সংবাদ

নেপাল ও তিব্বতে মৃত্যু ৩৯০ ছাড়াল, নিখোঁজ দেড় হাজার


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪১ এএম

নেপাল ও তিব্বতে মৃত্যু ৩৯০ ছাড়াল, নিখোঁজ দেড় হাজার
ছবি : রয়টার্স

হিমালয় অঞ্চলে বিশাল হিমবাহ ও পাহাড় ধসের ফলে সৃষ্ট প্রলয়ংকরী বন্যায় নেপাল ও চীনের তিব্বত স্বশাসিত অঞ্চলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯২ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন দেড় সহস্রাধিক মানুষ। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) উদ্ধারকারীরা কাদা ও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে তল্লাশি চালানোর সময় আরও অনেক মরদেহ উদ্ধার করেন।

নেপাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৩৯২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী তিব্বত অঞ্চলে অন্তত ৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা এতটাই ভয়াবহ যে, নেপালের ১৫টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৪৩১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।

নেপালের পর্যটন বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল থেকে ৩৪টি দেশের ৬৬৮ জন পর্যটকের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজদের মধ্যে ভারতের ১৭৭ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৯০ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪ জন, যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন এবং কানাডার ২৫ জন নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া বেইজিং জানিয়েছে, নেপালে নিখোঁজদের মধ্যে ১০০ জন চীনা নাগরিকও আছেন। তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৫৫৮ জন।

কাঠমান্ডু থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে, রাস্তাঘাট ও সেতু বিধ্বস্ত হওয়ায় দুর্গম এলাকাগুলোতে পৌঁছানো উদ্ধারকারীদের জন্য ‘বিশাল চ্যালেঞ্জ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেপাল সেনাবাহিনী ও পুলিশের ৫ হাজারেরও বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও সেনাবাহিনী আপার ত্রিশূলি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে পড়া ৩৫০ জন শ্রমিক ও বাসিন্দাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।

প্রাথমিক প্রতিবেদনে রিখটার স্কেলে ৪.৪ মাত্রার একটি কম্পন রেকর্ড করা হয়েছিল, যা প্রথমে ভূমিকম্প বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, এটি আসলে কোনো ভূমিকম্প ছিল না। বিশাল হিমবাহ ও পাথর ধসে পড়ার ফলে যে প্রচণ্ড শক্তির সৃষ্টি হয়েছিল, তাতেই ভূমি কেঁপে উঠেছিল। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, নেপাল-চীন সীমান্তের রাসুওয়াগাধি থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে লহেন্ডে নদীতে এই ভূমিধসটি ঘটে।

ভয়াবহ এই দুর্যোগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। জাতিসংঘ জরুরি তহবিল থেকে ২০ লাখ ডলার বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ৫ লাখ ডলার এবং অস্ট্রেলিয়া ৩৬ লাখ ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রতিবেশী ভারত এরই মধ্যে তাবু, খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ শুরু করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিপর্যয় জলবায়ু পরিবর্তনের এক নিষ্ঠুর উদাহরণ। হিমালয় অঞ্চলের দেশগুলো যেভাবে জলবায়ু ঝুঁকির মুখে পড়ছে, তা মোকাবিলায় বৈশ্বিক সহযোগিতা এখন সময়ের দাবি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬


নেপাল ও তিব্বতে মৃত্যু ৩৯০ ছাড়াল, নিখোঁজ দেড় হাজার

প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

হিমালয় অঞ্চলে বিশাল হিমবাহ ও পাহাড় ধসের ফলে সৃষ্ট প্রলয়ংকরী বন্যায় নেপাল ও চীনের তিব্বত স্বশাসিত অঞ্চলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯২ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন দেড় সহস্রাধিক মানুষ। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) উদ্ধারকারীরা কাদা ও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে তল্লাশি চালানোর সময় আরও অনেক মরদেহ উদ্ধার করেন।

নেপাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৩৯২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী তিব্বত অঞ্চলে অন্তত ৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা এতটাই ভয়াবহ যে, নেপালের ১৫টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৪৩১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।

নেপালের পর্যটন বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল থেকে ৩৪টি দেশের ৬৬৮ জন পর্যটকের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজদের মধ্যে ভারতের ১৭৭ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৯০ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪ জন, যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন এবং কানাডার ২৫ জন নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া বেইজিং জানিয়েছে, নেপালে নিখোঁজদের মধ্যে ১০০ জন চীনা নাগরিকও আছেন। তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৫৫৮ জন।

কাঠমান্ডু থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে, রাস্তাঘাট ও সেতু বিধ্বস্ত হওয়ায় দুর্গম এলাকাগুলোতে পৌঁছানো উদ্ধারকারীদের জন্য ‘বিশাল চ্যালেঞ্জ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেপাল সেনাবাহিনী ও পুলিশের ৫ হাজারেরও বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও সেনাবাহিনী আপার ত্রিশূলি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে পড়া ৩৫০ জন শ্রমিক ও বাসিন্দাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।

প্রাথমিক প্রতিবেদনে রিখটার স্কেলে ৪.৪ মাত্রার একটি কম্পন রেকর্ড করা হয়েছিল, যা প্রথমে ভূমিকম্প বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, এটি আসলে কোনো ভূমিকম্প ছিল না। বিশাল হিমবাহ ও পাথর ধসে পড়ার ফলে যে প্রচণ্ড শক্তির সৃষ্টি হয়েছিল, তাতেই ভূমি কেঁপে উঠেছিল। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, নেপাল-চীন সীমান্তের রাসুওয়াগাধি থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে লহেন্ডে নদীতে এই ভূমিধসটি ঘটে।

ভয়াবহ এই দুর্যোগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। জাতিসংঘ জরুরি তহবিল থেকে ২০ লাখ ডলার বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ৫ লাখ ডলার এবং অস্ট্রেলিয়া ৩৬ লাখ ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রতিবেশী ভারত এরই মধ্যে তাবু, খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ শুরু করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিপর্যয় জলবায়ু পরিবর্তনের এক নিষ্ঠুর উদাহরণ। হিমালয় অঞ্চলের দেশগুলো যেভাবে জলবায়ু ঝুঁকির মুখে পড়ছে, তা মোকাবিলায় বৈশ্বিক সহযোগিতা এখন সময়ের দাবি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত