বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুনরায় উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে এই শ্রমবাজার চালুর ঘোষণা দিয়ে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমান সরকারের কূটনৈতিক সাফল্য ও জোরালো প্রচেষ্টার ফলে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বা জিরো খরচে ১০ হাজার কর্মী নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত পোষণ করেছে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
মন্ত্রণালয়ের
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফ্যাসিবাদের
আমলের দুর্নীতি, অনিয়ম এবং সিন্ডিকেটের কারণে
দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা
এই শ্রমবাজারটি পুনরায় চালুর বিষয়টি বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার তালিকায় ছিল। এই লক্ষ্য
অর্জনে দুই দেশের মন্ত্রী
পর্যায়ের একাধিক ফলপ্রসূ বৈঠকের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ
সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও রাজা সুলতান
ইব্রাহিম ইস্কান্দারের সঙ্গে সরাসরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। বাংলাদেশের
সার্বিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে নেওয়া এই
কূটনৈতিক উদ্যোগের ফলেই আজ মালয়েশিয়ার
শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের ঐতিহাসিক ও বিশাল সম্ভাবনার
নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত পূর্বের সমঝোতা স্মারকের শর্ত অনুযায়ী রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাইয়ের একক এখতিয়ার ছিল মালয়েশিয়া সরকারের হাতে। বর্তমান সরকার সেই আইনি ও নীতিগত সীমাবদ্ধতা এবং চুক্তি বহাল থাকা সত্ত্বেও মালয়েশিয়ার নিজস্ব কাঠামোর মধ্যে সর্বোচ্চ সমন্বয় বজায় রেখে দেশের স্বার্থ এবং রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে।
সরকারের এই বিশেষ অনুরোধের
ফলস্বরূপ মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ বিমান ভাড়াসহ সব ধরনের অভিবাসন
ব্যয়মুক্ত অবস্থায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ১০ হাজার কর্মী
নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এই কর্মীদের
প্রথম বহরটি সম্পূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে মালয়েশিংয়ায় প্রেরণের মাধ্যমে পুনরায় জনশক্তি রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হবে।
মালয়েশিয়া সরকারের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কর্মী সরবরাহকারী প্রধান পাঁচটি দেশের মধ্যে নেপাল ও বাংলাদেশের জন্য ২৫টি এবং অন্যান্য দেশের জন্য নির্দিষ্ট কোটা নির্ধারিত হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার প্রণীত ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা থেকে ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসর ও বিতর্কিত সিন্ডিকেটভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাদ দিয়ে বাকিদের সুযোগ দেওয়ার জোরালো অনুরোধ জানায় বর্তমান সরকার।
এর পরিপ্রেক্ষিতে মালয়েশিয়া
সরকারের উচ্চপর্যায়ের যৌথ কমিটি নিরপেক্ষ
যাচাই-বাছাই শেষে সরাসরি ২৫টি
এবং সহযোগী হিসেবে আরও ৩১২টি সংস্থাকে
কর্মী পাঠানোর সুযোগ দিয়েছে। এর সঙ্গে একমাত্র
সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বোয়েসেলসহ মোট ৩৩৮টি প্রতিষ্ঠানের
এই সম্মিলিত অংশগ্রহণকে দেশের জনশক্তি খাতের ইতিহাসে একটি বড় অর্জন
হিসেবে দেখছে মন্ত্রণালয়।
শ্রমবাজার চালুর প্রাথমিক পদক্ষেপে চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে জানানো হয়, মালয়েশিয়ার তিন মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে এসে নতুন নীতিমালার আলোকে যাচাই-বাছাই সম্পন্ন না করা পর্যন্ত সময়ের প্রয়োজনে পুরনো তালিকা থেকে ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিতর্কিত কেন্দ্রগুলো বাদ দিয়ে অবশিষ্ট ১৬টি অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হবে।
এছাড়া
কর্মীদের সার্বিক নিরাপত্তা, বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধ করা, সরাসরি
মূল কোম্পানিতে যোগদান এবং নিয়মিত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে ২৪ ঘণ্টার
মনিটরিং সেল ও হেল্পডেস্ক
চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সব ধরনের বিভ্রান্তিমূলক
অপপ্রচারে কান না দিয়ে
এবং দালাল চক্র থেকে সতর্ক
থেকে মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পূর্বে কোনো ধরনের আর্থিক
লেনদেন বা পাসপোর্ট জমা
না দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ
জানিয়েছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান
মন্ত্রণালয়।

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুনরায় উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে এই শ্রমবাজার চালুর ঘোষণা দিয়ে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমান সরকারের কূটনৈতিক সাফল্য ও জোরালো প্রচেষ্টার ফলে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বা জিরো খরচে ১০ হাজার কর্মী নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত পোষণ করেছে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
মন্ত্রণালয়ের
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফ্যাসিবাদের
আমলের দুর্নীতি, অনিয়ম এবং সিন্ডিকেটের কারণে
দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা
এই শ্রমবাজারটি পুনরায় চালুর বিষয়টি বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার তালিকায় ছিল। এই লক্ষ্য
অর্জনে দুই দেশের মন্ত্রী
পর্যায়ের একাধিক ফলপ্রসূ বৈঠকের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ
সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও রাজা সুলতান
ইব্রাহিম ইস্কান্দারের সঙ্গে সরাসরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। বাংলাদেশের
সার্বিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে নেওয়া এই
কূটনৈতিক উদ্যোগের ফলেই আজ মালয়েশিয়ার
শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের ঐতিহাসিক ও বিশাল সম্ভাবনার
নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত পূর্বের সমঝোতা স্মারকের শর্ত অনুযায়ী রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাইয়ের একক এখতিয়ার ছিল মালয়েশিয়া সরকারের হাতে। বর্তমান সরকার সেই আইনি ও নীতিগত সীমাবদ্ধতা এবং চুক্তি বহাল থাকা সত্ত্বেও মালয়েশিয়ার নিজস্ব কাঠামোর মধ্যে সর্বোচ্চ সমন্বয় বজায় রেখে দেশের স্বার্থ এবং রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে।
সরকারের এই বিশেষ অনুরোধের
ফলস্বরূপ মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ বিমান ভাড়াসহ সব ধরনের অভিবাসন
ব্যয়মুক্ত অবস্থায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ১০ হাজার কর্মী
নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এই কর্মীদের
প্রথম বহরটি সম্পূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে মালয়েশিংয়ায় প্রেরণের মাধ্যমে পুনরায় জনশক্তি রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হবে।
মালয়েশিয়া সরকারের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কর্মী সরবরাহকারী প্রধান পাঁচটি দেশের মধ্যে নেপাল ও বাংলাদেশের জন্য ২৫টি এবং অন্যান্য দেশের জন্য নির্দিষ্ট কোটা নির্ধারিত হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার প্রণীত ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা থেকে ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসর ও বিতর্কিত সিন্ডিকেটভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাদ দিয়ে বাকিদের সুযোগ দেওয়ার জোরালো অনুরোধ জানায় বর্তমান সরকার।
এর পরিপ্রেক্ষিতে মালয়েশিয়া
সরকারের উচ্চপর্যায়ের যৌথ কমিটি নিরপেক্ষ
যাচাই-বাছাই শেষে সরাসরি ২৫টি
এবং সহযোগী হিসেবে আরও ৩১২টি সংস্থাকে
কর্মী পাঠানোর সুযোগ দিয়েছে। এর সঙ্গে একমাত্র
সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বোয়েসেলসহ মোট ৩৩৮টি প্রতিষ্ঠানের
এই সম্মিলিত অংশগ্রহণকে দেশের জনশক্তি খাতের ইতিহাসে একটি বড় অর্জন
হিসেবে দেখছে মন্ত্রণালয়।
শ্রমবাজার চালুর প্রাথমিক পদক্ষেপে চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে জানানো হয়, মালয়েশিয়ার তিন মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে এসে নতুন নীতিমালার আলোকে যাচাই-বাছাই সম্পন্ন না করা পর্যন্ত সময়ের প্রয়োজনে পুরনো তালিকা থেকে ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিতর্কিত কেন্দ্রগুলো বাদ দিয়ে অবশিষ্ট ১৬টি অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হবে।
এছাড়া
কর্মীদের সার্বিক নিরাপত্তা, বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধ করা, সরাসরি
মূল কোম্পানিতে যোগদান এবং নিয়মিত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে ২৪ ঘণ্টার
মনিটরিং সেল ও হেল্পডেস্ক
চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সব ধরনের বিভ্রান্তিমূলক
অপপ্রচারে কান না দিয়ে
এবং দালাল চক্র থেকে সতর্ক
থেকে মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পূর্বে কোনো ধরনের আর্থিক
লেনদেন বা পাসপোর্ট জমা
না দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ
জানিয়েছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান
মন্ত্রণালয়।

আপনার মতামত লিখুন