সংবাদ

একটি নামের জন্য ৪৫ বছরের লড়াই ভৈরবে


প্রতিনিধি, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)
প্রতিনিধি, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫২ পিএম

একটি নামের জন্য ৪৫ বছরের লড়াই ভৈরবে
ছবি : সংবাদ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একটি বাজারের নামকরণ নিয়ে দুই গ্রামের চার দশকের পুরোনো বিরোধ ফের রক্তক্ষয়ী সংঘাতে রূপ নিয়েছে। এক মাস আগে জোড়া খুনের রেশ কাটতে না কাটতেই রোববার (৩০ আগস্ট) আবারও রণক্ষেত্রে পরিণত হয় কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আকবরনগর ও মিরারচর এলাকা। দুই ঘণ্টাব্যাপী এই সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে ৮ রাউন্ড টিয়ারগ্যাস ছুড়তে হয়েছে।

রোববার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলা এই সংঘাতের সময় বেশ কিছু দোকানপাট ও ঘরবাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে নজরুল মিয়া (৩০), রানা মিয়া (১৯), তাহের মিয়া (৫০) ও স্বপন মিয়াকে (২৮) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এর আগে গত ২৭ জুলাই একই ইস্যুতে দুই গ্রামের সংঘর্ষে মিরারচর গ্রামের মাসুদ মিয়া (৩৭) ও হিরণ মিয়া (৩২) নামে দুজন নিহত হয়েছিলেন। ওই দিন প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ঢাকা-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে রাখা হয়েছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালিকাপ্রসাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকার নাম নিয়ে আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামবাসীর মধ্যে ৪৫ বছর ধরে রেষারেষি চলছে। আকবরনগর গ্রামবাসীর দাবি, এলাকাটির নাম ‘আকবরনগর বাসস্ট্যান্ড ও বাজার’। অন্যদিকে মিরারচর গ্রামবাসী এটিকে ‘মিরারচর বাসস্ট্যান্ড’ হিসেবে দাবি করে আসছে। এই তুচ্ছ নাম নিয়ে গত ১৫ বছরে অন্তত পাঁচবার বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটেছে।

রোববারের ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে দুই পক্ষ একে অপরকে দোষারোপ করছে। মিরারচর গ্রামের খলিল মিয়ার দাবি, তাদের গ্রামের দুই যুবককে বাজারে আটকে মারধর করেছে আকবরনগরের লোকজন। এর প্রতিবাদ করতে গেলেই হামলা শুরু হয়। অন্যদিকে আকবরনগরের সামাদ মিয়ার দাবি, গত মাসের জোড়া খুনের মামলায় তাদের পক্ষের কয়েকজন জামিন নিতে আদালতে গেলে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। এই খবর শুনে মিরারচরের লোকজন অতর্কিতে তাদের ওপর হামলা চালায়।

খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ, র‍্যাব এবং স্থানীয় বিএনপি নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম জানান, তারা দীর্ঘদিনের এই বিরোধ মিটিয়ে দুই গ্রামবাসীকে শান্ত থাকার অনুরোধ করেছেন এবং প্রকৃত অপরাধীদের বিচার দাবি করেছেন।

ভৈরব সার্কেলের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ বলেন, ‘বাজারের নামকরণ নিয়ে দুই গ্রামবাসী আবারও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে টিয়ারগ্যাস ছুড়তে হয়েছে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই বারবার সংঘাত অত্যন্ত দুঃখজনক। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ সতর্ক রয়েছে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬


একটি নামের জন্য ৪৫ বছরের লড়াই ভৈরবে

প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একটি বাজারের নামকরণ নিয়ে দুই গ্রামের চার দশকের পুরোনো বিরোধ ফের রক্তক্ষয়ী সংঘাতে রূপ নিয়েছে। এক মাস আগে জোড়া খুনের রেশ কাটতে না কাটতেই রোববার (৩০ আগস্ট) আবারও রণক্ষেত্রে পরিণত হয় কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আকবরনগর ও মিরারচর এলাকা। দুই ঘণ্টাব্যাপী এই সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে ৮ রাউন্ড টিয়ারগ্যাস ছুড়তে হয়েছে।

রোববার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলা এই সংঘাতের সময় বেশ কিছু দোকানপাট ও ঘরবাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে নজরুল মিয়া (৩০), রানা মিয়া (১৯), তাহের মিয়া (৫০) ও স্বপন মিয়াকে (২৮) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এর আগে গত ২৭ জুলাই একই ইস্যুতে দুই গ্রামের সংঘর্ষে মিরারচর গ্রামের মাসুদ মিয়া (৩৭) ও হিরণ মিয়া (৩২) নামে দুজন নিহত হয়েছিলেন। ওই দিন প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ঢাকা-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে রাখা হয়েছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালিকাপ্রসাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকার নাম নিয়ে আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামবাসীর মধ্যে ৪৫ বছর ধরে রেষারেষি চলছে। আকবরনগর গ্রামবাসীর দাবি, এলাকাটির নাম ‘আকবরনগর বাসস্ট্যান্ড ও বাজার’। অন্যদিকে মিরারচর গ্রামবাসী এটিকে ‘মিরারচর বাসস্ট্যান্ড’ হিসেবে দাবি করে আসছে। এই তুচ্ছ নাম নিয়ে গত ১৫ বছরে অন্তত পাঁচবার বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটেছে।

রোববারের ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে দুই পক্ষ একে অপরকে দোষারোপ করছে। মিরারচর গ্রামের খলিল মিয়ার দাবি, তাদের গ্রামের দুই যুবককে বাজারে আটকে মারধর করেছে আকবরনগরের লোকজন। এর প্রতিবাদ করতে গেলেই হামলা শুরু হয়। অন্যদিকে আকবরনগরের সামাদ মিয়ার দাবি, গত মাসের জোড়া খুনের মামলায় তাদের পক্ষের কয়েকজন জামিন নিতে আদালতে গেলে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। এই খবর শুনে মিরারচরের লোকজন অতর্কিতে তাদের ওপর হামলা চালায়।

খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ, র‍্যাব এবং স্থানীয় বিএনপি নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম জানান, তারা দীর্ঘদিনের এই বিরোধ মিটিয়ে দুই গ্রামবাসীকে শান্ত থাকার অনুরোধ করেছেন এবং প্রকৃত অপরাধীদের বিচার দাবি করেছেন।

ভৈরব সার্কেলের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ বলেন, ‘বাজারের নামকরণ নিয়ে দুই গ্রামবাসী আবারও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে টিয়ারগ্যাস ছুড়তে হয়েছে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই বারবার সংঘাত অত্যন্ত দুঃখজনক। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ সতর্ক রয়েছে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত