সংবাদ

নেপাল-তিব্বতে বিপৎসীমায় কেন এত পর্যটক


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০১:১৯ পিএম

নেপাল-তিব্বতে বিপৎসীমায় কেন এত পর্যটক
ছবি: সংগৃহীত

নেপাল-তিব্বত সীমান্তের রাসুয়া ও গিরং অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে নিখোঁজদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক বিদেশি পর্যটক রয়েছেন- একটি প্রশ্ন উঠছেই, কেন এত মানুষ ওই বিপৎসীমার কাছে ছিলেন?

কারণ ছিল একাধিক। প্রথমত, ধর্মীয় তীর্থযাত্রা। দ্বিতীয়ত, পর্যটন মৌসুম।  তাছাড়া ছিল বিশেষ জ্যোতিষগত গুরুত্ব, ভ্রমণপথের ভৌগোলিক বাধ্যবাধকতা এবং স্থানীয় কর্মসংস্থান। সবকিছু মিলিয়ে ওই এলাকাটি এই সময়ে পরিণত হয়েছিল মানুষের এক অসাধারণ মিলনক্ষেত্রে। অথচ প্রকৃতির থাবায় সেই মিলনক্ষেত্র পরিণত হয়েছে শোকের ছায়ায়।

ধর্মীয় আবেদন: দুর্যোগকবলিত এলাকাটি হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র দুটি উচ্চভূমির হ্রদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর একটি হলো তিব্বতের কৈলাস পর্বতের কাছে মানস সরোবর, অন্যটি নেপালের রাসুয়া জেলার গোসাইকুণ্ড হ্রদ।

মানস সরোবর হিন্দুদের কাছে ভগবান শিবের সহধর্মিণী দেবী পার্বতীর মাতৃরূপের আধ্যাত্মিক আভাকে প্রতিনিধিত্ব করে। হিন্দু পুরাণ অনুসারে, কৈলাস পর্বত হলো ভগবান শিবের পবিত্র সিংহাসন এবং তাঁর আধ্যাত্মিক শক্তির উৎস। বৌদ্ধদের কাছে এটি বুদ্ধের নির্মল আবাস, আর জৈনদের কাছে এই শৃঙ্গটি স্বয়ং অষ্টপদ পর্বতের প্রতীক। 

গোসাইকুণ্ড নেপালের লাংটাং জাতীয় উদ্যানে ৪,৩৮০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। হিন্দু ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী, সমুদ্র মন্থনের সময় শিব যখন বিষ পান করেন। তার গলা জ্বলে যায়, তখন তিনি তার গলা শীতল করার জন্য ত্রিশূল বিদ্ধ করে এই হ্রদটি সৃষ্টি করেন। প্রতি বছর হাজার হাজার ভক্ত পবিত্র স্নানের জন্য এখানে সমবেত হন।

পূর্ণিমার মাহাত্ম্য: শুধু তীর্থস্থানই নয়, সময়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বছরের এই সময়টিতে, বিশেষ করে ভারতীয় পর্যটকেরা মানস সরোবর ভ্রমণ এবং গোসাইকুণ্ডে পবিত্র স্নান করতে আসেন। পূর্ণিমার সময়টি হিন্দু ধর্মে অত্যন্ত শুভ বলে বিবেচিত হয়। তাই পর্যটকেরা সাধারণত এই সময়েই এখানে আসেন।

আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাস এখানে তীর্থযাত্রার প্রধান মৌসুম। নেপালের রাসুয়া হয়ে তিব্বতের গিরং বন্দর পারাপার হয় কৈলাসযাত্রীদের। এই রুটটি অত্যন্ত জনপ্রিয় বলে জানিয়েছেন আলপাইন কৈলাস ট্রেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রদীপ পাণ্ডিত।

পর্যটন ও ট্রেকিং: ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি এটি একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ট্রেকিং রুট। গোসাইকুণ্ড হয়ে লাংটাং উপত্যকায় যাওয়া যায়। ধুঞ্চে গ্রাম থেকে গোসাইকুণ্ড যাওয়ার ট্রেক শুরু হয়, যা পর্যটকদের মধ্যে বিশেষ জনপ্রিয়। নেপালে প্রতি বছর কয়েক হাজার বিদেশি পর্যটক ট্রেকিং, পর্বতারোহণ ও হিমালয় দর্শনে আসেন। 

কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো: এছাড়া ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলছিল, যেখানে দক্ষিণ কোরিয়া ও অন্যান্য দেশের প্রকৌশলী ও শ্রমিকরা কাজ করছিলেন। ফলে দুর্ঘটনাকবলিত এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা ছাড়াও বিদেশি কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

বলা যায়, ধর্মীয় তীর্থযাত্রার পবিত্র মৌসুম, বিশেষ জ্যোতিষগত তাৎপর্য, ট্রেকিংয়ের জনপ্রিয়তা এবং অবকাঠামোগত প্রকল্প- এই সব কারণ মিলিয়ে হিমালয়ের ওই প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানুষজন সমবেত হয়েছিলেন। অথচ প্রকৃতির আচমকা থাবায় সেই তীর্থক্ষেত্র পরিণত হয়েছে বিপর্যয়ের ময়দানে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬


নেপাল-তিব্বতে বিপৎসীমায় কেন এত পর্যটক

প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নেপাল-তিব্বত সীমান্তের রাসুয়া ও গিরং অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে নিখোঁজদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক বিদেশি পর্যটক রয়েছেন- একটি প্রশ্ন উঠছেই, কেন এত মানুষ ওই বিপৎসীমার কাছে ছিলেন?

কারণ ছিল একাধিক। প্রথমত, ধর্মীয় তীর্থযাত্রা। দ্বিতীয়ত, পর্যটন মৌসুম।  তাছাড়া ছিল বিশেষ জ্যোতিষগত গুরুত্ব, ভ্রমণপথের ভৌগোলিক বাধ্যবাধকতা এবং স্থানীয় কর্মসংস্থান। সবকিছু মিলিয়ে ওই এলাকাটি এই সময়ে পরিণত হয়েছিল মানুষের এক অসাধারণ মিলনক্ষেত্রে। অথচ প্রকৃতির থাবায় সেই মিলনক্ষেত্র পরিণত হয়েছে শোকের ছায়ায়।

ধর্মীয় আবেদন: দুর্যোগকবলিত এলাকাটি হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র দুটি উচ্চভূমির হ্রদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর একটি হলো তিব্বতের কৈলাস পর্বতের কাছে মানস সরোবর, অন্যটি নেপালের রাসুয়া জেলার গোসাইকুণ্ড হ্রদ।

মানস সরোবর হিন্দুদের কাছে ভগবান শিবের সহধর্মিণী দেবী পার্বতীর মাতৃরূপের আধ্যাত্মিক আভাকে প্রতিনিধিত্ব করে। হিন্দু পুরাণ অনুসারে, কৈলাস পর্বত হলো ভগবান শিবের পবিত্র সিংহাসন এবং তাঁর আধ্যাত্মিক শক্তির উৎস। বৌদ্ধদের কাছে এটি বুদ্ধের নির্মল আবাস, আর জৈনদের কাছে এই শৃঙ্গটি স্বয়ং অষ্টপদ পর্বতের প্রতীক। 

গোসাইকুণ্ড নেপালের লাংটাং জাতীয় উদ্যানে ৪,৩৮০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। হিন্দু ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী, সমুদ্র মন্থনের সময় শিব যখন বিষ পান করেন। তার গলা জ্বলে যায়, তখন তিনি তার গলা শীতল করার জন্য ত্রিশূল বিদ্ধ করে এই হ্রদটি সৃষ্টি করেন। প্রতি বছর হাজার হাজার ভক্ত পবিত্র স্নানের জন্য এখানে সমবেত হন।

পূর্ণিমার মাহাত্ম্য: শুধু তীর্থস্থানই নয়, সময়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বছরের এই সময়টিতে, বিশেষ করে ভারতীয় পর্যটকেরা মানস সরোবর ভ্রমণ এবং গোসাইকুণ্ডে পবিত্র স্নান করতে আসেন। পূর্ণিমার সময়টি হিন্দু ধর্মে অত্যন্ত শুভ বলে বিবেচিত হয়। তাই পর্যটকেরা সাধারণত এই সময়েই এখানে আসেন।

আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাস এখানে তীর্থযাত্রার প্রধান মৌসুম। নেপালের রাসুয়া হয়ে তিব্বতের গিরং বন্দর পারাপার হয় কৈলাসযাত্রীদের। এই রুটটি অত্যন্ত জনপ্রিয় বলে জানিয়েছেন আলপাইন কৈলাস ট্রেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রদীপ পাণ্ডিত।

পর্যটন ও ট্রেকিং: ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি এটি একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ট্রেকিং রুট। গোসাইকুণ্ড হয়ে লাংটাং উপত্যকায় যাওয়া যায়। ধুঞ্চে গ্রাম থেকে গোসাইকুণ্ড যাওয়ার ট্রেক শুরু হয়, যা পর্যটকদের মধ্যে বিশেষ জনপ্রিয়। নেপালে প্রতি বছর কয়েক হাজার বিদেশি পর্যটক ট্রেকিং, পর্বতারোহণ ও হিমালয় দর্শনে আসেন। 

কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো: এছাড়া ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলছিল, যেখানে দক্ষিণ কোরিয়া ও অন্যান্য দেশের প্রকৌশলী ও শ্রমিকরা কাজ করছিলেন। ফলে দুর্ঘটনাকবলিত এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা ছাড়াও বিদেশি কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

বলা যায়, ধর্মীয় তীর্থযাত্রার পবিত্র মৌসুম, বিশেষ জ্যোতিষগত তাৎপর্য, ট্রেকিংয়ের জনপ্রিয়তা এবং অবকাঠামোগত প্রকল্প- এই সব কারণ মিলিয়ে হিমালয়ের ওই প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানুষজন সমবেত হয়েছিলেন। অথচ প্রকৃতির আচমকা থাবায় সেই তীর্থক্ষেত্র পরিণত হয়েছে বিপর্যয়ের ময়দানে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত