যে বাবা একসময় পরম মমতায় সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতেন, সেই বাবার পায়েই এখন লোহার শিকল। দুই বছর ধরে একটি অন্ধকার ঘরে শিকলবন্দী হয়ে আছেন কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার চর বজরা গ্রামের দিনমজুর মুকুল মিয়া (৩৮)। বাবার এই মানসিক অসুস্থতা ও অভাবের সংসারে সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে অনেক আগেই। এখন দুমুঠো ভাতের জন্য প্রতিদিন লড়াই করতে হচ্ছে পরিবারটিকে।
সরেজমিনে চর বজরা টারীপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, তিস্তা নদীর ভাঙনে ১০ বার ঘর হারানো এই পরিবারটি এখন ওয়াপদা বাঁধের নিচে কোনোমতে আশ্রয় নিয়েছে। জরাজীর্ণ টিনের চালের নিচে রোদ-বৃষ্টির সঙ্গে যুদ্ধ করে কাটছে তাদের দিন। মুকুল মিয়ার এক ছেলে ও দুই মেয়ে। একসময় দিনমজুরি করে সংসার চালাতেন মুকুল। কিন্তু দুই বছর আগে প্রচণ্ড জ্বর আর শারীরিক সমস্যার পর হঠাৎ করেই তার মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটে। অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা না হওয়ায় এখন তিনি পুরোপুরি ভারসাম্যহীন। অপরিচিত কাউকেই দেখলে কিংবা সন্তানদের কাছে পেলেই হিংস্র আচরণ করেন। পরিবারের নিরাপত্তা আর প্রতিবেশীদের ভয়ে বাধ্য হয়ে তার দুই পায়ে শিকল পরিয়ে রাখা হয়েছে।
মুকুলের স্ত্রী কহিনুর বেগম (৩৪) এখন সংসারের একমাত্র উপাজর্নক্ষম ব্যক্তি। অন্যের বাড়িতে বা খেতে কাজ করে যা পান, তা দিয়ে সন্তানদের মুখে ঠিকমতো অন্ন জোগান দেওয়া সম্ভব হয় না। কহিনুর বলেন, ‘আগে আমার স্বামী সুস্থ ছিল, আমরা ভালো ছিলাম। এখন তার চিকিৎসার সামর্থ্য নেই, এমনকি সন্তানদের ভাত দেওয়ারও পয়সা নেই। বড় মেয়েটা নবম শ্রেণিতে পড়ত, বেতন দিতে না পেরে ওর স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে।’
বাবার আদর থেকে বঞ্চিত ছোট মেয়ে চতুর্থ শ্রেণির মীম বলে, ‘বাবা আগে খুব আদর করত। এখন বাবা মারতে আসে। আমাদের জামাকাপড় নেই, ঠিকমতো খেতেও পারি না। আমরা চাই বাবা সুস্থ হোক।’
প্রতিবেশীরা জানান, মুকুল মিয়া মাঝে মাঝে এতটাই হিংস্র হয়ে ওঠেন যে আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন, এমনকি ঘরে আগুনও ধরিয়ে দেন। ছেলের আক্রমণে মা আকলিমার হাত পুড়ে গেছে, আঘাত পেয়েছেন আরও অনেকে। উন্নত চিকিৎসা পেলে মুকুল সুস্থ হতে পারেন বলে মনে করেন তার স্বজনেরা। কিন্তু যেখানে তিন বেলা খাবার জোটে না, সেখানে মানসিক রোগের ব্যয়বহুল চিকিৎসা তাদের কাছে এক দুঃস্বপ্ন।
এ বিষয়ে উলিপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান জানান, সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছেন। দ্রুতই একজন ইউনিয়ন সমাজকর্মীকে পাঠিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে পরিবারটিকে সরকারি সেবার আওতায় আনার চেষ্টা করবেন।

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
যে বাবা একসময় পরম মমতায় সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতেন, সেই বাবার পায়েই এখন লোহার শিকল। দুই বছর ধরে একটি অন্ধকার ঘরে শিকলবন্দী হয়ে আছেন কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার চর বজরা গ্রামের দিনমজুর মুকুল মিয়া (৩৮)। বাবার এই মানসিক অসুস্থতা ও অভাবের সংসারে সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে অনেক আগেই। এখন দুমুঠো ভাতের জন্য প্রতিদিন লড়াই করতে হচ্ছে পরিবারটিকে।
সরেজমিনে চর বজরা টারীপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, তিস্তা নদীর ভাঙনে ১০ বার ঘর হারানো এই পরিবারটি এখন ওয়াপদা বাঁধের নিচে কোনোমতে আশ্রয় নিয়েছে। জরাজীর্ণ টিনের চালের নিচে রোদ-বৃষ্টির সঙ্গে যুদ্ধ করে কাটছে তাদের দিন। মুকুল মিয়ার এক ছেলে ও দুই মেয়ে। একসময় দিনমজুরি করে সংসার চালাতেন মুকুল। কিন্তু দুই বছর আগে প্রচণ্ড জ্বর আর শারীরিক সমস্যার পর হঠাৎ করেই তার মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটে। অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা না হওয়ায় এখন তিনি পুরোপুরি ভারসাম্যহীন। অপরিচিত কাউকেই দেখলে কিংবা সন্তানদের কাছে পেলেই হিংস্র আচরণ করেন। পরিবারের নিরাপত্তা আর প্রতিবেশীদের ভয়ে বাধ্য হয়ে তার দুই পায়ে শিকল পরিয়ে রাখা হয়েছে।
মুকুলের স্ত্রী কহিনুর বেগম (৩৪) এখন সংসারের একমাত্র উপাজর্নক্ষম ব্যক্তি। অন্যের বাড়িতে বা খেতে কাজ করে যা পান, তা দিয়ে সন্তানদের মুখে ঠিকমতো অন্ন জোগান দেওয়া সম্ভব হয় না। কহিনুর বলেন, ‘আগে আমার স্বামী সুস্থ ছিল, আমরা ভালো ছিলাম। এখন তার চিকিৎসার সামর্থ্য নেই, এমনকি সন্তানদের ভাত দেওয়ারও পয়সা নেই। বড় মেয়েটা নবম শ্রেণিতে পড়ত, বেতন দিতে না পেরে ওর স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে।’
বাবার আদর থেকে বঞ্চিত ছোট মেয়ে চতুর্থ শ্রেণির মীম বলে, ‘বাবা আগে খুব আদর করত। এখন বাবা মারতে আসে। আমাদের জামাকাপড় নেই, ঠিকমতো খেতেও পারি না। আমরা চাই বাবা সুস্থ হোক।’
প্রতিবেশীরা জানান, মুকুল মিয়া মাঝে মাঝে এতটাই হিংস্র হয়ে ওঠেন যে আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন, এমনকি ঘরে আগুনও ধরিয়ে দেন। ছেলের আক্রমণে মা আকলিমার হাত পুড়ে গেছে, আঘাত পেয়েছেন আরও অনেকে। উন্নত চিকিৎসা পেলে মুকুল সুস্থ হতে পারেন বলে মনে করেন তার স্বজনেরা। কিন্তু যেখানে তিন বেলা খাবার জোটে না, সেখানে মানসিক রোগের ব্যয়বহুল চিকিৎসা তাদের কাছে এক দুঃস্বপ্ন।
এ বিষয়ে উলিপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান জানান, সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছেন। দ্রুতই একজন ইউনিয়ন সমাজকর্মীকে পাঠিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে পরিবারটিকে সরকারি সেবার আওতায় আনার চেষ্টা করবেন।

আপনার মতামত লিখুন