ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় কাস্টমস সিপাহী রাকিব রায়হান হত্যার ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কাস্টমস সিপাহীকে দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায় হত্যাকারীরা। এতে রাকিব রায়হান ঘুমিয়ে পড়লে মাথায় বড় লোহা রড় দিয়ে আঘাতে হত্যা করে। পরে টয়লেটে নিয়ে গরুর মাংস কাটার খাটিয়ায় ফেলে মরদেহ ১৫ টুকরা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, জেলার ফুলবাড়ীয়া উপজেলার সোয়াইতপুর গ্রামের মো. ফজলুল হক মির্জার ছেলে মো. রাজু মির্জা (২২) ও একই উপজেলার অনন্তপুর গ্রামের মো. সুরুজ মির্জার ছেলে মো. সোহেল মির্জা ওরফে জিতুল (২০)। এদের মাঝে রাজু মির্জা নিহত রাকিব রায়হানের বাড়ির কেয়ারটেকার ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে জেলা পুলিশের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিচ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। পরে বিকেলে গ্রেপ্তার মো. রাজু মির্জা ও মো. সোহেল মির্জা জিতুলকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের দেখানো তথ্য মতে হত্যায় ব্যবহৃত একটি চাপাতি, একটি লোহার রড, তিনটি ছুরি, গরুর মাংস কাটার একটি কাঠের খাটিয়া, রক্তমাখা পাঞ্জাবি জব্দ করা হয়।
ওই দিন রাত দুইটার দিকে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল থানার শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্র জানায়, নিহত রাকিব রায়হান (৪০) উপজেলার সোয়াইতপুর গ্রামের মৃত ছিদ্দিক তালুকদারের ছেলে। তিনি ঢাকার কমলাপুরে কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখায় সিপাহী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার বাড়িতে আসতেন। শনিবার কর্মস্থলে চলে যেতেন। এরই মধ্যে গত ২৪ জুলাই বিকেল ৫টা থেকে ৫টা ২০ মিনিটের মধ্যে তিনি নিজ ঘর থেকে নিখোঁজ হন।
এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজের পর আত্মীয়-স্বজন ও কর্মস্থলে যোগাযোগ করেও তার কোনো খোঁজ মেলেনি। নিখোঁজের তিন দিন পর ২৭ জুলাই তার বড় ভাই নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে ফুলবাড়ীয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
পরে গত ২ আগস্ট উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামে পরিত্যক্ত খাল থেকে তিনটি ব্যাগে রাকিব রায়হানের ১৫ টুকরা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মরদেহ উদ্ধারের পর নিহত রাকিব রায়হানের ভাই নুরুল ইসলাম বাদি হয়ে গত ৪ আগস্ট ফুলবাড়ীয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। রাকিব রায়হান নিখোঁজের পর প্রায় এক মাস পর হত্যার সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রধান আসামি রাজু মির্জা দীর্ঘ প্রায় চার বছর ধরে রাকিব রায়হান অলুকদারের বিশ্বস্ত কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন। ঘটনার রাতে রাজু আবু রায়হানকে দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে পান করান। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে প্রথমে লোহার রড দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয় এবং ঘরে থাকা নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী সরিয়ে নেয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, পরে মরদেহ গুম করার জন্য অপর আসামি মো. সোহেল মির্জা ওরফে জিতুলের সহযোগিতায় মরদেহ টয়লেটে নিয়ে গরুর মাংস কাটার খাটিয়ায় রেখে ১৫ টুকরা করে বিভিন্ন অংশ তিনটি ট্রাভেল ব্যাগ ও কাপড়ে পেঁচিয়ে বাড়ির পূর্ব পাশে পরিত্যক্ত ডোবার ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে রাখে।
আব্দুল্লাহ আল মামুন আরও বলেন, হত্যার পর ঘটনাস্থলের আলামত নষ্ট ও অপরাধ গোপনের উদ্দেশ্যে ডিটারজেন্ট পাউডার, হ্যান্ডওয়াশ, হারপিকসহ বিভিন্ন পরিষ্কারক সামগ্রী ব্যবহার করে ঘর ও বাথরুম পরিষ্কার করে দু’জন। রাকিব রায়হান নিখোঁজ থাকার সময় তার মোবাইল ফোন ও ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করে অর্থ উত্তোলনের ঘটনাও ঘটে। যা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য, আর্থিক লেনদেন, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, ব্যাংকিং কার্যক্রম এবং অন্যান্য সম্ভাব্য আলামত যাচাই-বাছাই অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় কাস্টমস সিপাহী রাকিব রায়হান হত্যার ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কাস্টমস সিপাহীকে দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায় হত্যাকারীরা। এতে রাকিব রায়হান ঘুমিয়ে পড়লে মাথায় বড় লোহা রড় দিয়ে আঘাতে হত্যা করে। পরে টয়লেটে নিয়ে গরুর মাংস কাটার খাটিয়ায় ফেলে মরদেহ ১৫ টুকরা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, জেলার ফুলবাড়ীয়া উপজেলার সোয়াইতপুর গ্রামের মো. ফজলুল হক মির্জার ছেলে মো. রাজু মির্জা (২২) ও একই উপজেলার অনন্তপুর গ্রামের মো. সুরুজ মির্জার ছেলে মো. সোহেল মির্জা ওরফে জিতুল (২০)। এদের মাঝে রাজু মির্জা নিহত রাকিব রায়হানের বাড়ির কেয়ারটেকার ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে জেলা পুলিশের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিচ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। পরে বিকেলে গ্রেপ্তার মো. রাজু মির্জা ও মো. সোহেল মির্জা জিতুলকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের দেখানো তথ্য মতে হত্যায় ব্যবহৃত একটি চাপাতি, একটি লোহার রড, তিনটি ছুরি, গরুর মাংস কাটার একটি কাঠের খাটিয়া, রক্তমাখা পাঞ্জাবি জব্দ করা হয়।
ওই দিন রাত দুইটার দিকে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল থানার শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্র জানায়, নিহত রাকিব রায়হান (৪০) উপজেলার সোয়াইতপুর গ্রামের মৃত ছিদ্দিক তালুকদারের ছেলে। তিনি ঢাকার কমলাপুরে কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখায় সিপাহী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার বাড়িতে আসতেন। শনিবার কর্মস্থলে চলে যেতেন। এরই মধ্যে গত ২৪ জুলাই বিকেল ৫টা থেকে ৫টা ২০ মিনিটের মধ্যে তিনি নিজ ঘর থেকে নিখোঁজ হন।
এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজের পর আত্মীয়-স্বজন ও কর্মস্থলে যোগাযোগ করেও তার কোনো খোঁজ মেলেনি। নিখোঁজের তিন দিন পর ২৭ জুলাই তার বড় ভাই নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে ফুলবাড়ীয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
পরে গত ২ আগস্ট উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামে পরিত্যক্ত খাল থেকে তিনটি ব্যাগে রাকিব রায়হানের ১৫ টুকরা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মরদেহ উদ্ধারের পর নিহত রাকিব রায়হানের ভাই নুরুল ইসলাম বাদি হয়ে গত ৪ আগস্ট ফুলবাড়ীয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। রাকিব রায়হান নিখোঁজের পর প্রায় এক মাস পর হত্যার সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রধান আসামি রাজু মির্জা দীর্ঘ প্রায় চার বছর ধরে রাকিব রায়হান অলুকদারের বিশ্বস্ত কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন। ঘটনার রাতে রাজু আবু রায়হানকে দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে পান করান। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে প্রথমে লোহার রড দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয় এবং ঘরে থাকা নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী সরিয়ে নেয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, পরে মরদেহ গুম করার জন্য অপর আসামি মো. সোহেল মির্জা ওরফে জিতুলের সহযোগিতায় মরদেহ টয়লেটে নিয়ে গরুর মাংস কাটার খাটিয়ায় রেখে ১৫ টুকরা করে বিভিন্ন অংশ তিনটি ট্রাভেল ব্যাগ ও কাপড়ে পেঁচিয়ে বাড়ির পূর্ব পাশে পরিত্যক্ত ডোবার ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে রাখে।
আব্দুল্লাহ আল মামুন আরও বলেন, হত্যার পর ঘটনাস্থলের আলামত নষ্ট ও অপরাধ গোপনের উদ্দেশ্যে ডিটারজেন্ট পাউডার, হ্যান্ডওয়াশ, হারপিকসহ বিভিন্ন পরিষ্কারক সামগ্রী ব্যবহার করে ঘর ও বাথরুম পরিষ্কার করে দু’জন। রাকিব রায়হান নিখোঁজ থাকার সময় তার মোবাইল ফোন ও ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করে অর্থ উত্তোলনের ঘটনাও ঘটে। যা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য, আর্থিক লেনদেন, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, ব্যাংকিং কার্যক্রম এবং অন্যান্য সম্ভাব্য আলামত যাচাই-বাছাই অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন