সংবাদ

লাখ লাখ টাকার প্রতারণা, ফিরছেন প্রবাসীরা


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম

লাখ লাখ টাকার প্রতারণা, ফিরছেন প্রবাসীরা
ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপের তিন দেশ থেকে বৈধ নথি না থাকায় ৪০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৪ জন সাইপ্রাস, ১৫ জন গ্রিস এবং একজন বুলগেরিয়া থেকে ফিরেছেন।  বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, ‘প্রাথমিক কথাবার্তায় জানতে পেরেছি, তাদের সঙ্গে ইউরোপে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিল না। ফলে তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে।’

শুধু ইউরোপ নয়, যুক্তরাষ্ট্র থেকেও সম্প্রতি আরও ২৩ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ব্র্যাকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে মোট ৩৬৯ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। 

ফেরত আসা ২৩ জনের মধ্যে ১৩ জন নোয়াখালীর এবং তিনজন সিলেটের বাসিন্দা। বাকিরা কক্সবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মুন্সীগঞ্জ, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, ঢাকা ও অন্যান্য জেলার বাসিন্দা ।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত আসাদের মধ্যে ২০ জন ব্রাজিল হয়ে বলিভিয়া, পেরু, ইকুয়েডর, কলম্বিয়া, পানামা, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া, হন্ডুরাস ও গুয়াতেমালা হয়ে মেক্সিকো সীমান্ত অতিক্রম করে অনিয়মিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। এ যাত্রাপথে তাদের ১৩ থেকে ১৫টি দেশ বাসে ও পায়ে হেঁটে অতিক্রম করতে হয়েছে।

ব্র্যাকের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে জনপ্রতি গড়ে প্রায় ৫০ থেকে ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। উন্নত জীবনের আশায় বিপুল অর্থ ব্যয় করেও শেষ পর্যন্ত তারা অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি জটিলতায় পড়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন ।

শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ নয়, ইতালিতেও অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করা হচ্ছে। ভূমধ্যসাগর দিয়ে আসা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের প্রবেশ ঠেকাতে ইতালির ডানপন্থি সরকার কঠোর আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে। আইনে ভূমধ্যসাগরে উদ্ধারকারী জাহাজগুলোকে অবরোধ ও দেশটির জলসীমায় প্রবেশ না করার বিধান রাখা হয়েছে ।

প্রয়োজনীয় নথি না থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ ২০১৭ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) সই করে। ওই ব্যবস্থার আওতায় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন এবং তাদের বাংলাদেশি নাগরিকত্ব নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের ফেরত পাঠানো হয়।

এর আগে গত ২১ মে আরেকটি বিশেষ ফ্লাইটে ২৭ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ফেরত আসা প্রবাসীদের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সর্বশেষ ইউরোপ থেকে ফেরত আসা ৪০ বাংলাদেশির প্রত্যেককে ২৯ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। যা মোট প্রায় ১১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তাদের খাবার দেওয়া হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও সহায়তা করা হয়েছে। 

ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, ফেরত আসাদের দীর্ঘমেয়াদে পুনর্বাসনে সহায়তার জন্য কাউন্সেলিং, প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬


লাখ লাখ টাকার প্রতারণা, ফিরছেন প্রবাসীরা

প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ইউরোপের তিন দেশ থেকে বৈধ নথি না থাকায় ৪০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৪ জন সাইপ্রাস, ১৫ জন গ্রিস এবং একজন বুলগেরিয়া থেকে ফিরেছেন।  বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, ‘প্রাথমিক কথাবার্তায় জানতে পেরেছি, তাদের সঙ্গে ইউরোপে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিল না। ফলে তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে।’

শুধু ইউরোপ নয়, যুক্তরাষ্ট্র থেকেও সম্প্রতি আরও ২৩ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ব্র্যাকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে মোট ৩৬৯ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। 

ফেরত আসা ২৩ জনের মধ্যে ১৩ জন নোয়াখালীর এবং তিনজন সিলেটের বাসিন্দা। বাকিরা কক্সবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মুন্সীগঞ্জ, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, ঢাকা ও অন্যান্য জেলার বাসিন্দা ।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত আসাদের মধ্যে ২০ জন ব্রাজিল হয়ে বলিভিয়া, পেরু, ইকুয়েডর, কলম্বিয়া, পানামা, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া, হন্ডুরাস ও গুয়াতেমালা হয়ে মেক্সিকো সীমান্ত অতিক্রম করে অনিয়মিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। এ যাত্রাপথে তাদের ১৩ থেকে ১৫টি দেশ বাসে ও পায়ে হেঁটে অতিক্রম করতে হয়েছে।

ব্র্যাকের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে জনপ্রতি গড়ে প্রায় ৫০ থেকে ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। উন্নত জীবনের আশায় বিপুল অর্থ ব্যয় করেও শেষ পর্যন্ত তারা অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি জটিলতায় পড়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন ।

শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ নয়, ইতালিতেও অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করা হচ্ছে। ভূমধ্যসাগর দিয়ে আসা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের প্রবেশ ঠেকাতে ইতালির ডানপন্থি সরকার কঠোর আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে। আইনে ভূমধ্যসাগরে উদ্ধারকারী জাহাজগুলোকে অবরোধ ও দেশটির জলসীমায় প্রবেশ না করার বিধান রাখা হয়েছে ।

প্রয়োজনীয় নথি না থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ ২০১৭ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) সই করে। ওই ব্যবস্থার আওতায় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন এবং তাদের বাংলাদেশি নাগরিকত্ব নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের ফেরত পাঠানো হয়।

এর আগে গত ২১ মে আরেকটি বিশেষ ফ্লাইটে ২৭ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ফেরত আসা প্রবাসীদের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সর্বশেষ ইউরোপ থেকে ফেরত আসা ৪০ বাংলাদেশির প্রত্যেককে ২৯ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। যা মোট প্রায় ১১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তাদের খাবার দেওয়া হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও সহায়তা করা হয়েছে। 

ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, ফেরত আসাদের দীর্ঘমেয়াদে পুনর্বাসনে সহায়তার জন্য কাউন্সেলিং, প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত