জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গায় দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে কার্পাসডাঙ্গা মিশনপাড়ার ঐতিহাসিক আটচালা ঘরের পাশে কবির স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হয়।
দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কবির স্মৃতিফলকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, কবি-সাহিত্যিক এবং সাধারণ মানুষ পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে কার্পাসডাঙ্গা নজরুল স্মৃতি পাঠাগার প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় বক্তারা কবির বৈচিত্র্যময় জীবন ও কর্মের ওপর আলোকপাত করেন।
তারা বলেন, নজরুল ছিলেন সাম্য ও বিদ্রোহের প্রতীক। তার সৃষ্টিশীল সাহিত্য ও সংগীত বাংলা ভাষাকে বিশ্বদরবারে উচ্চাসনে বসিয়েছে। কার্পাসডাঙ্গার সঙ্গে কবির নিবিড় সম্পর্কের কথা স্মরণ করে বক্তারা আরও বলেন, ১৯২৬ ও ১৯২৭ সালে কবি সপরিবার এই ঐতিহাসিক জনপদে বসবাস করেছিলেন। এখানেই তিনি লিখেছিলেন কালজয়ী অনেক কবিতা ও গান।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুসারে, কবি নজরুল তার স্ত্রী প্রমিলা, দুই পুত্র সব্যসাচী ও বুলবুল এবং শাশুড়ি গিরিবালাকে নিয়ে কার্পাসডাঙ্গার হর্ষপ্রিয় বিশ্বাসের বাগানবাড়ির একটি আটচালা খড়ের ঘরে অবস্থান করেছিলেন। সেই স্মৃতি ধরে রাখতে প্রতিবছর এই স্থানে জাতীয়ভাবে কবির জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে নজরুলসংগীত পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন