর
প্রতিনিধি, চাঁদপুর
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩২ এএম

দুই কিডনিই নষ্ট, বাঁচার আকুতি লিবিয়াফেরত শংকরের
ছবি : সংবাদ

পরিবারের ভাগ্য ফেরাতে ভিটেমাটি বিক্রি করে ছয় বছর আগে লিবিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার শংকর সরকার (৩৪)। সেখানে কঠোর পরিশ্রমের মধ্যেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরীক্ষায় ধরা পড়ে, তার দুটি কিডনিই বিকল হয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত শূন্য হাতে দেশেই ফিরতে হয়েছে তাকে।

বর্তমানে জীবন বাঁচাতে প্রতি মাসে আটটি ডায়ালাইসিস করাতে হচ্ছে শংকরকে। এতে মাসে প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়। চিকিৎসক দেখানো, ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসা ব্যয় মিলিয়ে কোনো কোনো মাসে খরচ দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়।

শংকর ছিলেন পরিবারের আয়ের একমাত্র ভরসা। তার মা দীর্ঘ দিন ধরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত (প্যারালাইজড) হয়ে শয্যাশায়ী। অসচ্ছল এই পরিবারের পক্ষে শংকরের চিকিৎসার বিপুল ব্যয় বহন করা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

শংকরের বাবা হরি সরকার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘অভাব দূর করার জন্য ছেলেটা জমিজমা বিক্রি করে বিদেশ গিয়েছিল। এখন তার দুই কিডনি নষ্ট। ছেলেটাকে বাঁচাতে আমি সরকার ও বিত্তবান মানুষের সাহায্য চাই।’

মতলব উত্তর উপজেলার নান্দুরকান্দি গ্রামের এই যুবকের করুণ দশা নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য রিয়াদ হোসেন বলেন, শংকরের পরিবারের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। তার চিকিৎসা চালিয়ে নিতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সরকারি সহায়তা জরুরি।

চাঁদপুর সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক সুমন মজুমদার বলেন, ‘প্রবাসে থেকে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা শংকর আজ চিকিৎসার অভাবে অসহায়। তার জন্য আমাদের সবার এগিয়ে আসা উচিত।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, শংকরের পরিবারকে জেলা সমাজসেবা কার্যালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারি নীতিমালার আওতায় প্রশাসন থেকে যতটুকু সম্ভব সহায়তা করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬


দুই কিডনিই নষ্ট, বাঁচার আকুতি লিবিয়াফেরত শংকরের

প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

পরিবারের ভাগ্য ফেরাতে ভিটেমাটি বিক্রি করে ছয় বছর আগে লিবিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার শংকর সরকার (৩৪)। সেখানে কঠোর পরিশ্রমের মধ্যেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরীক্ষায় ধরা পড়ে, তার দুটি কিডনিই বিকল হয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত শূন্য হাতে দেশেই ফিরতে হয়েছে তাকে।

বর্তমানে জীবন বাঁচাতে প্রতি মাসে আটটি ডায়ালাইসিস করাতে হচ্ছে শংকরকে। এতে মাসে প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়। চিকিৎসক দেখানো, ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসা ব্যয় মিলিয়ে কোনো কোনো মাসে খরচ দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়।

শংকর ছিলেন পরিবারের আয়ের একমাত্র ভরসা। তার মা দীর্ঘ দিন ধরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত (প্যারালাইজড) হয়ে শয্যাশায়ী। অসচ্ছল এই পরিবারের পক্ষে শংকরের চিকিৎসার বিপুল ব্যয় বহন করা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

শংকরের বাবা হরি সরকার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘অভাব দূর করার জন্য ছেলেটা জমিজমা বিক্রি করে বিদেশ গিয়েছিল। এখন তার দুই কিডনি নষ্ট। ছেলেটাকে বাঁচাতে আমি সরকার ও বিত্তবান মানুষের সাহায্য চাই।’

মতলব উত্তর উপজেলার নান্দুরকান্দি গ্রামের এই যুবকের করুণ দশা নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য রিয়াদ হোসেন বলেন, শংকরের পরিবারের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। তার চিকিৎসা চালিয়ে নিতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সরকারি সহায়তা জরুরি।

চাঁদপুর সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক সুমন মজুমদার বলেন, ‘প্রবাসে থেকে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা শংকর আজ চিকিৎসার অভাবে অসহায়। তার জন্য আমাদের সবার এগিয়ে আসা উচিত।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, শংকরের পরিবারকে জেলা সমাজসেবা কার্যালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারি নীতিমালার আওতায় প্রশাসন থেকে যতটুকু সম্ভব সহায়তা করা হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত