ঝুঁকি কম, কিন্তু লাভ দ্বিগুণ। তাই নরসিংদীতে অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি আখ চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। জেলার উঁচু জমি ও বেলে-দোআঁশ মাটি আখ চাষের জন্য বেশ উপযোগী হওয়ায় এবারও ফলন হয়েছে বাম্পার। বাজারে ব্যাপক চাহিদা আর ভালো দাম পেয়ে খুশি চাষিরা। এর মধ্যে বাড়তি পাওনা হিসেবে যোগ হয়েছে ফিলিপাইনের ‘কালো জাতের’ আখের বাণিজ্যিক সফলতা।
নরসিংদী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার ছয়টি উপজেলায় ১৮১ হেক্টর জমিতে আখের আবাদ হয়েছে। এর সিংহভাগই চিবিয়ে খাওয়ার মিষ্টি আখ। শিবপুর উপজেলার পুটিয়া ইউনিয়নের সৈয়দনগর গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা মারুফ হাসান মুরাদ ফিলিপাইনের কালো জাতের আখ চাষ করে এলাকায় রীতিমতো চমক সৃষ্টি করেছেন।
সরেজমিনে সৈয়দনগর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সবুজে ঘেরা বিস্তীর্ণ আখের ক্ষেত। চার বছর আগে শখের বশে বাড়ির আঙিনায় ফিলিপাইনের একটি কালো আখের চারা রোপণ করেছিলেন মারুফ। সেই আখটি বেশ সুমিষ্ট, নরম ও রসালো হওয়ায় তিনি বাণিজ্যিকভাবে চাষের পরিকল্পনা করেন। বর্তমানে তিনি একজন সফল চাষি হিসেবে স্বাবলম্বী। মারুফ বলেন, 'দ্রুত বর্ধনশীল এই আখ চাষে তরুণদের উদ্বুদ্ধ করতে পারলে বেকারত্ব দূর হওয়ার পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি সম্ভব।' প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা থেকে উৎসুক মানুষ তার এই আখের ক্ষেত দেখতে আসছেন।
শিবপুরের কৃষক মোখলেস জানান, আখের একটি বিশেষ সুবিধা হলো–একবার কাটার পর গোড়া থেকে আবার নতুন চারা জন্মায়। আগা থেকেও নতুন চারা তৈরি করা যায়। বর্তমানে বাজারে প্রতিটি আখ মানভেদে ৬০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বিক্রেতারা ক্ষেত থেকেই আখ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
তবে সাফল্যের হাসির আড়ালে কৃষকদের কিছু ক্ষোভও রয়েছে। মনোহরদী উপজেলার গোতাশিয়া গ্রামের চাষি আফজাল অভিযোগ করেন, কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠে খুব একটা দেখা যায় না। সরকারি সার ও বীজের সুবিধা অনেক সময় প্রকৃত কৃষকের বদলে প্রভাবশালীদের হাতে চলে যায় বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আজিজল হক বলেন, 'এ অঞ্চলের মাটি আখ চাষের জন্য দারুণ উপযোগী। ফিলিপাইনের কালো আখে রোগবালাই কম হওয়ায় এটি চাষিদের জন্য লাভজনক। আমরা কৃষকদের প্রযুক্তিগত পরামর্শ দিয়ে আসছি।' মাঠে কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, বর্তমানে জেলায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার ৩৯টি পদ শূন্য রয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে কৃষকদের সেবাপ্রাপ্তির সমস্যা আর থাকবে না।

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঝুঁকি কম, কিন্তু লাভ দ্বিগুণ। তাই নরসিংদীতে অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি আখ চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। জেলার উঁচু জমি ও বেলে-দোআঁশ মাটি আখ চাষের জন্য বেশ উপযোগী হওয়ায় এবারও ফলন হয়েছে বাম্পার। বাজারে ব্যাপক চাহিদা আর ভালো দাম পেয়ে খুশি চাষিরা। এর মধ্যে বাড়তি পাওনা হিসেবে যোগ হয়েছে ফিলিপাইনের ‘কালো জাতের’ আখের বাণিজ্যিক সফলতা।
নরসিংদী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার ছয়টি উপজেলায় ১৮১ হেক্টর জমিতে আখের আবাদ হয়েছে। এর সিংহভাগই চিবিয়ে খাওয়ার মিষ্টি আখ। শিবপুর উপজেলার পুটিয়া ইউনিয়নের সৈয়দনগর গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা মারুফ হাসান মুরাদ ফিলিপাইনের কালো জাতের আখ চাষ করে এলাকায় রীতিমতো চমক সৃষ্টি করেছেন।
সরেজমিনে সৈয়দনগর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সবুজে ঘেরা বিস্তীর্ণ আখের ক্ষেত। চার বছর আগে শখের বশে বাড়ির আঙিনায় ফিলিপাইনের একটি কালো আখের চারা রোপণ করেছিলেন মারুফ। সেই আখটি বেশ সুমিষ্ট, নরম ও রসালো হওয়ায় তিনি বাণিজ্যিকভাবে চাষের পরিকল্পনা করেন। বর্তমানে তিনি একজন সফল চাষি হিসেবে স্বাবলম্বী। মারুফ বলেন, 'দ্রুত বর্ধনশীল এই আখ চাষে তরুণদের উদ্বুদ্ধ করতে পারলে বেকারত্ব দূর হওয়ার পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি সম্ভব।' প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা থেকে উৎসুক মানুষ তার এই আখের ক্ষেত দেখতে আসছেন।
শিবপুরের কৃষক মোখলেস জানান, আখের একটি বিশেষ সুবিধা হলো–একবার কাটার পর গোড়া থেকে আবার নতুন চারা জন্মায়। আগা থেকেও নতুন চারা তৈরি করা যায়। বর্তমানে বাজারে প্রতিটি আখ মানভেদে ৬০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বিক্রেতারা ক্ষেত থেকেই আখ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
তবে সাফল্যের হাসির আড়ালে কৃষকদের কিছু ক্ষোভও রয়েছে। মনোহরদী উপজেলার গোতাশিয়া গ্রামের চাষি আফজাল অভিযোগ করেন, কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠে খুব একটা দেখা যায় না। সরকারি সার ও বীজের সুবিধা অনেক সময় প্রকৃত কৃষকের বদলে প্রভাবশালীদের হাতে চলে যায় বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আজিজল হক বলেন, 'এ অঞ্চলের মাটি আখ চাষের জন্য দারুণ উপযোগী। ফিলিপাইনের কালো আখে রোগবালাই কম হওয়ায় এটি চাষিদের জন্য লাভজনক। আমরা কৃষকদের প্রযুক্তিগত পরামর্শ দিয়ে আসছি।' মাঠে কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, বর্তমানে জেলায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার ৩৯টি পদ শূন্য রয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে কৃষকদের সেবাপ্রাপ্তির সমস্যা আর থাকবে না।

আপনার মতামত লিখুন