ফরিদপুরের নগরকান্দায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী কহিনুর বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ গুমের চেষ্টার দায়ে স্বামী লিটন মিয়া ওরফে লিটুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুরের বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) অশোক কুমার দত্ত এই রায় ঘোষণা করেন।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি লিটন মিয়াকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে তাকে আরও চার মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এ ছাড়া অপরাধের আলামত নষ্ট ও মরদেহ গুম করার চেষ্টার অভিযোগে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় তাকে আরও তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রায়ের সময় আসামি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন।
সাজাপ্রাপ্ত লিটন মিয়া নগরকান্দা উপজেলার শশা উত্তরপাড়া এলাকার মৃত আলাউদ্দিন মিয়ার ছেলে।
মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৬ বছর আগে লিটন মিয়ার সঙ্গে কহিনুর বেগমের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে কহিনুরের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন লিটন। একপর্যায়ে কহিনুরকে না জানিয়ে লিটন দ্বিতীয় বিয়ে করেন এবং প্রথম স্ত্রীকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে চাপ দেন।
২০২১ সালের ৭ আগস্ট রাতে কহিনুর বেগম নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। পরদিন ভোরে বাড়ির পাশে একটি পুকুরপাড়ে তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্বজনেরা। এ ঘটনায় নগরকান্দা থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত আজ এই রায় দিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আজিজুর রহমান রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের মাধ্যমে অপরাধ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’
আপনার মতামত লিখুন