সংবাদ

ফ্লাই দুবাইয়ের সিটের নিচে ২০ কোটি টাকার ৮০ সোনার বার


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম

ফ্লাই দুবাইয়ের সিটের নিচে ২০ কোটি টাকার ৮০ সোনার বার

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাই দুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের আসনের নিচ থেকে প্রায় ৯ কেজি ৩৩৩ গ্রাম ওজনের ৮০টি সোনার বার জব্দ করেছে কাস্টমস হাউস।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে এই ‘চাঞ্চল্যকর তথ্য’ নিশ্চিত করেছে। উদ্ধার করা এসব সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।

এনবিআরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে কাস্টমস কর্মকর্তারা জানতে পারেন যে, সেদিন রাত ৯টা ২০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করা ফ্লাই দুবাইয়ের এফজেড-৫২৩ ফ্লাইটটিতে অবৈধ সোনা চোরাচালান করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা কাস্টম হাউসের নিবেদিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বিমানটিতে বিশেষ তল্লাশি অভিযান পরিচালনার উদ্দেশ্যে বোর্ডিং ব্রিজে উপস্থিত হন।

অভিযানের শুরুতে উড়োজাহাজটিকে সম্পূর্ণ যাত্রীবিহীন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরবর্তীতে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে বিমানটির ভেতরে প্রবেশ করে নিবিড় তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে উড়োজাহাজের একটি বিশেষ আসনের নিচে অত্যন্ত সুকৌশলে কালো স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় বেশ কয়েকটি সন্দেহজনক প্যাকেট দেখতে পান কর্মকর্তারা।

উদ্ধার প্যাকেটগুলো পরবর্তীতে কাস্টমস হলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে উপস্থিত বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধির উপস্থিতিতে পূর্ণাঙ্গ ইনভেন্টরি করা হয়। ইনভেন্টরি শেষে সেখান থেকে মোট ৮০টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়।

প্রতিটি সোনার বারের ওজন ১১৬.৬৪ গ্রাম হিসেবে মোট সোনার ওজন দাঁড়ায় ৯ হাজার ৩৩১ গ্রাম বা প্রায় ৯.৩৩ কেজি। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারণা, সরকারি নির্ধারিত সকল শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত চতুরতার সাথে এই সোনাগুলো প্লেনের ভেতরে আনা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে বিমানবন্দরের কঠোর নিরাপত্তা সীমানা পেরিয়ে তা বাইরে পাচারের পরিকল্পনা ছিল।

মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া এই বিপুল পরিমাণ মূল্যবান সোনার বারগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দর কাস্টমসের সুরক্ষিত মূল্যবান গুদামে নিরাপদে জমা রাখা হয়েছে। প্রচলিত আইন ও স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী মূল্যবান ধাতু হিসেবে এই সোনার বারগুলো পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে জমাদানের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। এই ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিমানবন্দর থানায় একটি নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ফ্লাই দুবাইয়ের সিটের নিচে ২০ কোটি টাকার ৮০ সোনার বার

প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাই দুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের আসনের নিচ থেকে প্রায় ৯ কেজি ৩৩৩ গ্রাম ওজনের ৮০টি সোনার বার জব্দ করেছে কাস্টমস হাউস।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে এই ‘চাঞ্চল্যকর তথ্য’ নিশ্চিত করেছে। উদ্ধার করা এসব সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।

এনবিআরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে কাস্টমস কর্মকর্তারা জানতে পারেন যে, সেদিন রাত ৯টা ২০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করা ফ্লাই দুবাইয়ের এফজেড-৫২৩ ফ্লাইটটিতে অবৈধ সোনা চোরাচালান করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা কাস্টম হাউসের নিবেদিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বিমানটিতে বিশেষ তল্লাশি অভিযান পরিচালনার উদ্দেশ্যে বোর্ডিং ব্রিজে উপস্থিত হন।

অভিযানের শুরুতে উড়োজাহাজটিকে সম্পূর্ণ যাত্রীবিহীন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরবর্তীতে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে বিমানটির ভেতরে প্রবেশ করে নিবিড় তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে উড়োজাহাজের একটি বিশেষ আসনের নিচে অত্যন্ত সুকৌশলে কালো স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় বেশ কয়েকটি সন্দেহজনক প্যাকেট দেখতে পান কর্মকর্তারা।

উদ্ধার প্যাকেটগুলো পরবর্তীতে কাস্টমস হলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে উপস্থিত বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধির উপস্থিতিতে পূর্ণাঙ্গ ইনভেন্টরি করা হয়। ইনভেন্টরি শেষে সেখান থেকে মোট ৮০টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়।

প্রতিটি সোনার বারের ওজন ১১৬.৬৪ গ্রাম হিসেবে মোট সোনার ওজন দাঁড়ায় ৯ হাজার ৩৩১ গ্রাম বা প্রায় ৯.৩৩ কেজি। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারণা, সরকারি নির্ধারিত সকল শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত চতুরতার সাথে এই সোনাগুলো প্লেনের ভেতরে আনা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে বিমানবন্দরের কঠোর নিরাপত্তা সীমানা পেরিয়ে তা বাইরে পাচারের পরিকল্পনা ছিল।

মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া এই বিপুল পরিমাণ মূল্যবান সোনার বারগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দর কাস্টমসের সুরক্ষিত মূল্যবান গুদামে নিরাপদে জমা রাখা হয়েছে। প্রচলিত আইন ও স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী মূল্যবান ধাতু হিসেবে এই সোনার বারগুলো পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে জমাদানের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। এই ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিমানবন্দর থানায় একটি নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত