সংবাদ

১৫ সেপ্টেম্বরের পর বিদ্যুৎ-জ্বালানি পরিস্থিতিতে উন্নতির আশা


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৫ পিএম

১৫ সেপ্টেম্বরের পর বিদ্যুৎ-জ্বালানি পরিস্থিতিতে উন্নতির আশা

বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে দেশবাসীর পোহানো চরম কষ্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের পর দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই আশার কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির কারণে মানুষের যে কষ্ট হচ্ছে, এই কষ্টের কারণে আমরা সমব্যথী। সে কারণে সরকারের পক্ষ থেকে আমরা তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। কিন্তু আমি অত্যন্ত আশাবাদী যে, ইনশা আল্লাহ আমরা এই মাসের আর কিছুদিন পরই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির একটা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আমরা লক্ষ্য করবো বলে আশা করছি।’

এফএসআরইউ বা ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের জটিলতা তুলে ধরে তিনি জানান, দুটি এফএসআরইউর মধ্যে একটি গত ২১ জুলাই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সেটি ১৫ আগস্ট ঠিক হয়ে যাওয়ার পরও সরবরাহ ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক করা যায়নি, কারণ আমদানিকৃত কার্গোগুলো রিসিডিউল করতে হয়েছিল।

তবে এখন পর্যন্ত ৮৮ শতাংশ সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং বাকি ১২ শতাংশ খুব দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণের কারণে বন্ধ রয়েছে এবং রামপালের একটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চলছে না। বঙ্গোপসাগর অশান্ত থাকায় লাইটারেজ জাহাজ দিয়ে কয়লা মোংলা বন্দরে আনতে না পারার কারণে এই সমস্যা হচ্ছে। আবহাওয়া ভালো হলে এবং পায়রা ও রামপাল পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরলে বিদ্যুৎ খাতের পাশাপাশি শিল্পপতি ও গৃহস্থালির গ্রাহকদের ভোগান্তিও কমবে।

আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ বিষয়ে তিনি জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অতিবৃষ্টির কারণে তাদের কয়লা সংকটে সরবরাহ কিছুটা কমে গেছে। স্বাভাবিক সময়ে ১৫০০ থেকে ১৬০০ মেগাওয়াট পাওয়া গেলেও বর্তমানে দিনে ৯০০ এবং সন্ধ্যায় ১১০০ মেগাওয়াট পাওয়া যাচ্ছে। এ বিষয়ে আদানির সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে।

দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির সরবরাহকারীরা ‘ফোর্স মেজার’ ঘোষণা করায় বাধ্য হয়ে চড়া দামে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, মানুষের কষ্ট লাঘব এবং শিল্পকারখানার সচলতা বজায় রাখতে সরকার উচ্চমূল্য দিয়ে হলেও এই ঝুঁকি নিচ্ছে, যাতে সংকট প্রলম্বিত না হয়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


১৫ সেপ্টেম্বরের পর বিদ্যুৎ-জ্বালানি পরিস্থিতিতে উন্নতির আশা

প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে দেশবাসীর পোহানো চরম কষ্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের পর দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই আশার কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির কারণে মানুষের যে কষ্ট হচ্ছে, এই কষ্টের কারণে আমরা সমব্যথী। সে কারণে সরকারের পক্ষ থেকে আমরা তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। কিন্তু আমি অত্যন্ত আশাবাদী যে, ইনশা আল্লাহ আমরা এই মাসের আর কিছুদিন পরই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির একটা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আমরা লক্ষ্য করবো বলে আশা করছি।’

এফএসআরইউ বা ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের জটিলতা তুলে ধরে তিনি জানান, দুটি এফএসআরইউর মধ্যে একটি গত ২১ জুলাই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সেটি ১৫ আগস্ট ঠিক হয়ে যাওয়ার পরও সরবরাহ ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক করা যায়নি, কারণ আমদানিকৃত কার্গোগুলো রিসিডিউল করতে হয়েছিল।

তবে এখন পর্যন্ত ৮৮ শতাংশ সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং বাকি ১২ শতাংশ খুব দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণের কারণে বন্ধ রয়েছে এবং রামপালের একটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চলছে না। বঙ্গোপসাগর অশান্ত থাকায় লাইটারেজ জাহাজ দিয়ে কয়লা মোংলা বন্দরে আনতে না পারার কারণে এই সমস্যা হচ্ছে। আবহাওয়া ভালো হলে এবং পায়রা ও রামপাল পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরলে বিদ্যুৎ খাতের পাশাপাশি শিল্পপতি ও গৃহস্থালির গ্রাহকদের ভোগান্তিও কমবে।

আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ বিষয়ে তিনি জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অতিবৃষ্টির কারণে তাদের কয়লা সংকটে সরবরাহ কিছুটা কমে গেছে। স্বাভাবিক সময়ে ১৫০০ থেকে ১৬০০ মেগাওয়াট পাওয়া গেলেও বর্তমানে দিনে ৯০০ এবং সন্ধ্যায় ১১০০ মেগাওয়াট পাওয়া যাচ্ছে। এ বিষয়ে আদানির সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে।

দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির সরবরাহকারীরা ‘ফোর্স মেজার’ ঘোষণা করায় বাধ্য হয়ে চড়া দামে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, মানুষের কষ্ট লাঘব এবং শিল্পকারখানার সচলতা বজায় রাখতে সরকার উচ্চমূল্য দিয়ে হলেও এই ঝুঁকি নিচ্ছে, যাতে সংকট প্রলম্বিত না হয়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত